ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » আল্লামা সাঈদীর এক হুঙ্কারেই সেদিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো সুন্দরী প্রতিযোগিতা!

আল্লামা সাঈদীর এক হুঙ্কারেই সেদিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো সুন্দরী প্রতিযোগিতা!

এরশাদ তখন রাষ্টের অধিপতি। আমি তখন স্কুল ছাত্র। দেশে সুন্দরি প্রতিযোগিতার আয়োজন চলছে। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ময়দানে আল্লামা সাইদী সাহেবের ৫দিন ব্যাপী তাফসীর মাহফিলের প্রথম দিন।
ওয়াজের ভুমিকা শেষ করেই সাইদী সাহেব বাঘের মত হুংকার দিয়ে বজ্রকঠিন কন্ঠে বললেন, জনাব প্রেসিডেন্ট এরশাদ! আপনি মাঝার, মন্দির, মসজিদ কোন কিছুই বাদ দেন না। আপনার নামেই প্রমাণ করে আপনি একজন মুসলিম! জেনে রাখুন! এদেশ মুসলিমদের দেশ। আগামীকাল থেকে সুন্দরি প্রতিযোগিতার নামে কে বা কারা বিশ্ব নষ্টামি শুরু করতে যাচ্ছে। আমি সাইদী চট্টগ্রামের এই ঐতিহাসিক তাফসীরুল কোরান মাহফিল থেকে ঘোষণা করছি, যদি এই প্রতিযোগিতা বন্ধ না হয় তবে ১৩ কৌটি মুসলিম নিয়ে ঢাকা ঘেরাও করে তৌহিদি জনতা এই আয়োজন বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
ব্যস! পরের দিন ইত্তেফাকে লিড নিউজ হলো সুন্দরি প্রতিযোগিতা বন্ধ ঘোষনা।
আজ আল্লামা সাইদী সাহেবকে জেলে রেখে করে রেখে যা খুশী করে যাচ্ছে।

আবু আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে নেওয়া

আল্লামা দেলাওয়ার সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার বাবা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী দক্ষিণাঞ্চলের একজন শৈল্পিক বক্তা ও পীর। তিনি নিজ গ্রামে বাবার নির্মিত মাদরাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেন। এর পর তিনি শার্ষিনা আলিয়া ও খুলনা আলিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। ১৯৬২ সালে শার্ষিনা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ও তত্ত্বের ওপর অধ্যয়ন করেন। তিনিভাষা, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, মনোবিজ্ঞানের মতো বিষয় প্রায় পাঁচ বছর অধ্যয়ন করেন।

আল্লামা সাঈদী তার জীবন শুরু করেন দায়ী ইলাল্লাহ হিসেবে ১৯৬৭সালে। তিনি দেশ ও বিদেশে কোরআনের দাওয়াত দিতে থাকেন। তার এ দাওয়াতি মিশন থেকে কোনো বাধা-বিপত্তি তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কোরআনের দাওয়াত দেয়ার অপরাধে ১৯৭৫ সালে ফ্যাসিবাদী মুজিব সরকার তাকে জেলে বন্দি করেরাখে। মুজিব সরকারের পতনের পরতিনি মুক্ত হন।
মওলানা সাঈদী পৃথিবীর প্রায় পঞ্চাশটি দেশে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার আহ্বানে ইসলামের দাওয়াতি কাজে ভ্রমণ করেছেন। ১৯৭৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর তিনি সৌদি সরকারের রাজকীয় অতিথিহিসেবে হজব্রত পালন করে আসছেন। তিনি নামকরা একজন লেখকও। তার রচিত তিরিশটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দুটি বইয়ের বর্তমানে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
মওলানা সাঈদী একজন জননন্দিত নেতা। ১৯৯৬ সালে তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত তিনজন সদস্যের সংসদীয়নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বলিষ্ঠ বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি তত্কালীন আওয়ামী সরকারের সব দুষ্ককর্মের সমুচিত জবাব দেন।
২০০১ সালে তিনি ফের সংসদর সদস্য নির্বাচিত হন।
source: razniti.net

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close