ব্রেকিং:
Home » জাতীয় » অপেক্ষায় থেকেও নোবেল কমিটির ফোন পেলেন না শেখ হাসিনা

অপেক্ষায় থেকেও নোবেল কমিটির ফোন পেলেন না শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ইনসাইডার নামক নিউজ পোর্টালের সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীরের পরামর্শে লন্ডন সময় আজ সকাল ৮টা থেকেই ফোনের পাশে বসেছিলেন শেখ হাসিনা। দলীয় এবং পারিবারিক কাজে যুক্তরাজ্যে তার সংক্ষিপ্ত সফরের শেষ দিনটিতে অনেকগুলো কাজ করার কথা ছিল। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিদ্যমান কোন্দল মিটমাট করা, লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরের সাথে দলীয় সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর কোন্দল মিটমাট করা ছাড়াও বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকির নির্বাচনী খরচ হিসেবে প্রদত্ত টাকার উদ্বৃতাংশ সুইস ব্যাংকে প্রেরণের মত গুরুত্বপূর্ন কাজ ফেলে রেখে এভাবে ২ ঘন্টা ফোনের পাশে ঠায় বসে থাকার পরও নোবেল কমিটির কাছ থেকে কোন ফোন না পেয়ে এবং কে ২০১৭ সালের নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে জানতে পেরে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শেখ হাসিনা।

ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফোন করে তার ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ‘জ’ অদ্যাক্ষরের একজন নিকটাত্মীয় ও শীর্ষ দলীয় নেতাকে ফোন করে নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্তিতে লবিং করার জন্য বোরহান কবীরকে দেয়া সমূদয় অর্থ ফেরত নিয়ে তাকে জুতাপেটা করার জন্য চিৎকার করতে থাকেন। এই সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “ও আমার টাকা মেরেছে সেটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু সকাল থেকে ফোনের পাশে বসে থেকে সময় নষ্ট করার কারণে যে গুরুত্বপূর্ন কাজগুলো করতে পারলাম না এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে?”

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং গওহর রিজভি শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন সংস্থ্যার মাধ্যমে লবিং করে ব্যর্থ হবার পর এই বছর সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বোরহান কবীরের চাহিদা অনুযায়ী তাকে মোটা অংকের বৈদেশিক মূদ্রাও সরবরাহ করা হয়েছিল। চতুর বোরহান কবীর সেই টাকার সামান্য অংশ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অখ্যাত ব্যক্তিকে দিয়ে শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরষ্কার প্রদানের জন্য একটি বিবৃতি প্রচারের ব্যবস্থা করে তার কাজ শুরু করেছিলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবর মিয়ানমার এবং অং সাং সুচি’র পলিসির সমর্থক শেখ হাসিনা সৈয়দ বোরহান কবীরের পরামর্শেই বিএনপি’র দাবী মেনে নিয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাঁধা না দেবার জন্য বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দেবার আগে রোহিঙ্গা শরনার্থী ইস্যুটিকে পুঁজি করে সৈয়দ বোরহান কবীর শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে ব্রান্ডিং করতে শুরু করেন এবং ব্রান্ডিং এর খরচের জন্যও মোটা অংকের টাকা আদায় করে নেন।

কিন্তু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ সমাদৃত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনার দ্বিচারিতা ও অপকৌশল এবং তার দুর্বল নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার সরকারের গ্রহনযোগ্যতার অভাব ও তার দ্বারা সঘঠিত নিজ দেশের নাগরিকদের গুম-খুনের ঘটনার কারণে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নেতৃত্ব বিশ্ব দরবারে ছিলো উপেক্ষিত। যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে একদিকে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের কাছে অপমানিত হয়েছেন অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি পড়ে অপমানিত হয়েছেন।

বিষয়টি সামাল দেবার জন্য সৈয়দ বোরহান কবীর বিভিন্ন কাল্পনিক উৎসের বরাত দিয়ে তার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ ইনসাইডারের পাশাপাশি তার অধীনস্থ সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান, তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং নঈম নিজামদের দিয়ে তাদের নিউজ পোর্টালগুলিতে প্রচার করতে থাকেন যে শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেবার জন্য শর্ট লিস্টে রাখা হয়েছে!

নোবেল পুরষ্কার পাইয়ে দেবার জন্য নেয়া টাকা হালাল করার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে সৈয়দ বোরহান কবীর গতকাল রাতে শেখ হাসিনাকে ফোন করে জানান, নোবেল কমিটির সচিব অধ্যাপক ওলাভ নিজোলস্টে ফোন করে শেখ হাসিনার ফোন নম্বর জানতে চেয়েছেন এবং আজ নরওয়ের সময় সকাল ১১টায় (লন্ডন সময় সকাল ১০টা) শেখ হাসিনাকে ফোনের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।

বোরহান কবীরের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে লন্ডন সফরের শেষ দিনটিতে আজ সকাল ৮টা থেকেই শেখ হাসিনা তার সকল কাজ ফেলে রেখে ফোনের পাশে বসে ছিলেন। শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছিল, নোবেল কমিটির চেয়ার বেরিট রেসিস অ্যান্ডারসন ফোন করে তাকে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানিয়ে শান্তিতে নোবেল বিজয়ের সুসংবাদটি দেবেন।

এই আশ্বাস পেয়ে শেখ হাসিনা তার তিনটি এপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেন। এগুলো ছিল যথাক্রমে- দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিদ্যমান কোন্দল মিটমাট করা, লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরের সাথে দলীয় সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর কোন্দল মিটমাট করা এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া টিউলিপ সিদ্দিকির নির্বাচনী খরচ হিসেবে প্রদত্ত টাকার উদ্বৃতাংশ ফেরত নিয়ে সুইস ব্যাংকে প্রেরণের ব্যবস্থা করা।

বোরহান কবীরের ভূয়া খবরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ভ্রমণের শেষদিনের গুরুত্বপূর্ন কাজগুলো না করতে পারার কারণেই প্রচণ্ড ক্ষেপে যান শেখ হাসিনা এবং বারবার বোরহান কবীরকে জুতাপেটা করার জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেখ হাসিনার একজন সফরসঙ্গী জানান শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাইয়ে দেবার কথা বলে ইতিপূর্বে আরো কয়েকজনের ব্যর্থতার পর এবার যোগ হলো সৈয়দ বোরহান কবীরের নাম। কিন্তু এর আগের ব্যর্থ ব্যাক্তিরা এভাবে শর্টলিস্টে রাখার কথা বলে কিংবা নোবেল কমিটির ফোন করার কথা বলে চরম প্রতারণা করেননি। সৈয়দ বোরহান কবীর এভাবে প্রতারণা করার কারণেই শেখ হাসিনা তার উপর এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

রম্যরচনা
dailybdtimes

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close