ব্রেকিং:
Warning: mysql_query(): Unable to save result set in /home/dnn/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 1889
Home » রাজনীতি » একদিনের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ জামায়াত ছাড়া অন্য দলে অসম্ভব

একদিনের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ জামায়াত ছাড়া অন্য দলে অসম্ভব

সম্প্রতি দুই ধাপে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দলের আমির, সেক্রেটারি জেনারেলসহ প্রায় ১৪ জন শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হলেও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি জামায়াতে ইসলামীকে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোতে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব নিয়োগ করা নিয়ে নানা জটিলতা থাকলেও জামায়াতে ইসলামী মাত্র একদিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল পদে কোনও ঝামেলা ছাড়াই নিয়োগ দিতে পেরেছে। নতুন দায়িত্বে যারা এসেছেন, তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সন্তুষ্টি রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার একাধিক সদস্য জানান, পদের ধারাবাহিকতা থাকায় নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা হয় কম। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ বা কেন্দ্রীয় কমিটির সিরিয়াল অনুযায়ী নতুন ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সাবেক সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিতও। রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি আছে। আর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম সাংগঠনিকভাবে পরিচিত এবং দক্ষ। রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি না থাকলেও সংগঠক হিসেবে দলে যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতের প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকটি এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতারা জানান, শীর্ষনেতারা গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে একটি হরতাল দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি দলের কার্যক্রম সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকেও খেয়াল থাকবে। নেতাদের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। জামায়াত ও সাবেক শিবিরের নেতারা অযথা শক্তিক্ষয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য একেএম শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। আজকে (বুধবার) আমরা হরতালের সমর্থনে লিফলেট বিতরণ করেছি এবং অহিংস পিকেটিং করেছি।’

দলটির বিভিন্ন সূত্রের খবর, নির্বাচনকালীন সরকার-ব্যবস্থার সুরাহা হওয়ার আগে আর রাজপথে নামছে না জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যরা জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের মধ্যে দলীয় কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। প্রায় শেষ হতে যাওয়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ‘অধিবেশনে’ দেওয়া সদস্যদের অভিমতের ভিত্তিতে তৈরি বার্ষিক পরিকল্পনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশের অন্তত ৬জন মজলিসে শুরার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় শুরা অধিবেশনে বিগত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক হিসাব, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার ধরন ও কার্যক্রমের কৌশলের ওপর প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক নায়েবে আমির আতাউর রহমানের বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করা হয়েছে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বছরে অন্তত দুই বার দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সাধারণ অধিবেশন করতে হবে। যদিও পরিবেশ প্রতিকূলে থাকায় অঞ্চলভেদে শুরা সদস্যরা লিখিতভাবে তাদের অভিমত পাঠিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রে।

উল্লেখ্য, সারাদেশে জামায়াতের মজলিসের শুরার সদস্য-সংখ্যা তিন শতাধিক। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার মেয়াদ তিন বছর।

জামায়াতের চট্টগ্রাম বিভাগের দু’জন শুরা সদস্য জানান, তারা বর্তমান কমিটির কাজের ওপর সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। একই মত দিয়েছেন ঢাকার শুরা সদস্যরাও। তবে রাজশাহী অঞ্চলে আতাউর রহমানের বহিষ্কারের বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট, ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যরা ‘অধিবেশন ও সিদ্ধান্ত’ নিয়ে কথা বললেও তারা নিজেদের পরিচয় ও নাম উদ্ধৃত করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে শীর্ষ দায়িত্বশীলদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির একেএম শামসুদ্দিন আহমেদের ভাষ্য, ‘প্রচার বিভাগ গণমাধ্যমে কথা বলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।’ সিলেট জেলা দক্ষিণের আমির, শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিমত দিয়েছি।’

শুরার সদস্যরা জামায়াতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েও কাজ করেন। এক্ষেত্রে দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আছে। এই কমিটিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

শুরার একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫০টি আসনে প্রার্থিতার বিষয়ে প্রাথমিক চিন্তা থাকলেও শেষপর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই আসন চূড়ান্ত হবে। সংগঠনের অর্থনৈতিক বিষয় দেখভাল করে একটি কেন্দ্রীয় টিম।

একজন আহ্বায়কের নেতৃত্বে অঞ্চলভেদে পুরো অর্থনৈতিক কার্যক্রম অডিট করে এই কমিটি। চলতি বছরে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রেও শুরা সদস্যরা সম্মতি দিয়েছেন।

শুরার সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান সরকারের অধীনে প্রকাশ্যে কার্যক্রমে নানান বাধা থাকায় সংঘর্ষে না গিয়ে ঘরোয়া কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন শুরার সদস্যরা। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সেক্টরে নিবিড়ভাবে কাজ গোছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার প্রভাবশালী এক শুরা সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখন অপেক্ষা করছি। আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

গত ১০ অক্টোবর নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমি জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানাচ্ছি।”

সূত্র জানায়, আগামী ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে বিএনপি। ইসিতে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলীয় পরামর্শ বিএনপিকে লিখিতভাবে দেওয়ার কথা শোনা গেলেও আপাতত সেদিকে যাচ্ছে না জামায়াত।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরের প্রভাবশালী একনেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে বিএনপি চাইলে পরামর্শ দেওয়া হবে। এই পরামর্শ বাছাইয়ে দলের কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে।’

এই শুরা সদস্য আরও জানান, বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনও প্রস্তাব চায়নি। যদিও গত জুলাই-আগস্টেই বিএনপি ২০ দলীয় শরিকদের থেকে প্রস্তাব লিখিতভাবে গ্রহণ করেছে।

জানতে চাইলে জামায়াতের সহযোগী শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষনেতা, মজলিসে শুরার সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শূরার সদস্য সম্মেলন শেষপর্যায়ে। দুই/একটি বাকি থাকতে পারে। আর এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মুখপাত্ররা কথা বলবেন।’

যদিও বরাবরের মতো প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীল অধ্যাপক তাসনীম আলম ও সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমানের আকন্দের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাংলা ট্রিবিউন অবলম্বনে

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close