ব্রেকিং:
Home » শীর্ষ সংবাদ » দীঘদিন পর আবার জামায়াতের হরতালে আবার জনমনে আতঙ্ক !

দীঘদিন পর আবার জামায়াতের হরতালে আবার জনমনে আতঙ্ক !

জামায়াতের ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ড.শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ডের প্রতিবাদে দলটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষনা করেছে। দীঘদিন পর আবার জামায়াতের শীর্ষনেতা ও বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড় এবং হরতালে আবার জনমনে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

গত সোমবার রাতে উত্তরায় জামায়াতের এক ঘরোয়া বৈঠক থেকে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরোয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাদের আদালতে তোলা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবী দুটি মামলায় তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিনের জামায়াতের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ আট নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হঠাৎ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারে সারাদেশে জামাত শিবির আবারো প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং শুর করেছে। সোমবার রাতেই নেতাকর্মীরা তাৎক্ষনিকভাবে মোহাম্মদপুর, মহাখালী, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। মঙ্গল ও বুধবার রাজধানীসহ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার এবং ২০১২ সালের পর থেকে শীর্ষনেতাদের যুদ্ধাপরাধী মামলার রায় দিলে দেশব্যাপী জামায়াত নতুন করে একটি শক্তির জানান দেয়। ২০১৩ -১৫ সালে জামায়াতের হরতাল অবরোধে পুলিশের সাথে জামাত-শিবির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই সময় দেশের উত্তরাঞ্চল সহ নোয়াখালী,চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং রাজধানী জামাত-শিবিরের হরতালে স্থবির হয়ে যায়। হরতালে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা,ব্যবসা ও অর্থনীতি ভঙ্গুর রুপ ধারন করে। নতুন করে জামায়াতের হরতালে তাই সারাদেশের মানুষের মাঝে সংশয়,ভয় ও আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার জামায়াতের হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশ রাজধানীসহ সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান,জামাত-শিবিরের হরতালকে কেন্দ্র করে যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে তাই পুলিশ সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহজনক লোকজন হলে তাকে তল্লাশি করা হবে।

বুধবার সন্ধ্যার পর হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, সাতরাস্তা তেজগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, মৌচাক, মিরপুর, কাজিপাড়া, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন, হাইকোর্ট মোড়, মগবাজার, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, ফার্মগেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, হাজারীবাগসহ পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর সড়কগুলোতে সিটিং সার্ভিস লোকাল বাস,প্রাইভেট কার সহ যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। বিভিন্ন স্থানে লোকজন দোকান,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামীকাল জামায়াতের ডাকা হরতাল সহিংস রূপ নিলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ahrambd.com

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close