Home » এক্সক্লুসিভ » আর ১ পয়েন্ট যোগ হলেই ‘নিষিদ্ধ’ হবেন সাকিব

আর ১ পয়েন্ট যোগ হলেই ‘নিষিদ্ধ’ হবেন সাকিব

ঘটনাটি কাল ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ম্যাচ চলাকালীন সময়ের। কুমিল্লার ইনিংসের নবম ওভারের খেলা চলছিল। বল করছিলেন সাকিব আল হাসান। পঞ্চম বলে ইমরুল কায়েসের বিপক্ষে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার র‌্যানমোর মাতিংনোজ তাতে সাড়া দেননি। আর তাতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ঢাকার অধিনায়ক। দৃষ্টিকটু আচরণ করেন আম্পায়ারের সাথে।
সেই ঘটনার জন্য এখন শাস্তি পেতে হচ্ছে সাকিবকে। গুনতে হচ্ছে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ। আর নামের পাশে যোগ হয়েছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। আর একটি পয়েন্ট যোগ হলেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন সাকিব।
এর আগে একই শাস্তি পেয়েছেন কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও লিটন দাস এবং সিলেট সিক্সার্সের সাব্বির রহমান। তাদের নামের পাশেও যোগ হয়েছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
এছাড়া শাস্তি পেয়েছেন কুমিল্লার দুর্ধর্ষ পেসার হাসান আলিও। কাল মিরপুর কাঁপিয়ে ছিলেন পাকিস্তানি এই পেসার। কিন্তু ঢাকার মোসাদ্দেক হোসেনকে আউট করে যেভাবে ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়েছেন, তা আপত্তিকর মনে হয়েছে আম্পায়ারদের। তার নামের পাশে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ না হলেও ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার ম্যাচ শেষে সাকিব-হাসান দু’জনই ম্যাচ রেফারি সামিউর রহমানের কাছে দায় স্বীকার করায় শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
এমনটা কল্পনাও করেননি তামিম!
নার্ভাসই ছিলেন তামিম! ঢাকার মতো একটা শক্তিশালী দলকে মাত্র ১২৮ রানে অল আউট করে দেয়া যাবে এটা তিনি কল্পনাও করেননি। ম্যাচ শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক বলেন, ‘ঢাকার ইনিংস যখন শেষ হলো ১২৮-এ, তখন আমি নার্ভাস হয়ে পড়ি। কারণ ঢাকার মতো একটা দলের ব্যাটিং লাইন মাত্র ওই স্কোরে অল আউট। তাহলে এ ম্যাচের ভাগ্যে না জানি কী রয়েছে।’ তিনি বলেন, এটা তো ঠিক, লো’স্কোরিং ম্যাচে অনেক সমস্যা হয়। তবে আমরা খুবই সতর্কতার সাথে ব্যাটিং করে গিয়েছি। যাতে ওই টার্গেটে পৌঁছতে সমস্যা হয়নি।
তামিম বলেন, ‘আসলে এ ধরনের ম্যাচে কোনো কিছুই আগাম বলা যাবে না। স্বাভাবিক প্রতিপক্ষ ১২০-১৩০ করলেও যে জয় পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘তবু আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়েছি।’
দলের বোলারদের প্রশংসা করেছেন তামিম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার হাসান আলী। মূলত ম্যাচ জিতিয়েছে দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটারই। ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করে শোয়েব মালিক স্কোর ওই পর্যায়ে নিয়ে যান। এর আগে ঢাকার দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়ে দেন হাসান আলী। ৩.৩ ওভারে ২০ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন তিনি পাঁচ উইকেট। এ মওসুমে এটাই কোনো বোলারের পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব। একজন বোলার কুড়ি ওভারের ম্যাচে সুযোগই পান চার ওভার বোলিংয়ের। সেখানে পাঁচ উইকেট নেয়া ওই চার ওভারে। এটা সত্যিই তার ক্লাস প্রমাণ দেয়। হাসান আলীও বলেছেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং এটা এ ভার্সনে।
তামিম বলেন, ‘আসলেই তিনি (হাসান) খুবই ভালো বোলিং করেছেন। তা ছাড়া শেষ পাঁচ ওভারে সেভাবে রানই দিইনি আমরা। যা তারা প্রত্যাশা করেছিল এবং হাসানও একের পর এক উইকেট নিচ্ছিলেন।’
হাসান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলেই হাসান বিশাল বড় সাপোর্ট দিয়েছেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে। দুর্দান্ত বোলিং এবং পাঁচ উইকেট লাভ সত্যিই অসাধারণ।’
অপর দিকে ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, ‘আসলে ১৫০ রান করলে সে রান নিয়ে লড়াই করা যায়। ১২৮ করে আসলে ম্যাচে জয় আশা করা যায় না। আমরা তো দীর্ঘ দিন এখানে খেলছি। অন্যাদের মধ্যেও অনেকেই খেলেছেন। ফলে এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের জানা! ফলে ১২৮ নিয়েও লড়াই সম্ভব এখানকার উইকেটে; কিন্তু সে বোলিংটা করতে হবে। কম স্কোর নিয়ে তেমন পারফরম্যান্স করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। তবু আমরা পয়েন্ট টেবিলের টপ ২-এর মধ্যেই রয়েছি। আশা করি, আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে খুব শিগগিরই ফিরে আসব।’

Naya Diganta

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close