ব্রেকিং:
Home » রাজনীতি » খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করা হচ্ছে !

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করা হচ্ছে !

শের রাজনীতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। পাল্টে দেতে পারে দৃশ্যপট। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষনেতাদের বক্তব্যে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যার মূলে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি মামলা। ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা হবে। ২৫ জানুয়ারি বিচারিক আদালত রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করে দিয়েছেন। এর পর পরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে। তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।

খালেদা জিয়ার মামলার পরিণতি নিয়ে বাহাস শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে কি-না, সাজা হলে কী হবে, না হলে কী হবে, নিম্ন আদালতে সাজা হলেই খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হবেন কি না, সাজা হলে উচ্চ আদালতে আপিল করার পর কী হবে, নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালত স্থগিত করলে বা না করলে কী হবে, স্থগিত না হয়ে উচ্চ আদালতে শুধু বিচারাধীন থাকলে কী হবে বিএনপিতে ভাঙন হবে কি, বিএনপি ছাড়াই কি আবারো একতরফা নির্বাচন হবে? -এ রকম খুঁটিনাটি হিসাব-নিকাশ চলছে রাজনীতির অলিগলিতে। সেই সাথে দেশবাসী আছেন আতঙ্কে। আছে উৎকণ্ঠাও।


কী রায় হবে ৮ ফেব্রুয়ারি? রায় বিএনপির বিপক্ষে গেলে কী কর্মসূচি আসতে পারে? সরকার বিরোধী দলকে দমন করতে কী পদক্ষেপ নেবে? পুলিশ কি আবারও দেশব্যাপী ধরপাকড় শুরু করবে? বিএনপি-জামায়াত সন্দেহে সাধারণ মানুষকেও হয়রানিতে পড়তে হবে নতুন করে? আবারও কি গুম-নিখোঁজ বেড়ে যাবে দেশজুড়ে? এমন নানা প্রশ্ন আর পাল্টা প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। অথচ ২৫ জানুয়ারির আগে মানুষের আলোচনার বিষয় ছিল- সাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। ব্যাংক লুট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নতুন আইজিপি। প্রধান বিচারপতি। সহায়ক সরকার নাকি শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু এ সব ছাপিয়ে এখন আলোচনা একটাই, খালেদা জিয়ার মামলার রায়।

খালেদা জিয়া দেশের সংবিধান অনুযায়ী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে দু’বার জনরায়ে নির্বাচিত। দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদে। ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনের লড়াইয়ে হারের নজির নেই তার জীবনে। দেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক শিবিরের একটির প্রধান খালেদা জিয়া। সবসময় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছেন তিনি। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা যে তার নেই এটাও প্রমাণ করেছেন বারবার। সর্বোপরি খালেদা জিয়া একজন ৭৩ বছর বয়স্ক নারী। তারপরও কোনো সৌজন্য আচরণ পাচ্ছেন না তিনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অভিযোগ, আদালত প্রাঙ্গণে মানসম্মত দূরে থাক, মহিলাদের জন্য সাধারণ মানের কোনো ‘ওয়াশ রুমের’ ব্যবস্থাও নেই। কিন্তু ৭৩ বছর বয়স্ক দেশের একজন নারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সপ্তাহে তিনদিন (১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি) একটি অস্থায়ী আদালতে পূর্ণ কার্যদিবস হাজির থাকতে হয়েছে। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও আদালতে কেটেছে খালেদা জিয়ার। পুত্র কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও তাকে থাকতে হয়েছে আদালতে। বিএনপির দাবি, মূলত খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই সরকার ভিত্তিহীন মামলায় তাকে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দোষী প্রমাণের জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেও সে আশঙ্কার কথা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনকালে তুলে ধরেছেন। বাস্তব অবস্থা দৃষ্টেও তাই মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


সূত্র বলছে, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দৃষ্টিও এখন চেয়ারপারসনের মামলার রায়ের দিকে। তারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর কোনো চেষ্টা হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে। একই কথা বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। সেই সাথে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতেও বলেছেন দলের মহাসচিব। আর আওয়ামী লীগ বলছে, যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। এতে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়ে এখন টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে। এ মামলা ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবিরে জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে সরকারের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরে সাহস ও শক্তি বাড়ছে। সময় যত গড়াবে সরকারের অবস্থান ততই দুর্বল হবে। মামলার রায় ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সবশেষ ২৭ জানুয়ারি রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের জরুরি বৈঠক করেন। এর আগে ২০ জানুয়ারি আইনজীবীদের সঙ্গে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন খালেদা জিয়া।

