ব্রেকিং:
Warning: mysql_query(): Unable to save result set in /home/dnn/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 1889
Home » আন্তর্জাতিক » উত্তেজনা বাড়িয়ে বিশাল সামরিক মহড়া চীনের

উত্তেজনা বাড়িয়ে বিশাল সামরিক মহড়া চীনের

বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে ধারাবাহিকভাবে বড়সড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। চীনের এই তৎপরতার ফলে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা মার্কিন-ভারতকেন্দ্রিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, মহড়ায় সত্যিকার যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উন্নত পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। যার মাধ্যমে বিতর্কিত দক্ষিণ চিন সাগরে বেইজিংয়ের নৌবহরের রণপ্রস্তুতি আরো কার্যকর হবে। দৈনিকটির দাবি, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় আবহ সৃষ্টি করে সেনা প্রশিক্ষণ দেয়াও এই মহড়ার অংশ ছিল।

প্রায় গোটা বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে বেইজিং। একইভাবে এই সাগরের অংশবিশেষের ওপর নিজেদের মালিকানা দাবি করছে তাইওয়ান, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন। দক্ষিণ চীন সাগরের তলদেশে প্রচুর পরিমাণ তেল ও গ্যাস সম্পদ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
দক্ষিণ চীন সাগরের পানিসীমা নিয়ে এই বিরোধে মার্কিন সরকার বিইজিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর পক্ষ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই সাগরে নিজের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন, যাকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হিসেবে মনে করছেন সমালোচকরা। যার পালটা হিসাবে এবার বড়সড় সামরিক মহড়া চালাল বেইজিং।
ভারতকে উদ্ধত বলে আক্রমণ চীনা সংবাদমাধ্যমের
দোকালাম নিয়ে বেশিমাত্রায় সংবেদনশীল ভারত। শুধু তাই নয়, উদ্ধতও বটে। এমনই মনে করছে চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম। সেকারণেই দোকালামে রাস্তা তৈরি নিয়ে ভিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার পরও চীন কোনোভাবেই দোকালামে রাস্তা তৈরি থেকে বিরত থাকবে না।
চীনের এই সংবাদমাধ্যম একটি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, দোকালামে যেখানে চীনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় সেনার গণ্ডগোল বেঁধেছিল তার ঠিক ১০ কিলোমিটার দূরে চুম্বি ভ্যালিতে রাস্তা তৈরি শুরু করে দিয়েছে চীন। এটা সেখানে রাস্তা তৈরির সঠিক সময় না হলেও। ওই এলাকায় রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পূর্ণ অধিকার বেইজিংয়ের রয়েছে বলেও সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে। সেখানে আরো দাবি করা হয়েছে দোকালঅমের একেবারেই চীনের অংশ।
দোকালামের নিয়ে ভারত অতিরিক্ত পরিমাণে অহঙ্কারি আর নিজের সীমান্তের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এই আশঙ্কায় বেশি মাত্রায় ভীত হয়ে পড়েছে। সে কারণেই ভারত এই বিরোধিতায় নেমেছে। এই বিরোধিতার কোনো যুক্তিই নেই বলে দাবি চীনের। এই ভয় থেকে ভারত যত তাড়াতাড়ি মুক্ত হবে ততই তাদের পক্ষে মঙ্গল বলে এই সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে।
সীমান্তে শান্তি বজায়ে ভারতকে সহযোগিতা করবে চীন ভারত ও চীন সম্পর্কের মধ্যে ‘আচ্ছে দিন’ ফিরে আসছে৷ সৌজন্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন৷ তার ‘নমস্তে’ কূটনীতির চালে মুগ্ধ হয়ে বেইজিং সীমান্তে শান্তি বজায়ে নয়াদিল্লির প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো৷
ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, গতকাল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন প্রথমবার সিকিম সীমান্তে যান৷ ভারত-চীন সীমান্তে অবস্থিত নাথুলাতে গিয়ে চীনাদের ‘নমস্তে’ বলা শেখান৷ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাথুলা সফরের চব্বিশ ঘন্টা পর আগ্রাসী মনোভাব ছেড়ে বেইজিং সোমবার জানিয়ে দিল, সীমান্তে শান্তি বজায়ে নয়াদিল্লিকে সহযোগিতা করবে তারা৷
শনিবার নাথুলা সীমান্তে গিয়ে চীনা সেনাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর৷ সেখানে তিনি বলেন, ১৮৯০ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি মেনে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত পুর্নবিন্যাস করা হয়৷ তার অন্যতম সাক্ষী নাথুলা পাস৷ এদিন নির্মলা সীতারমনের সীমান্ত সফর নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুং ইয়াং বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তি মেনে সেখানে শান্তি বজায়ে চীন সবরকম সহযোগিতা করবে৷
এর আগে দোকালামে সীমান্ত উত্তেজনা চলাকালীন চীনের মুখে ১৮৯০ সালের ব্রিটেন-চীনা চুক্তির কথা বারবার শোনা গিয়েছিল৷ এখন তারাই দুই দেশের চুক্তি মেনে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার কথা বলছে৷ নির্মলা সীতারমণের চীনা সেনাদের ‘নমস্তে’ শেখানো প্রতিবেশী দেশে আলোড়ন পড়ে গেছে৷ সেই ঘটনাকে ‘শুভ সঙ্কেত’ বলে অভিভিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এটা একটা শুভ সঙ্কেত৷ দোকালামের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে৷
জম্মু কাশ্মীর থেকে শুরু করে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ৩৪৮৮ কিমি বিস্তৃত ভারত-চীন সীমান্ত৷ এর মধ্যে ২২০ কিমি এলাকা পড়ে সিকিম অঞ্চলে৷ সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দু’দেশের মধ্যে ১৯ বার কথোপকথন হয়৷
তবে নির্মলা সীতারমনের সিকিম সফরের পর এখন করা মনে হচ্ছে দু’দেশই সীমান্ত সমস্যা মেটাতে ও সেখানে শান্তি বজায়ে উদ্দ্যোগী হয়েছে৷
উৎসঃ নয়াদিগন্ত

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close