Home » খেলা » কেমন আছেন এক সময়ের হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ?

কেমন আছেন এক সময়ের হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ?

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ঠিক পেছনেই বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মাঠ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মূল মাঠে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট যখন চলছে, ক্রীড়া সংস্থার মাঠে তখন শিশু-কিশোর ক্রিকেটারদের মেলা। অনুশীলন করছিল ৩-৪টি ক্রিকেট একাডেমির ছেলেরা। একটি গ্রুপ নজর কাড়ছিল আলাদা করে। সবার গায়ে কমলা রঙের পোশাক, দলেও ভারী। তবে শুধু এসবই নয়, আলাদা করে চোখে পড়ার মূল কারণ তাদের গুরু।

শ্মশ্রুমণ্ডিত যে মানুষটি ওই ছেলেদের কোচিং করাচ্ছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি পরিচিত মুখ। এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় তারকা!

এখন হুট করে দেখলে তাকে চেনা দায়। তবে সেই বড় বড় চোখ, সেই অলস ভঙ্গিতে হাঁটা-চলা। ‘ট্রেডমার্ক’ হাসিটাও অমলিন। কিশোরসুলভ সেই হাসিটা মুহূর্তেই বলে দেয় তার পরিচয়। আফতাব আহমেদ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সময়ের ‌‘গোল্ডেন বয়!’

সেই সময়ের আফতাব, এখনকার বাংলাদেশ

বয়স এখনও মাত্র ২৯। যে বয়সে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার কেবল মধ্যগগনে। অথচ আফতাবের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান কিনা এই বয়সেই কোচ!

কিছুদিন হলো চট্টগ্রামে চালু করেছেন ‘আফতাব আহমেদ ক্রিকেট একাডেমি’। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিজের একাডেমির গল্প শোনাচ্ছিলেন আফতাব।

“ফেব্রুয়ারি থেকে একাডেমি চলছে। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনেক বাচ্চারা আসছে। কোচিংয়ের জন্য যা যা করা দরকার, সব করছি। ক্রিকেট জীবনে যা করিনি, সেই সব করছি!”

‌‘ক্রিকেট জীবনে যা করিনি’ শুনলে অনেকেই কৌতুহলী হতে পারেন। তবে আফতাবের ক্যারিয়ার অনুসরণ করলে খুব অবাক হওয়ার কথা নয়। আফতাব বোঝাচ্ছিলেন আসলে পরিশ্রম। নিবেদন। কষ্ট করাকে ভয়। তুমুল প্রতিভা আর প্রচন্ড হেয়ালিপনার অদ্ভুত এক যুগলবন্দী আফতাবের ক্রিকেট জীবন! বরাবরই ছিলেন একটু আরামপ্রিয়। ফিটনেসপ্রবণ আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাই তাল মেলাতে পারেননি।

জাতীয় দলের এক সময়ের হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ এখন ক্রিকেট কোচ। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের যাবতীয় অপূর্ণতা ঘোচাতে চান তিনি কোচিং ক্যারিয়ারে।

প্রসঙ্গ তুলতেই আফতাবের সরল স্বীকারোক্তি, “ক্রিকেট জীবনে ওসব করলে হয়ত আজ আরও ওপরে থাকতাম। এখন এই মাঠে না থেকে ওই মাঠে (জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম) থাকতাম। কোচিং না করিয়ে এখন টেস্ট খেলতাম!”