আদালত সূত্র বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের রায় ঘোষণা হবে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৬ আসামি হলেন- তার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও শহীদ জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের বিশেষ আদালত ৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে দেন।
বাদী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, বিচারক যদি মনে করেন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাহলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন। কম দণ্ড দেয়ারও ক্ষমতা আছে বিচারকের। আর আসামি পক্ষ দাবি করছে, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বাদী পক্ষ। তাই এ মামলায় খালাস পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এদিকে, সরকারের মন্ত্রীরা আদালতে বিচারধীন মামলার রায় নিয়ে আগাম কথা বলায় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। ‘১৫ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে’, ‘একদিনের জন্য হলেও খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে’, ‘নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা হলে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসবে’ বা ‘বাতাসে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের গন্ধ’ পাওয়ার কথা বলছেন তারা। এতে রাজনৈতিক মাঠে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই মধ্যে মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত হওয়ায় মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে একটা মিল খুঁজে পাচ্ছে বিএনপি। তাই বিএনপি নেতারাও ধরেই নিয়েছেন যে, রায়ে খালেদা জিয়া দণ্ডিত হতে যাচ্ছেন।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ এই মামলাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য আর মামলার গতিবিধিতে বিএনপি মনে করছে, সরকার- খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠাতে চায়। এ জন্য মামলার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ক্ষমতাসীন দল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও সে কথা আদালতে মামলা চলাকালে একাধিকবার বলেছেন।


অপরদিকে, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। রায়ের দিন ঘোষণার পর, পরবর্তী করণীয় নিয়ে শুরু হয়েছে এমপি-মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ মহলে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাখা হয়েছে কঠোর অবস্থানে। সেই সাথে মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে, এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রায়ের আগে ও পরে কী ঘটতে যাচ্ছে- সেটা অজানা থাকলেও সরকার ও বিরোধী শিবিরের হুমকি আর পাল্টা হুমকিতে জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।
খালেদা জিয়ার সাজা- বিরল ঘটনা

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদ ছাড়া কোনো শাসককেই মামলায় জেল খাটতে হয়নি। সাংবিধানিকভাবে তিনবার এবং গণরায়ে দুইবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে দ- দিলে ৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকেই তাকে জেলে যেতে হবে। পরের দু’দিন সরকারি ছুটি থাকায় খালেদা জিয়াকে থাকতে হবে কারাগারেই। মামলার সার্টিফাইড কপি ১০ ফেব্রুয়ারি, রোববার সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত যদি জামিন দেন তাহলে হয়তো তিনি মুক্তি পেতে পারেন। তাহলে এটি হবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলাটি তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়। টানা ১০ বছর মামলার বিচার কার্যক্রম চলে। ২১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ২৮ কার্যদিবস বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন উপস্থাপন করে বক্তব্য রেখেছেন।

আইনজীবীরা যা বলছেন
মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়ার যাবজ্জীবন সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। ন্যায় বিচার পেলে তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। প্রসিকিউশনের কোনো এভিডেন্সেই মামলাটি প্রমাণিত হয়নি। সর্বোপরি মামলায় খালেদা জিয়ার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়নি। তারা আশা করছেন- আদালত সাক্ষ্য, কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিলে এ মামলায় খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন। বিএনপির আইনজীবীরা জানান, রায় ঘোষণায় সাজা হলেও তাৎক্ষণিক উচ্চ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা অনেক আগেই নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে যাতে নিম্ন আদালতে সাজা হলেও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনগত কোনো বাধা না থাকে।

