Home » রাজনীতি » ঢাকায় মেয়র প্রার্থীরা মাঠে

ঢাকায় মেয়র প্রার্থীরা মাঠে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার পরপরই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সরব হয়েছেন। এরই মধ্যে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী নেতা বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। এর বাইরেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী। কেউ কেউ মনোনয়ন চেয়ে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন।


অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনিই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে সাবেক এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এবং বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদও নির্বাচনে আগ্রহী। পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, সিপিবি ও বাসদ থেকে আবদুল্লাহ আল ক্বাফীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগ : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে এককভাবে লড়বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মতোই একজন গতিশীল প্রার্থী করতে চায় দলটি। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানাভাবে লবিং-তদবির করছেন। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছি— এমন দাবি নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করছেন ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। তবে আশাবাদী দলের অন্য নেতারাও। তারাও সমানতালে বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


আতিকুল ইসলাম ছাড়াও এখানে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সে কারণে কে প্রার্থী হবেন তা চূড়ান্ত করেনি। দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। আমি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। মেহেদী আরও বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার অন্যতম একজন আইনজীবী। ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহতমউল্লাহ, মিরপুরের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণিসহ এক ডজন নেতা। পাশাপাশি বৃহত্তর নোয়াখালীর ভোটের কথা বিবেচনায় নিয়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম দলের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

তাবিথই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অনেকটাই চূড়ান্ত। বিগত নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাবিথ আউয়ালই প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে মাঠে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গতকাল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্রাথমিকভাবে তাবিথ আউয়ালের নামটিই বিএনপির তালিকায় রয়েছে। তবে দলের শিগগিরই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তাবিথ আউয়ালও বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, দল আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো। তবে তাবিথ ছাড়াও গুলশান এলাকা থেকে চারবার নির্বাচিত এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এবং বিএনপির সহ প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদও শক্ত প্রার্থী। এরমধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে শাকিল ওয়াহেদের নামে পোস্টার উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে। তার লন্ডন ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মেজর কামরুলেরও উত্তর সিটিতে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। চারবার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় উত্তর সিটি করপোরেশনের অলিগলি তিনি সবই চেনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, দল তাকে প্রার্থী হিসেবে প্রতীক দিলে বিজয় অনিবার্য। তবে দলের সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেবো।


জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র ব্যানারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে লড়বে দলটি। সমপ্রতি জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের এক সভায় দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিন থেকেই অবশ্য জামায়াতের প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। দলটির শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগেরই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের বড় একটি অংশ কারাগারে।

জামায়াতের আগেভাগে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখনও নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। তবে নির্বাচন হলে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ঢাকা উত্তর সিটি করপারেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে লড়বেন। তিনি বলেন, জোটের ওপর কোনও ধরনের প্রভাব পড়বে কিনা তা তফসিল ঘোষণার পর বোঝা যাবে। জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রভাবশালী একজন সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপির ঘুম ভেঙ্গেছে। আমাদের প্রার্থীকে বসানোর চেষ্ঠা চলছে। এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।


যোগ্য প্রার্থীর সন্ধ্যানে জাতীয় পার্টি : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় চললেও মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, তারা এখন পর্যন্ত পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে এই নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত পাননি।

জানতে চাইলে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, এখনো জাতীয় পার্টির প্রার্থী চুড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে যার গ্রহনযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে তাকেই পার্টির চেয়াম্যান মনোনীত করবেন।

এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনে ভূমিধস বিজয়ের পর ধারণা করা হচ্ছিল, ঢাকা উত্তর সিটিতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। কিন্তু, দলটির ভেতরে এ নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনা নেই বললেই চলে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দল এই নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তা করেনি। উত্তরে প্রার্থী দেওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি কোনো প্রার্থী দেবে না। কারণ, এই মুহূর্তে নির্বাচন করার মতো অবস্থানে দল নেই। এরপরও আমার কথা চূড়ান্ত নয়। সিদ্ধান্ত নিবেন চেয়ারম্যান এরশাদ নিজে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জাতীয় পার্টি সমর্থন দিতে পারে। বিনিময়ে গাইবান্ধা—১ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার দাবি জানানো হবে। তিনি বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে পর ঢাকা উত্তরে প্রার্থী না দিলে জাতীয় পার্টির ইমেজ ক্ষুন্ন হবে।


ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ : নিরাপদ, আধুনিক ও শান্তির ঢাকা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ- নির্বাচনে আবারো মাঠে নামছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। গত নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে কমলালেবু প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮ হাজার ৫শ’ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। এবারো মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা উত্তর সিটি করপারেশনে প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের নাম ঘোষনা করেছে।

জানা যায়, শেখ ফজলে বারী মাসউদ দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সর্বশেষ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের টানা চারবার কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

উৎসঃ বিডি-প্রতিদিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close