পরক্ষণেই আবার স্বগতোক্তির মতো বলে ওঠেন, “তবে আমার সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। এটাতেই আমি খুব খুশি।”

খুশি হওয়ার মূল কারণ, এই বাংলাদেশ তো ধারণ করে আফতাবের ক্রিকেট দর্শনই! যেখানে ভয়ডর বলে কোনো শব্দ নেই। প্রতিপক্ষের নামে ভড়কে যাওয়ার বালাই নেই। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হামাগুড়ি দেওয়ার দিনগুলোতে, ওয়ানডেতেও ম্যাচের পর ম্যাচ বিব্রতকর সব অভিজ্ঞতার দিনগুলিতে, দুই দুর্বিনীত তরুণের দু:সাহসী ব্যাটিং আনন্দের দোলায় ভাসাত পুরো বাংলাদেশকে – মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতেও এই দুজনের ব্যাট চমকে দিত ক্রিকেটবিশ্বকে।

ধ্যান-ধারণা, দর্শনে সময়ের চেয়ে কিভাবে এগিয়েছিলেন অতটা? প্রশ্ন শুনে আফতাবের মুখে সেই চেনা হাসি।

“আমি আসলে বেশি কিছু ভাবতাম না। শট খেলতে ভালোবাসি, তাই খেলতাম। আউট হব কি হব না, এসব মাথায় থাকত না। নিজের সহজাত খেলাটা খেলতে চাইতাম সবসময়ই। বোলার বা প্রতিপক্ষের নাম দেখতাম না।”

আরেকটি ব্যাপার ছিল, দর্শকের ভালোবাসা। সেই সময়টায় সম্ভবত সবচেয়ে গ্যালারি প্রিয় নাম ছিল আফতাব। তিনি ছিলেন বিনোদনের ফেরিওয়ালা। ধুন্ধুমার ব্যাটিং করতেন, উইকেটে গিয়ে প্রথম বল থেকেই খেলতেন সাহসী সব শট। অনেকবারই এমন হয়েছে, বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারালে ক্ষণিকের নিরবতার পরমুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ত গোটা গ্যালারি। তিন নম্বরে যে ব্যাটিংয়ে নামছেন আফতাব!

দর্শকের সেই ভালোবাসা বাড়িয়ে দিত আফতাবের সাহস আর আত্মবিশ্বাসের সীমানা।

“দর্শকের বড় একটা প্রভাব ছিল আমার ব্যাটিংয়ে। আমি ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নামার সময় পুরো গ্যালারি চিৎকার করত নাম ধরে। ভেতরের সব ভয় তখন উড়ে যেত। মনে হতো এই দর্শকদের বিনোদন দিতেই হবে। ২০-২৫ হজার দর্শক এক সঙ্গে চিৎকার করলে সেই অনুভূতির কোনো তুলনা হয় না।”

এই বাংলাদেশ দলে তার সেই দর্শনেরই প্রকাশ দেখে আফতাবের চোখে-মুখে খেলা করে রোমাঞ্চ আর স্বপ্ন।

“খুবই ভালো লাগে যে, বাংলাদেশ এখন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে। মনে ভয় থাকলে ক্রিকেট খেলার দরকার নেই। এখন সৌম্য, মুস্তাফিজদের দেখে ভালো লাগে। আমি চাই এই ভয়ডরহীন খেলাটাই সবাই ধরে রাখুক। তাহলে আমার বিশ্বাস, পরের বিশ্বকাপে অনেক ভালো করবে বাংলাদেশ।”

রোমাঞ্চকর সেই সব গল্প

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা মোটে ৬ বছরের। ক্যারিয়ার রেকর্ডের দিকে তাকালেও মনে হবে তা বড্ড সাদামাটা। কিন্তু আপাত বিবর্ণ এই ক্যারিয়ারেই লুকিয়ে রঙিন সব অধ্যায়। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে মন রাঙানোর গল্প।

১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে মাত্র একটিই ফিফটি। সেই ইনিংসটিই ছিল দারুণ বীরোচিত। চেস্টার-লি-স্ট্রিটে হার্মিসন-হগার্ড-ফ্লিনটফ-জোনসদের সুইং-বাউন্স-গতিকে উড়িয়ে ৮২ বলে অপরাজিত ৮২!

