Home » বিশেষ সংবাদ » তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বাড়তি সুবিধার প্রত্যাশা বিএনপিতে

তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বাড়তি সুবিধার প্রত্যাশা বিএনপিতে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বয়সে তরুণ হলেও বিগত নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নেতা প্রার্থী হলে উপ-নির্বাচনে কৌশলে এগিয়ে থাকবে বিএনপি।

এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ‘বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি’র (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। বয়সের দিক থেকে তাবিথ আউয়াল তার চেয়ে তরুণ। এছাড়া সরাসরি তার বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টুর হাত ধরে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় আছেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিজ্ঞতার তো অবশ্যই একটা মূল্য আছে। তাবিথ এর আগে নির্বাচন করেছেন। যার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তিনি অনেক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এবার আওয়ামী লীগের যে প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে, তিনি কখনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অন্যদিকে তাবিথ দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি এই নির্বাচনে তাবিথকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে একটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাবিথ আউয়াল গতবার নির্বাচন করেছেন, তার সেই অভিজ্ঞতা তো আছেই। এটা বিএনপির জন্য একটা সুবিধা। এটাকে বাড়তি সুবিধা বলা না গেলেও, তবে একটা সুবিধা বলা যায়। আর অন্যদিকে যিনি নতুন করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, যতটুকু জানি, তিনি কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার সঙ্গে আমরা ব্যক্তিগতভাবেও পরিচয় আছে।’


আবদুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, ‘আতিকুল ইসলাম একটা আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছা থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তিনি মেয়র হবেন। কিন্তু আমরা তো রাজনীতিকে সেভাবে দেখি না। আমরা মনে করি, নির্বাচনে একটা রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকা দরকার।’ তার ভাষ্য, ‘নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু রাজনৈতিক কমিটমেন্ট না থাকলে দৃশ্যত কেউ যদি মনে করে আমি অনেক কিছু করতে পারবো, সেটা কমিটমেন্ট ছাড়া হয় না। সেই কমিটমেন্ট এখনও আতিকুল ইসলামের কাছে দেখিনি। ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে। তেমনি তার কোনও সামাজিক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও দেখা যায়নি।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘তাবিথ আউয়াল দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। তার নির্বাচনে দাঁড়ানো রাজনৈতিক কারণেই। ব্যক্তিগত কোনও ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা বা উচ্চ বিলাসিতার জন্য নয়। এখানেই তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের পার্থক্য।’

বিএনপিনে তারা মনে করছেন, প্রার্থীর কথা বাদ দিলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে বিএনপিকে বেছে নেবে ভোটাররা। আর সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও কোনও লাভ নেই।


দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর জন্য অভিজ্ঞতা বা বাড়তি কোনও সুবিধার দরকার নেই। আমাদের অভিজ্ঞতা বা বাড়তি যেই সুবিধা থাকুক না কেন, এখানে সরকার একটা বড় শক্তি। সরকার যদি ইচ্ছা করে নির্বাচনে বিএনপিকে জয়লাভ করতে দেবে না, তাহলে দেশের জনগণের কতটুকু শক্তি আছে আমাদের জয় এনে দেওয়ার? তবে যদি জনগণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারে, তাহলে বিএনপির জয় শতভাগ নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের জন্য পরাজয় শতভাগ নিশ্চিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার নির্বাচন সুষ্ঠ করবে কিনা?’

উৎসঃ banglatribune

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close