ব্রেকিং:
Warning: mysql_query(): Unable to save result set in /home/dnn/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 1889
Home » জাতীয় » আমিন জুয়েলার্সের দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার

আমিন জুয়েলার্সের দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার

ঢাকা : রাজশাহীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপ-কমিশনার তাহমিনা আক্তার পলির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আমিন জুয়েলার্সের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন মনির হোসেন (২৯) ও বিমান কুমার ভদ্র (৩৮)। মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের আমিন জুয়েলার্স ২ নম্বর শাখা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পল্টন থানা পুলিশ।

পরে তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমিন জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রাহক আমাদের যে শো-রুমে এসেছেন সেখানে কোনো পয়েন্ট অব সেল মেশিন (কার্ড পাঞ্চে বিল পরিশোধ করার মেশিন) ছিল না। তাই আমাদের বায়তুল মোকাররমে আমাদের আরেক শাখায় কার্ড পাঞ্চ করতে যায়। সেখানে কার্ডটি কাজ করেনি। কার্ডটি তাকে ফেরত দেয়া হয়। কিন্তু ওই ভদ্র মহিলা কিছুক্ষণ পর এসে অভিযোগ করেন যে তার কার্ড থেকে আমরা টাকা কেটে নিয়েছি। আমরা ৫০ হাজার টাকা চুরি করতে যাবো কেন। পুলিশ এবং আমাদের নিজস্ব কর্মচারীরা ব্যাংকে গিয়েছে। তদন্ত চলছে। আমি নিশ্চিত আমাদের পক্ষ থেকে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি, টেকনিক্যাল ফল্ট (কারিগরি ত্রুটি) থাকতে পারে।

পল্টন থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, রাজশাহীর কাস্টমস কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার পলি (৩১) সোমবার দাফতরিক কাজে ঢাকায় আসেন। কাজ শেষে দুপুরে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে অবস্থিত আমিন জুয়েলার্সের ২ নম্বর শাখায় স্বর্ণের গহনা কিনতে যান। ৩১ হাজার টাকা মূল্যের একটি গহনা পছন্দ হয় পলির। তিনি তার ডাচ বাংলা ব্যাংক ন্যাক্সাস কার্ডের মাধ্যমে এর বিল দিতে চান।

তখন বিমান কুমার ভদ্র ওই কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানান, তাদের এখানেই ওই কার্ড ক্যাশ ইন করা হবে। পরে মনির বিমানের হাতে পলির নেক্সাস কার্ডটি দিতে বলেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মনিরের কথায় কার্ডটি বিমানের হাতে দেন পলি। তখন বিমান বলেন, ‘পাশেই আমাদের আরেকটি শো’রুম আছে। আপনার কার্ডটি সেখানে নিয়ে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পর মনির সেখান থেকে ফিরে এসে জানান, ক্যাশ ইন করার জন্যে আপনার ন্যাক্সাস কার্ডের পাসওয়ার্ড প্রয়োজন।’

পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্যে কাস্টমস কর্মকর্তা পলি আমিন জুয়েলার্সের পাশের শো’রুমে যান। সেখানে তার কার্ডটি পাঞ্চ করার সময় সবার সামনেই তিনি পাসওয়ার্ড টাইট করেন। কিন্তু কার্ডের মাধ্যমে টাকা ক্যাশ ইন হয়নি। পরে মনির এবং বিমান ওই নারী কাস্টমস কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আপনি পল্টনে গিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসেন।’

কাস্টমস কর্মকর্তা পলি টাকা তুলতে কার্ডটি নিয়ে পল্টনে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথে যান। কার্ডটি বুথে প্রবেশ করালে তা ভেতরে আটকে যায়। পরে দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটি ২ সেকেন্ড থেকে ১টা ৩৮ মিনিটি ১১ সেকেন্ডের মধ্যে তিন দফায় পলির কার্ডের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা তোলা হয় বলে মোবাইল এসএমএসের মধ্যেমে তিনি জানাতে পারেন। এরপর ঐ কর্মকর্তা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি প্রতারণা মামলা করেন। এই মামলায় গতকাল দুপুরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close