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রঙিন পারফরম্যান্সের স্মৃতিগুলো দিয়ে তো গাঁথা যায় উজ্জ্বল এক মালা। সেই মালা থেকে নিজের পছন্দের কিছু মণি-মুক্তা বেছে নিলেন আফতাব।

“আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছক্কার কথা। তারপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বগুড়ায় টান টান উত্তেজনার ম্যাচে দলকে জেতানোর কথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের ম্যাচে ফিফটি, ওই বিশ্বকাপেই মাখায়া এনটিনির ৩ বলে ১৬ রান নেওয়া…এসব মনে পড়ে।”

২০০৫ সাল। অট্রেলিয়াকে হারানোর পর আফতাব আহমেদের উল্লাস

আফতাবের ক্যারিয়ারটাকেও ফুটিয়ে তোলে আসলে তার এই স্মৃতিগুলোই। তার মনে পড়া ইনিংসগুলো কোনোটাই বড় ইনিংস নয়, কিন্তু সবকটাই স্মরনীয়! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কার্ডিফ বীরত্বের ম্যাচে করেছিলেন ১৩ বলে অপরাজিত ২১। শেষ ওভারে জেসন গিলেস্পির স্লোয়ারে ক্রিকেটবিশ্ব কাঁপানো সেই ছক্কা কে ভুলতে পারে!

২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বগুড়ায় রান-বলের টানাপোড়েন মেলানো ম্যাচে করেছিলেন ২১ বলে অপরাজিত ৩২। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর ম্যাচে ৪৯ বলে অপরাজিত ৬২। পরের ম্যাচেই কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণকে পাল্টা জবাব দেওয়া। এনটিনির ৯০ মাইল গতির বলে ডাউন দা উইকেট এসে মিড উইকেট গ্যালারিতে আছড়ে ফেলার দু:সাহস। পরের দুই বলে আবারও ছক্কা-চার!

আছে টুকরো টুকরো এমন আরও বেশ কিছু স্মরণীয় ছবি। চট্টগ্রামের এই মাঠেই ২০০৮ সালে জ্যাক ক্যালিসের বাউন্সারে কেটে গিয়েছিল ডান চোখের নিচে। এতদিন পরও পরম যত্নে সেই জায়গাটায় হাত বুলিয়ে দেন আফতাব!

পথ হারানোর শুরু ও শেষ

বয়স ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে যখন পরিণত হয়ে ওঠার কথা, আফতাবের পথ হারানোর তখনই শুরু। ২০০৮ সালে বিতর্কিত আইসিএলে গিয়ে ছিটকে গেলেন মূল স্রোত থেকে। পরে ফিরেও আর মিশে যেতে পারেননি সেই স্রোতে।

আইসিএলে নিষিদ্ধরা যখন আবার ফেরার অনুমতি পেলেন, আফতাবও ফিরেছিলেন। ২০১০ সালে খেলেছিলেন দুটি টেস্ট ও ৫টি ওয়ানডে। কিন্তু দীর্ঘসময় বাইরে থাকায় মরচে পড়েছিল ব্যাটে। নিজের আলসেমি স্বভাবের কারণে ফিটনেসের অবস্থা ছিল যাচ্ছেতাই। কমে গিয়েছিল রিফ্লেক্স। ফেরার পর আফতাব ছিলেন নিজের ছায়া। ২০১০ সালের মার্চে নিজ শহরের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা টেস্ট ও ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত থমকে গেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য খেলে গেছেন। তবে সেই আফতাবকে ফিরে পাওয়া গেছে খুব কম সময়ই। প্রতিটি মৌসুমই রঙ হারিয়ে আরও বিবর্ণ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নিজের সঙ্গে লড়াইয়ে ক্ষান্তি দিয়েছেন গত ঢাকা লিগেই। ব্রাদার্সের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন। মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ও নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও পারেননি চোটের কারণে।

এসব স্মৃতি হাতড়ানোর মাঝেই গ্যালারির উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে পাশের টেস্ট ভেন্যু থেকে। আফতাবও কেমন আনমনা হয়ে পড়েন, “এজন্যই খেলার সময় মাঠে আসতে চাই না। এই আওয়াজ শুনলে ভালো লাগে না, নিজেকে ধরে রাখতে পারি না।”

