Home » রাজনীতি » আ.লীগের দুর্গে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত !

আ.লীগের দুর্গে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত !

আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনে সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত। আ.লীগ-বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল থাকার সুবাদে বেশ আয়েসে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে দলটি। এনজিও কর্মীর মত বাড়ি বাড়ি অবস্থান করে আ.লীগ পরিবারের জামায়াতের কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি বিএনপির ভোট ভেঙ্গে পকেট ভারি করছে জামায়াত।

স্থানীয়রা মনে করেন দেশের বৃহৎ দুটি দল আ.লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক অদুরর্দশীতা এবং কৌশলে ভাটা পড়ার কারনে এ আসনে জামায়াতের অবস্থান সু-সংগঠিত হচ্ছে।


মৌলভীবাজার-১ আসনে জামায়াতের প্রভাব কতটা ভিত্তিপূর্ণ তা সর্বশেষ বড়লেখা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষন করলে খোলাসা হয়ে যায়। উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সুন্দরের অনেকটা কাছাকাছি অবস্থান করেন জামায়াত সমর্থীত প্রার্থী এমানদুর রহমান আর তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাফিজ।

জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনের বর্তমান সাংসদ সরকারদলীয় হুইপ শাহাব উদ্দিন আহম। সম্প্রতি নৌকার কান্ডারি হিসেবে শাহাব উদ্দিন আহমদকে এ আসেন মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে দলটির হাইকামান্ড।

মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলায় অদৃশ্য কার্যক্রমে বিএনপিকে ডাল হিসেবে ব্যবহার করছে জামায়াত। সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মুখামোখি হতে জামায়াত ।


জামায়াতে ইসলামিয়ার সাংগঠনিক অবস্থান পাকাপোক্ত করতে ইতিমধ্যে এনজিও সংস্থার মত বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। অবস্থান নিচ্ছে আ.লীগ পরিবারগুলোতে। আর নৌকার ঘাটি হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার-১ আসনে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে নানা কৌশলে বিএনপির ভোট ভেঙ্গে শক্তিশালী হচ্ছে জামায়াত।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে এ আসনে আ.লীগ এবং বিএনপি সাংগঠনিক অবস্থান খুবই দুর্বল। আর এ দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির ভোট ভেঙ্গে পকেট ভারীতে ব্যস্ত জামায়াত আর আ.লীগের পরিবারগুলো থেকে একটি করে জামায়াতের কর্মী সংগ্রহের টার্গেটে কাজ করছে তারা।


এদিকে থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে একাদশ নির্বাচনে আ.লীগের সিঁধ কাটতে পারে জামায়াত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। কেননা বিএনপির ভোট ভাঙ্গতে ইতিমধ্যে নানা কৌশল অবম্বলন করে সফলতার সাথে এগোচ্ছে তারা।

মোট কথা আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগকে ছাড় দিতে চায় না জামায়াত। নিজের মত করে বিএনপিকে ব্যবহার করে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে দলটি।

এক সময়ের নৌকার ঘাটি এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হচ্ছে ১৯ টি চা বাগানের চা শ্রমিকরা। এ দুর্গে প্রথম আঘাত আনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)। ৯১সালের নির্বাচনের জাপা প্রার্থী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শাহাব উদ্দিন হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেন। কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি পরবর্তী নির্বাচনে। অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদান করে ২০০১ সালের জোটবদ্ধ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়ত জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন।

২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন আহমদ পুনরায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী আহমদ রিয়াজকে পরাজিত করে তিনি তৃতীয়বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সরদলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন, সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নির্বাচিত হয়েছেন সহ-সভাপতি।


আ.লীগের কবল থেকে আসনটিকে রক্ষা করতে বিএনপি থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চান তিন হেভিওয়েট নেতা। আর তৃতীয়বারের মত নিজেদের দখলে রাখতে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগ থেকে লড়বেন বর্তমান সংসদীয় হুইপ শাহাব উদ্দিন আহমদ।

তবে দেশের বৃহৎ দুটি দল আ.লীগ-বিএনপির রাজনৈতিক অদুরর্দশীতা এবং কৌশলে ভাটা পড়ার কারনে এ আসনে ভবিষ্যতে শক্ত অবস্থানে সু-সংগঠিত হচ্ছে জামাযাত। যার বড় একটি বোঝা বইতে হতে পারে আ.লীগকে।পূর্বপশ্চিম

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close