ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » তারেকের মুখে ‘লন্ডন’ গণতন্ত্র, ভেতরে ১৮ জন বহিষ্কার

তারেকের মুখে ‘লন্ডন’ গণতন্ত্র, ভেতরে ১৮ জন বহিষ্কার

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারমান তারেক রহমান মুখে যতই লন্ডনী গণতন্ত্রের কথা বলেন না কেন ভেতরে ভেতরে তিনিও গণতন্ত্র চর্চা করেন না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। লন্ডনে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা গত দুই বছরে ১৮ জন বহিস্কার হয়েছেন। ফলে দলের মধ্যে তার এই গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।এদিকে, ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে শনিবার আয়োজিত বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তারেক রহমান ১৬ মিনিট ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে বক্তব্য রেখেছেন। বক্তব্যে তিনি কথায় কথায় সরকারকে ‘অবৈধ’ বলেছেন। তারেক রহমানের এমন বক্তব্য নিয়েও লন্ডনের রাজনীতিতে চলছে নানা কথাবার্তা।

লন্ডনের নানা সূত্র দাবি করছে, তারেক রহমান এখনো হাওয়া ভবনের সেই অবৈধ প্রভাব নিয়ে ক্ষমা চাননি। বরং লন্ডনে বিকল্প হাওয়া ভবন তৈরি করেছেন। হাওয়া ভবনের সব চেলা চামুন্ডারা এখন লন্ডনে তার সান্নিধ্যে। এছাড়া তৈরি হয়েছে নতুন নতুন মামুনরা। যারা জীবনে কোনদিন বিএনপি না করলেও এখন বিশাল ক্ষমতাধর লন্ডন হাওয়া ভবনের প্রভাবে। উল্লেখ্য, লন্ডন হাওয়া ভবনের স্টাফরা জীবনে বিএনপি করেননি। কিন্তু দাবড়িয়ে বেড়ান বিএনপির সিনিয়র নেতাদের। অনেক সময় জাতীয় স্থায়ী কমিটির উপরে তারা প্রভাব বিস্তার করেন।

monitorbd

আরো পড়ুন >> যাদের পরামর্শে পরিকল্পনা করে এগুচ্ছেন খালেদা জিয়া

রায়কে ঘিরে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করতে নানা পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে রায়ের আগের দিন বুধবার খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করবেন। আজ সোমবার তিনি সিলেট যাচ্ছেন। গতকাল রোববার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেছেন। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শনিবার খালেদা জিয়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির ‘সফল’ বৈঠক করেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শেই খালেদা জিয়া উল্লিখিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন বলে দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য আছে। বিএনপি ও সমমনা বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় সাজা ধরে নিয়েই দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বিএনপি কর্মসূচি সাজাচ্ছে। জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে সামনের দিকে এগোবে বিএনপি। রায়ের দিন মানববন্ধন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে দলটি।সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ওই সময়ে মামলা ও আদালতে হাজিরা দেওয়া বিষয়ে তারা খালেদা জিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দেন।

তাদের উল্লেখযোগ্য পরামর্শ হচ্ছে আগামীদিনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট করা, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফর করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলন করে নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া।জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের পরামর্শগুলো বিএনপি চেয়ারপারসন শুনেছেন। তিনি তো সোমবার সিলেটে যাচ্ছেন। আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি বের হলেই মানুষ আপনার পেছনে ছোটে। হাজার হাজার মানুষ আপনার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। এটাকে বন্ধ করতেই সরকার কৌশলে সপ্তাহে তিনদিন আদালতে হাজিরার ব্যবস্থা করেছে, যেন আপনি ঢাকার বাইরে যেতে না পারেন। আপনি কক্সবাজারে গিয়েছেন, পথে-পথে মানুষের ঢল নেমেছিল। আপনি বলেছেন নির্বাচন করবেন, হ্যাঁ আপনাদের নির্বাচন করতে হবে। রাজপথে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। শক্তভাবে রাজপথে থাকলে ভুল কম হবে। তিনি বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বলেছি, আপনি একা যুদ্ধ না করে সম্মিলিত বিরোধী দলকে নিয়ে মোকাবিলা করুন। বিশেষ করে যুক্তফ্রন্ট করেন। আমাদের কাজ হচ্ছে পরামর্শ দেওয়া। নেওয়াটা তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জানা গেছে, বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শগুলো আমলে নিয়ে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে আনার কাজ চলছে। সফল হলে এটির নাম হবে যুক্তফ্রন্ট। এই যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে আগামীদিনে আন্দোলন ও নির্বাচন হবে। এদিকে রায়ের আগে কক্সবাজারের মতো পথে-পথে আরেকটি জনতার ঢল নামাতে সিলেট যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। গতকাল নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চেয়ারপারসন হযরত শাহজালাল (রহ) ও শাহ পরান (রহ) মাজার জিয়ারত করতে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেটের উদ্দেশে সড়ক পথে রওনা হয়েছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ তারা। তারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক। খালেদা জিয়া তাদের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেট যাচ্ছেন। জানতে চাইলে বলেন, খালেদা জিয়া তো এখন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তিনি দেশের যে প্রান্তেই যান, তার কথা শুনলেই অভ্যর্থনা জানাতে মানুষের ঢল নামে। এখানে কোনো প্রস্তুতির বিষয় নেই।

জানা গেছে, রায়ের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন দলীয় নেতাকর্মী, দেশবাসী, বিচারক, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসন এবং সরকারের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। একই সঙ্গে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে রক্ষার আহ্বান জানাবেন।এদিকে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শনিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সফল সভা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন বিএনপি নেতারা। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাহী কমিটির নেতাদের সামনে চেয়ারপারসন যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা ঐতিহাসিক। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নেতাকর্মী ও দেশবাসী কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তা হচ্ছে কোনো ধরনের সহিংসতা করা যাবে না।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা চেয়ারপারসনের সামনে মন খুলে কথা বলেছেন। তারা তাদের মতামত দিয়েছেন। চেয়ারপারসনও নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। এতে নেতাকর্মীরা যেমন উজ্জীবিত হয়েছে, দলও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যা ভূমিকা রাখবে।

নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হতে রক্ষা পান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল। এ ছাড়াও বৈঠক চলাকালে ৩৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, নানা বাধা উপেক্ষা করে নেতারা নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সাহসিকতায় এই বৈঠক সফল করেছে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য উঠে এসেছে, যা আগামীদিনে দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।রায়কে সামনে রেখে গতকাল রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। এ বৈঠকে নির্বাহী কমিটির সভার রেজুলেশন পাস করা হয়। এ ছাড়া রায়ের দিনের কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

সিলেট ব্যুরো জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের সিলেট সফরে দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন বলে আশা করছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। তবে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বৈরী আচরণের অভিযোগ এনেছেন তারা। প্রচারের জন্য মাইকিং করতে দেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়া সিলেট পৌঁছে প্রথমে মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সিলেট সার্কিট হাউসে রাতযাপন ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, দিলদার হোসেন সেলিম, শফি আহমদ চৌধুরী, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বদরুজ্জামান সেলিম, আলী আহমদ প্রমুখ।

monitorbd

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close