ব্রেকিং:
Home » রাজনীতি » খালেদার মামলার নেপথ্যের কথা বললেন জমিরউদ্দিন

খালেদার মামলার নেপথ্যের কথা বললেন জমিরউদ্দিন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় ম্যাডাম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ।’

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা মামলার ‘রূপকার’ হচ্ছেন ১/১১-এর অবৈধ সরকারের অন্যতম কুশীলব সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ।


বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় তিনি আদালতে এসব কথা বলেন। এ মামলায় নবম দিনের শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। এ সময় তিনি সরকারি নথি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরির অভিযোগ এনে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আদালতে লিখিত আবেদন জানান। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বারেক ভূঁইয়ার জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

বিএনপি ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি ধ্বংসের জন্য ‘মিথ্যা’ মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাইনাস টু থিওরির অংশ হিসেবে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে দুদক।’


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান জমিরউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, ‘কোনো সাক্ষীই বলেননি খালেদা জিয়া কোনো ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। টাকা হস্তান্তরের কোনো কাগজপত্রে খালেদার স্বাক্ষর নেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে কোনোভাবে খালেদা জিয়া জড়িত নন।’

বৃহস্পতিবারও খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন জমিরউদ্দিন সরকার। প্রথম দিন দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

এর আগে আদালত শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘প্রতিদিন কোর্ট সাড়ে ৯টায় বসে। এভাবে দেরি করে ১২টায় আসা যাবে না। এভাবে দেরি করলে আমি কিভাবে আদালত চালাবো? সময়মতো আসবেন। আমি সাড়ে ১০টায় আদালত শুরু করব।’


খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এসময় আপত্তি জানান। আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘১২টায় কেন কোর্টে উঠব বলেন?’

এরপর আজকের (বুধবার) মধ্যে এজে মোহাম্মদ আলীর যুক্তিতর্কের জন্য সময় বেঁধে দেন আদালত।

সময় বেঁধে দেওয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হট্টগোল শুরু করেন।

হট্টগোল শুরু হলে আদালত আজকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন।

পরে আবদুর রেজাক খান আদালতের কাছে অনুমতি চান।


তিনি বলেন, জন এফ কনেডি ও রাজিব গান্ধীর মামলা ৪০ বছর আগে শুরু হয়ে এখনও শেষ হয়নি। মাননীয় আদালত অনুগ্রহ করে আমাদের সময় দেবেন। এরপর ১২টা ১৩ মিনিটে যুক্তিতর্ক শুরু করেন এজে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে বুধবার জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে যান তিনি। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে তিনি রওনা হন বলে জানান তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের জন্য কাল বৃহস্পতিবারও দিন ধার্য রয়েছে।

পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির কার্যক্রম চলছে।

গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি প্রধান খালেদার পক্ষে তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ১০ জানুয়ারি তার যুক্তিতর্ক শেষ করেন। যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় থেকে শুরু করে তিন দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আবদুর রেজাক খান। এরপর এক দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।


মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।


এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

উৎসঃ পরিবর্তন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close