Home » রাজনীতি » কোনটা সত্যি?

কোনটা সত্যি?

কথার অত্যাচারে দেশের মানুষ দিশেহারা। টেলিফোনে কথা বলার জন্য ট্যাক্স আছে, কিন্তু রাস্তাঘাটে সেমিনারে সমাবেশে মাইক্রোফোন পেলেই বকবক করার ওপর কোনো ট্যাক্স নেই। তাই যার যা খুশি তাই বলছেন। আর দুর্ভাগ্যজনক হলো এসব বক্তব্য আসছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখ থেকেই।কথাগুলো পরস্পর বিরোধী। তাই কোনটা সরকারের বক্তব্য তা বাছতে জনগণের ভ্যাবাচ্যাকা অবস্থা।কয়েকটা উদহারণ দেওয়া যাকঃ

বেগম জিয়ার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গেঃ বেগম জিয়া ৩ মাস পরে দেশে ফিরলেন। লন্ডনে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ভিন্ন ভিন্ন আদালত। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের প্রশ্ন ছিল , কি হবে বেগম জিয়া এলে? তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা হবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ১৭ অক্টোবর বললেন ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা কেউ আইনের উর্ধ্বে নই।‘

ভালো কথা। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন হুংকারের কিছুক্ষণ পরেই দেশের পুলিশ বাহিনীর প্রধান বললেন সম্পূর্ণ উল্টো কথা। পুলিশের মহা পরিদর্শক জানালেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা আসার সাথেই যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে তা আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি না। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি অনেক সন্মানিত ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে নিয়ে যাব আমি তা মনে করি না।

সাধারণ মানুষ কোন বক্তব্যকে বিশ্বাস করবে?

বিচারপতি সিনহা প্রসঙ্গেঃ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অষ্ট্রেলিয়া গেলেন ১৩ অক্টোবর। যাবার দিন এক বিবৃতি তুলে দিলেন সংবাদকর্মীদের হাতে। পরদিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা বিবৃতি দিল। ব্যস। ঘটনাটি এখানেই শেষ হতে পারতো।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতির পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বললেন, ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর (বিচারপতি সিনহার) ফিরে আসা সূদুরপরাহত।’ পরদিন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সংবাদ ব্রিফিং করে জানিয়ে দেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১১ অভিযোগ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকের আসনে বসতে পারবে না।’

ভালো কথা। কিন্তু ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ, মোয়াজ্জেম আলী বললেন ঠিক উল্টো কথা। তিনি বললেন ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ফিরে এসে কাজে যোগ দিতে পারবেন।’ দিল্লির ফরেন করস্পন্ডেন্ট ক্লাবে সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত প্রধান বিচারপতি যদি চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে কাল সকালে আবার দায়িত্ব নিতে চান সমস্যা হবে না।’ রাষ্ট্রদূতরা তো হলেন ওই দেশের সরকারের মুখপাত্র। কিন্তু তিনি তো বললেন সম্পূর্ন উল্টো কথা। সরকারের বক্তব্য কোনটা?

সিইসির বক্তব্য প্রসঙ্গেঃ ১৫ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সংলাপ করেন বিএনপির সঙ্গে। সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিইসি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কে ‘বহুদলীয় গনতন্ত্রের পূনঃপ্রতিষ্ঠাতা উল্লেখ করেন। এই বক্ত্যেবর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘জিয়াউর রহমানের প্রশংসায় বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কৌশল হতে পারে।‘ একই দিন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বললেন, ’সিইসির বক্তব্য অসত্য’ শিষ্টাচার বিরোধী এবং সংবিধান লঙ্ঘন।‘ দুজনই আওয়ামী লীগের দুজন গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কার বক্তব্য আমরা মানবো?

এখানে মাত্র কয়েকটা উদহারণ দেওয়া হলো। সরকারি চেয়ারে বসে অনেক বাচাল অজস্র কথা বলেছেন। যেগুলো পরস্পর বিরোধী। এতে সরকারকেই পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। প্রধানমন্ত্রী নিজে একাধিকবার সব বিষয়ে সবাইকে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তার পরামর্শ মানছে কে? বাংলা ইনসাইডার

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close