Home » খেলা » ইংল্যান্ডের টেমস নদীতে ডুবলো ক্রিকেট পণ্ডিতদের ‘প্রেডিকশন’

ইংল্যান্ডের টেমস নদীতে ডুবলো ক্রিকেট পণ্ডিতদের ‘প্রেডিকশন’

দেলোয়ার হোসেন, লন্ডন, ইংল্যান্ড থেকে: টেমস নদীতে ডুবে গেল ক্রিকেট পণ্ডিতদের প্রেডিকশন। পাকিস্তানি ব্যাটিং-বোলিংয়ের কাছে বিধ্বস্ত, ধূলিস্যাৎ শক্তিশালী ভারত। ক্রিকেট আসলেই বহুরূপি। হ্যাঁ, তার চেয়েও বহুরূপি পাকিস্তান দল! সব হিসাব নিকাশ আর ভবিষ্যৎ বাণী ভুল প্রমাণ করে তাক লাগানো এবং মনে রাখার মতো জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান। ভারতেকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান।

অথচ টুর্নামেন্টের আগে এই দলটিকে নিয়ে কেউ বাজি ধরেননি। ১২৪ রানের হার দিয়ে শুরু হয় তাদের টুর্নামেন্ট। ওভালে রবিবারে ফাইনালেও পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তায় ভরা এবং পাকিস্তান যে আনপ্রেডিক্টেবল দল, সেটা সত্য হলো আবারও।

ওভালে পুরো পাকিস্তান দল একযোগে জ্বলে ওঠে। প্রথমে ব্যাটিং, ৩৩৮ রান। পরে বোলিং। তাতে ভারত অলআউট মাত্র ১৫৮ রানে, ৩০.৩ ওভারে। এমন লজ্জার হার সহসা কী ভুলতে পারবে ভারত?

ব্যাটিং উইকেট। ভারতের ব্যাটিং লাইনও দুর্ধর্ষ। কিন্তু টার্গেটটা ছিল পাহাড় সমান। ৩৩৯ রান। ফাইনাল ম্যাচে তো এমনিতেই চাপ থাকে বাড়তি। তারপরও আবার সামনে বিশাল লক্ষ্য। এই দুই চাপ একসঙ্গে পেয়ে বসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।

মোহাম্মদ আমির, ইনজুরির কারণে দুইদিন আগেও যিনি ছিলেন অনিশ্চিত। বল হাতে জ্বলে উঠলেন শুরুতেই। শূন্য রানে রোহিতকে ফেরানোর পর স্তব্ধ ভারতীয় সমর্থকরা। আর ৫ রানে যখন কোহলিকে ফেরালেন তখন রীতিমতো হতবাক ভারতীয় গ্যালারি। এ কী হচ্ছে ওভালে? ভারতের সম্ভবনা তো এখানেই শেষ। এরপর ধাওয়ানকে (২১) ফিরিয়ে জয়টা সময়ের ব্যাপার করে আনেন আমির।

এই ধাক্কা সমলানোর কার্যত ক্ষমতা ছিল না ভারতীয় ব্যাটিংয়ের। এরপর একেএকে আউট হয়ে যান যুবরাজ সিং (২২), এম এস ধোনি (৪), কেদার যাদব (৯)। ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেই। রীতিমতো লজ্জাকর অবস্থা ভারতের। কতদূর যেতে পারবে কোহলির দল?

তবে, টেলএন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া দেখিয়েছেন বীরত্ব শেষদিকে, যার ছিটোফোঁটাও পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৪৩ বলে ৭৬ রানের তুখোড় ইনিংস থেলে চরম লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে। কিন্তু বড় হার থেকে বাঁচাতে পারেননি। ভারত অলআউট মাত্র ১৫৮ রানে, ৩০.৩ ওভারে। আমির ও হাসান আলী তিনটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ফখর জামানের সেঞ্চুরি, হাফিজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তুলে ভারতকে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারে পাকিস্তান। ওভালের মরা উইকেটে বোলারদের জন্য কোনোকিছুই নেই। বোলারদের যে সামান্য সুবিধাটুকু পাওয়ার কথা সেটা সকালে, প্রথম দশ ওভারে। তাই টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দু’বার চিন্তা করেননি ভারত অধিনায়ক। কিন্তু তাতে লাভ হলো কই?

