Home » শীর্ষ সংবাদ » কী বার্তা দেবেন খালেদা জিয়া?

কী বার্তা দেবেন খালেদা জিয়া?

নিউজ ডেস্ক : দম বন্ধ অবস্থা। জটিল সমীকরণ। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কারাদণ্ড না খালাস? এমন এক পরিস্থিতিতে আজ নির্বাহী কমিটি এবং তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য শুনবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেবেন বিরোধীনেত্রী। কী বলবেন তৃণমূল নেতারা। কী বার্তা দেবেন তাদের নেত্রী। নানা আলোচনা সর্বত্র।

আজ সকালে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের হোটেল লা ম্যারিডিয়ানে শুরু হওয়ার কথা বিএনপির নির্বাহী কমিটির এই সভা। গঠিত হওয়ার দুই বছর পর ডাকা এই সভায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৫০২ সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন জেলা শাখা এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন। নির্বাহী কমিটির এই সভাকে ঘিরে নেতাদের হয়রানি এবং গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

এর আগে ভেন্যু পেতেও দলটিকে কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, নির্বাহী কমিটির সভার জন্য অন্তত আধা ডজন জায়গায় আবেদন করে বিফল হওয়ার পর হোটেল লা ম্যারিডিয়ান কর্তৃপক্ষ আমাদের সভা করতে দেয়ার বিষয়ে জানান। এর আগে বৈঠকের জন্য কোথাও আমাদের জায়গা দেয়া হয়নি।

আমরা রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন, কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন, গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ, মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী এবং বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের ‘রাজদর্শন’ হলের জন্য আবেদন করেছিলাম। এর মধ্যে বসুন্ধরায় আমাদের অনুমতি দিয়েও পরে তা বাতিল করে দেয়। জায়গাগুলো সরকারের চাপের কারণে আমাদের বুকিং ফিরিয়ে দেয়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর লা ম্যারিডিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুমতি মেলায় সেখানে সভা অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সভাস্থলে নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে। এর আগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভার জন্য সদস্যদের পরিচয়পত্র দেয়া শুরু হয়।

প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, ডা. আবদুল কুদ্দুস দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের কাছ থেকে পরিচয়পত্র নেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত আমন্ত্রিত সদস্যদের পরিচয়পত্র দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটির গঠন করা হয়।

৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। এ রায়কে ঘিরে এরইমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। চলছে বাদানুবাদ। প্রিজনভ্যানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শুরু হয়েছে বিএনপি নেতাদের বাসায় বাসায় অভিযান। এরইমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে।

রায়ের আগে খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটি এবং জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রায় বিপক্ষে গেলে কঠোর আন্দোলনের জন্য বিএনপি নেতৃত্বের ওপর তৃণমূলের চাপ রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আজকের নির্বাহী কমিটির বৈঠককে বিএনপির নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এখন কী ধরনের কর্মসূচি নেয়া হবে তা নিয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে একধরনের দ্বিধা রয়েছে।

তবে দলটি যেকোনো মূল্যে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন রাজপথে থাকতে চায়। ওই দিন কী কৌশলে রাজপথে থাকা যায় তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে এ বৈঠকে। এছাড়া, নির্বাচন পর্যন্ত কী ধরনের কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে এবং নির্বাচনের ব্যাপারে কী কৌশল হবে- তা নিয়েও আলোচনা হবে। দলের ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে বার্তা দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন। -এমজমিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close