বয়স ৩০ হয়নি, চাইলে লড়াই হয়ত চালিয়ে যেতে পারতেন। তবে শেষের ডাক অনুভব করতে পারছিলেন আফতাব নিজেই।

“ঠিক সময়েই অবসর নিয়েছি। গত মৌসুমেই শেষ মুহূর্তে দল পেয়েছি। টিম না পেলে তো বাজে ব্যাপার হতো। আমি ওই পর্যায়ে যেতে চাই না যে, সম্মান নষ্ট হোক। এজন্যই মনে হয়েছে অবসর নিতে হবে।”

স্বপ্ন আর পূর্ণতার হাতছানি

সম্ভাবনার কলি ফুটতে পারেনি ফুল হয়ে। প্রাপ্তির চেয়ে আক্ষেপের পাল্লা অনেক ভারী ক্যারিয়ারে। তবে এখন আর পেছন ফিরে তাকাতে চান না আফতাব।

“আক্ষেপের কথা আর বলতে চাই না। আমারও সমস্যা ছিল, বোর্ডেরও কিছু ছিল। ‌আকরাম ভাইরা যখন নির্বাচক ছিলেন, আমাকে কামব্যাক করালে হয়ত ব্যাপারটি অন্যরকম হতো। তবে এখন আমি নতুন জীবনে ভালো আছি। জাতীয় দলে আসার আগে এক জীবন ছিল। পরে জাতীয় দলে খেলে গাড়ি-টাকা হয়েছে। এখন কোচিং আর ধর্মকর্ম নিয়ে আছি। সব জীবনই আমি উপভোগ করেছি। এখনও করছি।”

কোচিংয়ে আসার মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে নিজ শহরের ক্রিকেটের দুর্দশা।

“চট্টগ্রামের জন্যই মূলত কোচিংয়ে আসা। পাইপলাইনে কোনো ক্রিকেটার নেই আমাদের। এক ইরফান শুক্কুর (বিসিবি একাডেমির ক্রিকেটার) আছে। আর কেউ নেই। এজন্যই আমার লক্ষ্য অন্তত ঢাকা লিগে খেলার উপযোগী ক্রিকেটার তৈরি করা, যারা পরে জাতীয় দলে খেলবে। রাজশাহীর ক্রিকেটের মতো কিছু করা। চট্টগ্রামের ক্রিকেট যে পিছিয়ে গেছে, সেটা এগিয়ে নিতেই হবে।”

নিজের ক্রিকেট দর্শন যা ছিল, নিজের একাডেমির ছেলেদেরও মনেও গেঁথে দিচ্ছেন সেই দর্শনই।

“আমার একাডেমির ছেলেদেরও আমি এই শিক্ষাই দেই। সবাই যেন নিজের সহজাত খেলাটাই খেলে। স্রেফ বল সিলেকশনটা ঠিক রাখতে হবে। এই তো। এটুকু ঠিক থাকলে প্রথম বল হোক বা দ্বিতীয় বল, শট খেললে কোনো সমস্যা নেই।”

তবে আফতাব বলেই নতুন এই ক্যারিয়ার নিয়েও অনেকের অনেক সংশয়। পেশাদার ক্রিকেটারের মতো না হলেও কোচিং ক্যারিয়ারও তো অনেক কষ্ট, পরিশ্রম, নিবেদন আর ত্যাগ দাবি করে! শুনে আফতাবের কণ্ঠে ফুটে উঠলো প্রতিজ্ঞা। আগের জীবনের অপূর্নতা নতুন জীবনে ঘুচিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা।

“যখন খেলেছি, নিজের দায়িত্বটাই শুধু নিজের ছিল। হয়ত সেখানে খামখেয়ালি করেছি। কিন্তু এখন ২০০টা ছেলের ভবিষ্যত আমার হাতে। কাজেই দায়িত্বের সঙ্গে আপোশ করব না। যা যা করা দরকার, সব করব। ক্রিকেটার হিসেবে যত অপূর্ণতা ছিল, সব পেতে চাই কোচ হিসেবে।”

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close