কী ভাবছে বিএনপি
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে রাজনীতির মাঠ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সূত্র মতে, রায়ে সাজা হলে কৌশল কী হবে- তা এখনও চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। তবে আগে-ভাগে নেয়া পরিকল্পনা ছাড়াও নতুন নতুন কৌশল বের করতে আলোচনা করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এ নিয়ে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করতে দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া। ২৭ জানুয়ারি রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে- তা স্পষ্ট করে নেতারা না বললেও ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, খালেদা জিয়া জেলে গেলে দল কীভাবে চলবে, কর্মসূচি কী হবে, আইনগত বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে- এসব আলোচনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি হলে রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করে স্থায়ী কমিটিকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। আর, ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির কেউ কেউ। সে ক্ষেত্রে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হতে পারে। সেটি হলেও খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ারই যে একটি লক্ষণ তা আরো পরিষ্কার হবে এবং তাও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে ৮ তারিখের আগে কিছুটা ধোঁয়াসা থেকেই যাচ্ছে।
বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, নিঃসন্দেহে এই রায়ের ফসল সরকার ঘরে তুলতে চাইবে। সরকারের টার্গেট বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করা। তারা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে। কিন্তু সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি। এই নেতার ভাষ্য, ম্যাডামের সাজা হলে আন্দোলনের মাঠে কারা সক্রিয় থাকবে তাদের চিহ্নিত করে সরকার তাদের কৌশল ঠিক করে বিএনপিকে দুর্বল করতে চাইবে। রায়টা বিপক্ষে যাওয়া বিএনপির শক্তি পরীক্ষার একটা টেস্ট কেইসও হতে পারে। আরেক নেতার মতে, ৮ ফেব্রুয়ারি যে রায় দেয়া হবে এই রায়ে খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দিয়ে সরকার বোঝাতে চাইতে পারে বিচার বিভাগ স্বাধীন। তবে পরবর্তী যেকোনো একটি মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপি নেত্রীকে নির্বাচনের অযোগ্য করার পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার। আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত এমন প্রশ্নের জবাবে এক নেতা বলেন, আমরা আন্দোলনের জন্য পুরাপুরি প্রস্তুত না হলেও নেতা-কর্মীদের মনোবল এখন আগের চেয়ে অনেক শক্ত।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত সময়ে নানা ইস্যুতে মাঠে জোরালো অবস্থান না দেখিয়ে আমরা শক্তি সঞ্চয় করেছি। ম্যাডামের সাজা হলে হুট করে শক্তি প্রয়োগ করা হবে কিনা এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস বাকি। তাই বুঝে শুনে পা ফেলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অতীতের মতো ভুল করে আর প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি নন তারা। তাই বলে খালেদা জিয়ার সাজা হলে নেতা-কর্মীরা ঘরেও বসে থাকবে না বলে জানান তিনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা
এদিকে, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটির বিচার কার্যক্রমও দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। ৩০ জানুয়ারি ওই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলার রায়ও দ্রুত হতে পারে বলে ধারণা করছেন আইনজীবীরা। তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ। ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন-খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।


আরও ১৪ মামলা বিশেষ আদালতে
অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারের গতি-প্রকৃতির এই যখন অবস্থা, তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও ১৪টি মামলা বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলার রায় ও আগামী দিনে দলের নেতৃত্ব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি নিয়েই তাদের সব উদ্বেগ। তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, বছরের পর বছর ধরে মামলার জট তৈরি হয়েছে নিম্ন আদালতে। সেদিকে সরকারের তেমন নজর না থাকলেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোয়। বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে প্রতি সপ্তাহের একাধিক দিন। তার প্রতিটি হাজিরার দিন নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। দায়ের করা হচ্ছে নতুন নতুন মামলা।

খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন?
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, ‘নিম্ন আদালতে সাজা হলেই কেউ নির্বাচন করতে পারবেন কি-না, বিষয়টি আসলে আমাদের আইনে স্পষ্ট নয়। নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা হলে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন, এটা স্বাভাবিক। উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ না দেয় এবং আপিল বিচারাধীন থাকলে আইনের স্বাভাবিক হিসাব বলে-কারাগারে থেকেই তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। আর উচ্চ আদালত যদি তার আপিল খারিজ করেন তাহলে অন্য কথা। তাছাড়া উচ্চ আদালতের ইদানীং কিছু রায়ে বিষয়গুলো নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে। যেমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাজা হয়েছিল। হাইকোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেয়, এরপর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ খারিজ করে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়। এর অর্থ হচ্ছে, মামলাটি এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন।

কিন্তু মায়ার মন্ত্রিত্ব কিংবা সংসদ সদস্য পদ তো যায়নি। আপিল করা অবস্থায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। কাজেই এখানে মন্ত্রী মায়ার বিষয়টি একটি উদাহরণ হয়ে থাকছে। এই উদাহরণ ধরে এটা বলা যায়, উচ্চ আদালতে আপিল থাকলে কেউ নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার কথা নয়।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২)(ঘ) উপ-অনুচ্ছেদে সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা আছে। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’ তাহলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন।’ তবে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন গৃহীত হলে উচ্চ আদালত সাজা পরিবর্তন ও রায় স্থগিত করতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। যার উদাহরণ- আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজন দুর্নীতির মামলায় দ-প্রাপ্ত হয়েও আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

আইনজীবীরা জানান, ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এবং দ-বিধির ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ- বা জরিমানা হিসেবে অর্থদ-ও হতে পারে। এই ধারায় আদালত কারাদ- না দিয়ে শুধু জরিমানা দণ্ডও করতে পারেন। কেননা এই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।


