ব্রেকিং:
Home » অন্যান্য » আদম আঃ কে যে পাহাড়ে নামানো হয়েছিল দেখুন ভিডিও

আদম আঃ কে যে পাহাড়ে নামানো হয়েছিল দেখুন ভিডিও

আদম(আঃ) জান্নাত থেকে পতিত হয়েছিলেন কোথায়???

**[এটি একটি বিতকিত আলোচনা; তাই দয়া করে পুরো লেখাটি পড়বেন। পুরো লেখাটি পড়লে বুঝতে ও মতামত দিতে পারবেন ইনশ’আললাহ]**

আদমের(আঃ) দুনিয়াতে অবতরন নিয়ে আমরা যে যত রকম মত পোষন করিনা কেন আসলে এই বিষয়ে কুর
আন কিংবা সহিহ হাদিসে কিছুই বলা হয়নি। তাই সংগত কারনেই আমাদের এই বিষয়ে চুপ/নিরব থাকা ভাল। আসুন আমরা দেখি প্রকৃত ঘটনা কি???

আদম(আঃ) জান্নাত থেকে পতিত হয়েছিলেন কোথায়???

হযরত আবদুললাহ ইবনে আববাস(রাঃ) থেকে সহিহ সনদে ইমাম আহমাদ, নাসাঈ ও হাকেম (রহঃ) বণনা করেন যে, আমি কি তোমাদের প্রভু নই? বনু আদমের কাছ থেকে এই বহুল প্রশিদধ ‘আহদে আলাসতু’ বা প্রতিগগ্যা-প্রতিশ্রুতিটি তখনই নেওয়া হয়, যখন আদম (আঃ)-কে জান্নাত থেকে পৃথিবিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। আর এ প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল না’মান নামক উপত্যকায়, যা পরবতিকালে ‘আরাফাত’- এর ময়দান নামে পরিচিত হয়েছে।
*** আহমাদ, মিশকাতঃ হা/১২১; ‘ঈমান’ অধ্যায় ‘তাকদিরে বিশৃাস’ অনুচছেদ।
এর দারা একটি বিষয় প্রমানিত হয় যে, জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থান পৃথিবির বাইরে অন্যএ এবং তা সৃষট অবস্থায় তখনও ছিল এবং এখনও আছে।

আদমের অবতরনস্থলঃ

আদম ও হাওয়াকে আসমানে অবসথিত জাননাত থেকে নামিয়ে দুনিয়ায় কোথায় রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন বলা হয়েছে আদমকে সরনদিপে(শ্রীলঙ্কা) ও হাওয়াকে জেদদায়(সৌদি আরব) এবং ইবলিশকে বছরায়(ইরাক) ও ইবলিশের জাননাতে ঢোকার কথিত বাহন সাপকে ইসফাহানে(ইরান) নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন, আদমকে মককার ছাফা পাহাড়ে ও হাওয়াকে মারওয়া পাহাড়ে নামানো হয়েছিল। এছাড়া আরও বকতব্য এসেছে। তবে যেহেতু কুরআন ও সহিহ হাদিসে এ বিষয়ে পরিষকার ভাবে কিছুই বলা হয়নি, সে কারনে এই বিষয়ে আমাদের চুপ থাকাই উততম।

***সৌজন্যে: নবিদের কাহিনি।

আমি এই পোসটটি কেন দিলাম???

বিষয়টি নিয়ে একটি পোসট এসেছিল আমার ওয়ালে। লেখক/পোসটদাতা হলেনঃ “ইসলামের আলোতে আলোকিত হোন”। পোসটের ঘটনা এই রকম লিখেছেনঃ “লাখ লাখ বছর ধরে যে চূড়াটি মানুষের কাছে রহস্যময়তার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে তার নাম অ্যাডাম পিক্ (Adam peak) বা আদম চূড়া। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাডা নামক প্রদেশে এই চূড়াটি অবস্থিত । হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে সরাসরি এই চূড়ায় পতিত হয়েছিলেন বিধায় এই চূড়াটিকে বলা হয় আদম চূড়া বা অ্যাডাম পিক্।
খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র এই চূড়াটি (পাহাড়টি)। চূড়াটির চারদিকে সবুজের বিপুল সমারোহ, মাঝেমধ্যে পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা। পাহাড়ি চূড়ার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছো্ট নদী ও পাহাড়ি ঝরনা। সব মিলে এক মায়াবী নয়নাভিরাম দৃশ্য।

হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে পতিত হন শ্রীলঙ্কায়, আর আদি মাতা হজরত হওয়া (আ.) পতিত হন জেরুজালেমে।
শ্রীলঙ্কা থেকে জেরুজালেমের দূরত্ব কয়েকশ হাজার বর্গ কি.মি.। মহান প্রভুর কাছে অনেক অনুতাপের পর উভয়ে মিলিত হন মধ্যপ্রাচ্যে। এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। চূড়াটিতে আদম (আ.) এর পায়ের যে চিহ্ন রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ হল ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। আবিষ্কৃত হওয়ার পরে পদচিহ্নের চতুর্দিকে ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক পরিভ্রমণ করেছে চূড়াটিতে। আসুন সবাই ইসলামের আলোতে আলোকিত হই”।

লেখক(ইসলামের আলোতে আলোকিত হোন) মোটামুটি নিঃশচিত হয়েই লিখেছেন যে, আদম(আঃ) এর জাননাত থেকে বেড়িয়ে দুনিয়াতে অবতরনস্থল হলঃ “শ্রীলঙ্কা”। লেখক পোসটের সাথে একটি পাহাড়ের ছবি সংযুকত করেছেন; এবং ঐ ছবিটি সংগত কারনে আমিও আমার এই পোসটের সাথে সংযুকত করলাম।

আসলে আমরা কুরআন ও সহিহ হাদিস মোতাবেক প্রকৃত ঘটনা কিছুই জানিনা। যা জেনেছি বা শিখেছি তা কতটুকু বিশৃাসযোগ্য?? আমরা নিজাম উদদিন আউলিয়ার ঘটনার মত অনেক কিছুই ভুল জেনেছি। অথচ, আমাদের এই উপমহাদেশে নিজাম উদদিন নামে কোন আউলিয়াই ছিল না। নিজাম উদদিন আউলিয়ার ঘটনার অনুরুপ একটি ঘটনা(বনি ইসরাইলদের সময়কার) সহিহ হাদিসে বণিত হয়েছে(বুখারিঃ ৩৪৭০); আমাদের দেশের লেখক সমাজ ও আলেম নামের লেখকগন নিজাম উদদিনের নামে মিথ্যাকাহিনি লিখে মুসলমানদের ইমানহারা করেছেন- যা ইসলামের দৃষটিতে খুবই জঘন্যতম।
অনুরুপ, অএ পোসটের লেখক ঘটনাটি লিখতে গিয়ে অতিরনজন করেছেন। লেখক(ইসলামের আলোতে আলোকিত হোন) ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে আবেগ প্রবন হয়ে বিষয়টির সত্যতা যাচাই না করে উপসথাপন করেছেন।

আমাদের মনে রাখা উচিত যে, ইসলাম আললাহ’র দেওয়া পুণাংগ জিবন বিধান। তাই কুরআন ও সহিহ হাদিস বিরোধি কোন কিছু পরিবেশন না করাই উততম।
আদম(আঃ) এর দুনিয়াতে আগমনের সময়কাল কি লাখ-লাখ বছর??? কিংবা লাখ লাখ বছর আগে কি আদম(আঃ) কে আললাহ দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন?
আদমের অবতরনস্থল কোথায় এই বিষয়ে যদি আপনাদের কারও কাছে কুরআন ও সহিহ হাদিস অনুসারে সঠিক তথ্য থাকে তাহলে দয়া করে এখানে উপস্থাপন করলে আমরা উপকৃত হব। আললাহ আমাদের মাফ করুন ও সঠিক বিষয় জানার তৌফিক দান করুন। আমিন।
*নোটিশঃ বাংলা ফনট সমস্যার কারনে আমার লেখায় বানান ভুলের জন্য দুঃখিত।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close