ব্রেকিং:
Home » আন্তর্জাতিক » ট্রাম্পের পাকিস্তান-নীতির নেপথ্যে পরমাণু অস্ত্রের ভীতি?

ট্রাম্পের পাকিস্তান-নীতির নেপথ্যে পরমাণু অস্ত্রের ভীতি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাকিস্তানবিরোধী পদক্ষেপকে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তারা বলছেন, ওই নীতির আলোকে ব্যয় সংকোচনের যে পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে পাকিস্তানে সহায়তা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ট্রাম্প নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি যা করছেন, পূর্ববর্তী ওবামা প্রশাসনই একই ধরনের ভূমিকা নিয়েছিল। বিশ্লেষকরা এর নেপথ্যে মার্কিনবিরোধী জঙ্গিবাদের ভীতি দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানতম ভীতি হলো, পাকিস্তানে দ্রুত বিকাশমান পারমাণবিক অস্ত্রের কর্তৃত্ব সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি হাতিয়ে নিতে পারে জঙ্গিরা


গত বছরের আগস্টে ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। ইকোনমিক টাইমস এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, আগস্টে এই নীতি ঘোষণার সময়েই ট্রাম্প পাকিস্তানকে ‘সহিংসতা, নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসীদের এজেন্টদের নিরাপদ স্বর্গ’ দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, পাকিস্তানের জন্য সময় এসেছে সভ্যতা, শান্তি, শৃঙ্খলায় তাদের প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নের। ওই কর্মকর্তা বলেন, আফগানিস্তানের লেন্স দিয়ে পাকিস্তানকে দেখা ট্রাম্পের নীতি নয়। তার নীতি হলো এই অঞ্চল আর যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি ফেরানো।

পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে নজর সরায়নি, তা দেখা গেছে গত কয়েকদিনের তৎপরতাতেও। সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে। তবে এটা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দেওয়া নতুন কোনও সাজা নয়। ওবামা প্রশাসনও বেশ কয়েক বছর পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। জোটের সহায়তা তহবিল (সিএসএফ)-এ ১০০ কোটি ডলার সহায়তার অনুমোদন দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আইন পাস হলেও পাকিস্তানকে শর্তসাপেক্ষে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে শর্ত ছিল, পাকিস্তানকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে লস্কর-ই-তৈয়বার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।


যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিরাপদ স্বর্গ গড়ে তুলতে দিয়েছে পাকিস্তান। আর সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের শর্ত পূরণ করেছে বলে মার্কিন প্রশাসন যদি অনুমোদন দিতো তখনই কেবল ওই সহায়তা প্রদান করা হতো। বেশ কয়েকবারই দেখা গেছে মার্কিন প্রশাসন সেই অনুমোদন দিতে সংশয় প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান বরাবর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা কঠোর করেছেন। এর শেষ ফলাফল হিসেবে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা এসেছে।

প্রধান কৌশলবিদ এইচ.আর. ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প

আটলান্টিক কাউন্সিল স্ট্র্যাটেজিক ফোরসাইট-এর পরিচালক ম্যাথিউ বরোস ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে আক্রমণাত্বক আখ্যা দিয়েছেন। তবে এর মধ্যে কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ম্যাথিউ-এর মতে, একটাই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ রয়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে। তা হলো, পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধ করা। যদিও তিনি নিজেই এই পদক্ষেপকে আত্মঘাতী আখ্যা দিয়েছেন।


নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের বাস্তবতা বদলাবে না। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বলা হয়েছে অবিবেচনাপ্রসূত।

হাক্কানি নেটওয়ার্ক, তালেবান ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তান তহবিল যুগিয়ে যাচ্ছে বলে ক্রমাগত অভিযোগ করে যাওয়ার পরও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ট্রাম্পের ঘোষণার পরও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, সহায়তা স্থগিত সাময়িক। আর এটি আপাতত স্থগিত করা হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে বেঈমান বলতেও ছাড়েনি তারা। তবুও মার্কিন প্রশাসন সম্পর্ক রক্ষা করে চলার কথা বলে যাচ্ছে। কিন্তু কেন?

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি ক্রিস্টিন ফেয়ার মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে বড় ভয় পাকিস্তানের খুবই দ্রুত বিকাশমান পারমাণবিক প্রকল্প। ওয়াশিংটনের শঙ্কা, পাকিস্তানের অস্থিরতার মধ্যে জঙ্গিরা দেশটির পারমাণবিক প্রকল্পের মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে পারে। তাদের হাতে এই অস্ত্র চলে গেলে জঙ্গিরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী পদক্ষেপ জোরালো করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।


ফিয়ার লিখেছেন, অভিযোগ করা হয়, অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তঃদেশীয় ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্য পাকিস্তান একটি স্বর্গরাজ্য এবং দেশটির মদদ পেয়েই এগুলোর উত্থান ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর আশঙ্কা, পাকিস্তানে যেকোনও ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে দেশটির পারমাণবিক প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র উপকরণ কিংবা পারমাণবিক ডিভাইস জঙ্গিদের হাতে চলে যাবে। এটাই ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close