ব্রেকিং:
Home » ফেইসবুক থেকে » আওয়ামী লীগ মরলে লাখ টাকা, বাঁচলে কোটি টাকা: জাহিদ এফ সরদার সাদী

আওয়ামী লীগ মরলে লাখ টাকা, বাঁচলে কোটি টাকা: জাহিদ এফ সরদার সাদী

জাহিদ এফ সরদার সাদী, সময় বাংলা: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রতাপশালী নেতা মহিউদ্দীন চৌধুরীর কুলখানিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। জানা যায়, মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।

এর মধ্যে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ অমুসলিম নেতা-কর্মীদের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে দুপুর ১টার পর প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। একপর্যায়ে হুড়োহুড়ি কেন্দ্র করে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। সেই সাথে এতবড় আয়োজনের পেছনে যাদের হাত সেই সকল দায়িত্বহীনতা প্রদর্শনকারীদের অব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। কারণ, এত বিশাল আয়োজন করার কোন মূল্যই থাকে না, যদি তার নিয়ন্ত্রন আয়োজকদের হাতে না থাকে। মানুষের জীবন নিয়ে যেখানে প্রশ্ন, সেখানে নাম কামানোর এই প্রচেষ্টা সত্যিই দুঃখজনক।

আমি কথা বলতে চাই ভিন্ন প্রসঙ্গে। এই মহা কুলখানিকান্ডের প্রায় সাথে সাথেই সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা এসেছে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার প্রতি এক লাখ করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ক্ষতিপূরণের এ ঘোষণায় দুটি কারণে কিঞ্চিত অবাক হয়েছি।

প্রথমতঃ ব্যক্তি মহিউদ্দীন চৌধুরীর কুলখানিতে এসে নিহতদের ক্ষতিপূরণ সরকার কেন দিবে? এ কুলখানির আয়োজন যারা করেছেন তারা যদি উপস্থিতির সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে এর দায় কি সরকার বা রাষ্ট্রের? তাছাড়া প্রায় দেড় লক্ষ লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা যারা করতে পেরেছেন তাদের কি এই ১০টি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান বা সহায়তা দেয়ার সামর্থ নেই? অবশ্যই আছে। এবং এটি তাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

দ্বিতীয়তঃ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব সরকারেরও রয়েছে। কারণ, নিহতরা এ রাষ্ট্রেরই জনগণ। তাই বলে ক্ষতিপূরণ প্রতি পরিবারের জন্য ১ লাখ টাকা! বলতে পারেন এতে আপত্তির কি আছে? হ্যাঁ, আপত্তি আছে। ঘোর আপত্তি আছে। আর এ আপত্তির কারণ বর্ণনায় আপনাদের সামনে ক্ষতিপূরণের একটি সংক্ষিপ্ত খতিয়ান তুলে ধরতে চাই।

২৪ এপ্রিল ২০১৩, সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা জেলা প্রশাসন।

০৪ আগস্ট ২০১৪, মাওয়ায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় প্রত্যেক নিহতের জন্য তাদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

০৯ এপ্রিল ২০১৫, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫ জনের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা সাহায্য প্রদান করা হবে বলে জানায় জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী।

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, গাজীপুর জেলার টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় ট্যাম্পাকো পুটিং লিমিটেডে বয়লার বিস্ফোরণে ভয়াবহ আগুনে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত পাঁচজনের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের ১০ হাজার টাকা অনুদান দেয় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন।

১৪ জুন, ২০১৭, ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ত্রিশ কেজি করে চাল প্রদান করে জেলা প্রশাসন।

১৪ জুন, ২০১৭, কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে নিহত ১৮ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

সরকারী অনুদান ও সহায়তার খতিয়ান লিখতে শুরু করলে আরও অনেক দীর্ঘ ফিরিস্তি লেখা সম্ভব। কিন্তু এখানে সে ফিরিস্তি লেখা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের কুলখানিকান্ডে নিহতদের পরিবারকেই কেন এই ইতিহাস সৃষ্টি করা সহায়তা? নিহতরা আওয়ামী সমর্থক কিংবা নেতা-কর্মী বলে? নাকি আওয়ামী নেতার কুলখানিতে নিহত হয়েছেন বলে? যদি তাই হয় তবে এ ক্ষতিপূরণ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন দেয়া হলো না? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেন আওয়ামী নেতা-কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে?

এতগুলো প্রশ্নের একটাই জবাব। আওয়ামী লীগ মরলে লাখ টাকা, আর বাঁচলে কোটি টাকা। বেঁচে থাকতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি, নিয়োগ বাণিজ্য, মাদকব্যবসা, চোরাচালান, মানবপাচারসহ আরও অসংখ্য নাম না জানা উপায়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পায় আওয়ামী নেতা-কর্মীরা। আর এসব করতে গিয়ে পটল তুললে অন্তত লাখ টাকার সরকারি অনুদান তো আছেই। জনগণের অর্থ লোপাট করতে সম্ভবতঃ একটা পৈশাচিক আনন্দ আছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদাশিক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী’র ফেইসবুক পেজ থেকে নেয়া। সূত্র:সময় বাংলা 

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close