সরকারের টার্গেট
এটা পরিষ্কার যে, সরকার আইনি জটিলতার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। দলের চেয়ারপারসনকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ মামলাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারে সরকার। সে ক্ষেত্রে শুধু আইনি লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করা সম্ভব হবে না। আবার রাজনীতির বৃহত্তর পরিসরে আলোচনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনের সুযোগ পেলেও রায়কে হাতিয়ার করে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাবে সরকার।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার গতি-প্রকৃতি দেখে কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছিল যে, রায় ঘোষণার পর বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখে সরকার আগাম নির্বাচনে যেতে পারে। যাতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে বিএনপি দোটানায় পড়ে। প্রার্থিতা নিয়েও দলে বিভক্তি হয়। এই সুযোগে নতুন করে বিএনপি ভাঙার চেষ্টা শুরু করা।

সূত্রমতে, বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে এবার দলের গঠনতন্ত্রের ধারা ৭ এর ‘ঘ’ সামনে আনা হতে পারে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য পদ বা সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা আছে, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তাঁরা হলেন: (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ এর বলে দ-িত ব্যক্তি। (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

কিন্তু, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসব নিয়ে এখন আর তেমন একটা চিন্তিত নন। তারা মনে করেন, দল ভাঙার পরিকল্পনা আদৌ সফল হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে কেউই এ মুহূর্তে বেগম জিয়ার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ দিতে সাহস করবেন না, যতই সরকারের প্ররোচণা থাকুক না কেন। তাছাড়া সরকার যে এখন খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই তা সবারই কমবেশি বোঝা হয়ে গেছে।

কী ঘটবে?
ইতিপূর্বে আদালতে যেতে বেগম খালেদা জিয়ার দারুণ অনীহা ছিল। এ মামলায় অন্তত দেড়শ’বার তিনি সময় নিয়েছেন, আদালতে যাননি। ছয়বার মামলার বিভিন্ন দিক চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে আপিল করেছেন। মামলার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করেছেন। বকশী বাজারে আদালত স্থাপন নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস বিদেশে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া গত অক্টোবরে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পরই সেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মামলার ভয় তার কেটে যায়। তিনি নিজেই বকশীবাজারে যেতে উৎসাহী হয়ে উঠেন। মামলার কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নেন। লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি সাফাই স্বাক্ষী দেয়া শুরু করেন। স্থায়ী জামিনের আবেদন বার বার প্রত্যাখান করার পরও তিনি বিচলিত হননি, এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাননি, বিচারকের বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ আনেননি।

বরং আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় তাকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়। বকশীবাজার আদালতের চারপাশে নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় তার উৎসাহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আদালতে যাওয়া এবং আসার পথে কর্মীদের উপস্থিতিও তাকে ব্যাপকভাবে স্বস্তি দেয়। সপ্তাহে তিনদিন শুনানি দিলেও বেগম জিয়া আপত্তি করেননি। এমনকি মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন, কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরও তিনি আদালতে গেছেন। গত তিন মাসে বেগম জিয়ার ‘আদালত যাত্রা’ ঢাকায় বিএনপির সংগঠনে নতুন প্রাণ দিয়েছে বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন।


বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, বেগম জিয়ার নিয়মিত আদালতে যাবার ফলে ঢাকার বিএনপি এখন অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। অথচ এই ঢাকাই ছিল বিএনপির ব্যর্থতার প্রধান স্থান। এখন বিএনপি মহানগরী সংগঠন গুছিয়ে নিতে পেরেছে। কর্মীরাও আস্তে আস্তে মনোবল ফিরে পেয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বেগম জিয়ার আদালতে যাওয়া আসার পথে কর্মীর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন সড়কের পাশে অবস্থান নেয়। ফলে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানায়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়। তারপরও নেতা-কর্মীরা দমে যায়নি।

বিএনপির একজন নেতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বেগম জিয়ার এই চলাচল ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছে ইতিমধ্যে। বিএনপির অন্য নেতা মনে করেন, দেশে গণঅভ্যুত্থানের সব রসদই মজুত আছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুম-খুন, ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি কারণে মানুষের দমবন্ধ অবস্থা। এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার রায় বারুদের স্তুপে একটা দেয়াশলাই এর মতো কাজ করতে পারে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা রাজপথে গণঅভ্যুত্থানের গন্ধ পাচ্ছেন। সেজন্যই মামলার রায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ দৃঢ় এবং চিন্তামুক্ত মেজাজে বেগম জিয়া।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাজপথে থাকবে আ.লীগ
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়কে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। রায়কে ঘিরে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে সারা দেশে। এ ছাড়া আদালতের রায়কে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেও এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, এর আগে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করতে পেরেছিলেন। সামনেও এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close