ভারতীয় বোলারদের শুরুর সুবিধাটুকু নিতে দেননি পাকিস্তানি দুই ওপেনার। ভুবেনেশ্বর কুমার ভালো বল করলেন কিন্তু উইকেট পেলেন না প্রথম স্পেলে। বুমরাহ, অশ্বিন, পান্ডিয়াদের উপর চড়াও হন আজহার আলী ও ফখর জামান। ১২৮ রান তুলে ভারতের বিপক্ষে আইসিসির কোনও ইভেন্টে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড গড়েন এ দু’জন। ভারতের বিপক্ষে এর আগে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রান ছিল ৮৪। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আমির সোহেল ও সাঈদ আনোয়ার জুটিতে ওই রান এসেছিল।

৭১ বলে ৫৯ রান করে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে যান আজহার আলী। এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই অভিষিক্ত ফখর জামান চমক দেখালেন এই ম্যাচে। ১০৬ বলে করেছেন ১১৪ রান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে এসেই সেঞ্চুরি পেলেন ২৭ বছর বয়সী ফখর। আগের তিন ম্যাচের দুটিতেই হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি।

৫২ বলে ৪৬ রান করে এবং ১৬ বলে ১২ রান করে আউট হন শোয়েব মালিক। ব্যাট করতে নেমে দারুণ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। কম যাননি ইমাদ ওয়াসিমও। ৪৫.২ ওভারেই ৩০০ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। বাকি ২৮ বলে কত হবে? ৪০? হ্যাঁ, প্রায় সেটাই হলো। মোহাম্মদ হাফিজের ৩৭ বলে ৫৭ রানের দারুণ ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানে থামে পাকিস্তান। ২১ বলে ২৫ রান করেন ইমাদি ওয়াসিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১৮০ রানে জয়ী পাকিস্তান

পাকিস্তান ইনিংস: ৩৩৮/৪ (৫০ ওভার)

(আজহার আলী ৫৯, ফখর জামান ১১৪, বাবর আজম ৪৬, শোয়েব মালিক ১২, মোহাম্মদ হাফিজ ৫৭*, ইমাদ ওয়াসিম ২৫*; ভুবনেশ্বর কুমার ১/৪৪, জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ০/৬৮, রবীচন্দ্রন অশ্বিন ০/৭০, হার্দিক পান্ডিয়া ১/৫৩, রবীন্দ্র জাদেজা ০/৬৭, কেদার যাদব ১/২৭)।

ভারত ইনিংস:  ১৫৮ (৩০.৩ ওভার)

(রোহিত শর্মা ০, শিখর ধাওয়ান ২১, বিরাট কোহলি ৫, যুবরাজ সিং ২২, মহেন্দ্র সিং ধোনি ৪, কেদার যাদব ৯, হার্দিক পান্ডে ৭৬, রবীন্দ্র জাদেজা ১৫, রবীন্দ্রন অশ্বিন ১, ভুবনেশ্বর কুমার ১*, ভুবনেশ্বর কুমার ১; মোহাম্মদ আমির ৩/১৬, জুনায়েদ খান ১/২০, মোহাম্মদ হাফিজ ০/১৩, হাসান আলী ৩/১৯, শাদব খান ২/৬০, ইমাদ ওয়াসিম ০/৩, ফখর জামান ০/২৫)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ফখর জামান (পাকিস্তান)

গোল্ডেন ব্যাট: শিখর ধাওয়ান (ভারত)

গোল্ডেন বল: হাসান আলী (পাকিস্তান)

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: হাসান আলী (পাকিস্তান।ঢাকা টাইমস।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close