ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির’সহ গ্রেপ্তার-১১

নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির’সহ গ্রেপ্তার-১১

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জেলা জামায়াতের আমির’সহ ১১জন জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পৃথক পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মতিন লিটন’সহ ১১জন নেতাকর্মী।

পুলিশ কন্টোল সূত্রে জানা গেছে, নাশকতার মামলায় ও পুনঃরায় নাশকতা সৃষ্টির আশংকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের কারগারে প্রেরণ করা হবে।

somoyerkonthosor

রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে লাভবান হবে বিএনপিই!

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর আরেকটি নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিএনপি। এ বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে যেকোনও মূল্যে দলটির অংশগ্রহণ দেখতে চান বিএনপি মতাদর্শের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা।

তারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না বিএনপির। আর এই বিভ্রান্ত হওয়ার সবরকম সুযোগই আসছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এদিন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি হিসাব-নিকাশ করে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি লাভবান হবে। খালাস পেলেও লাভবান হবে।

তারা জানান, রায়ের দিন থেকেই ‘নতুন মোড়’ নেবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শনিবার বিএনপির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে কোনো বিপদে ঐক্যবদ্ধ থেকে মোকাবেলা করার অঙ্গীকার দিয়ে গেছেন মাঠ-নেতারা।

বিএনপি নেতাদের মতে, মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়ে কারাবন্দি হলে সারাদেশে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে। তাকে বেশিদিন কারাবন্দি করেও রাখা যাবে না। দ্রুত উচ্চআদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে যাবেন তিনি। জামিনে চেয়ারপারসনের কারামুক্তিতে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে উচ্ছ্বস করার সুযোগ পাবেন। আবার রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালেদা জিয়া খালাস পেলেও দেশব্যাপী রাজপথে আনন্দ বা বিজয় মিছিলে নামবেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

একই সঙ্গে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হয়রানি করার অভিযোগ এনে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামতে কতটা সাহসী, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনের বাইরে রাখতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মামলাগুলো তড়িঘড়ি করে রায় দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তবে তারা আশা করেন, খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পেলে নির্দোষ প্রমাণ হবেন।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার রায় যাই হোক, আখেরে লাভবান হবে বিএনপিই। ওই দিনই হবে রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’।

বিএনপি নেতারা জানান, দলের চেয়ারপারসনের রায়কে সামনে রেখে ৩ ফেব্রুয়ারি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। সরকারের অনেক বাধাবিঘ্ন ও গণগ্রেফতারের মধ্যেই নির্বাহী কমিটির সভা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। বৈঠকে নেতাকর্মীদের আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি বার্তা দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এদিকে রায়কে ঘিরে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করতে নানা পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে রায়ের আগের দিন বুধবার খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করবেন। আজ সোমবার তিনি হযরত শাহজালাল (রহ) ও শাহ পরান (রহ) মাজার জিয়ারত করতে সিলেট যাচ্ছেন।

বিএনপি ও সমমনা বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় সাজা ধরে নিয়েই দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বিএনপি কর্মসূচি সাজাচ্ছে। জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে সামনের দিকে এগোবে বিএনপি। রায়ের দিন মানববন্ধন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে দলটি।

সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। ওই সময়ে মামলা ও আদালতে হাজিরা দেওয়া বিষয়ে তারা খালেদা জিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দেন। তাদের উল্লেখযোগ্য পরামর্শ হচ্ছে আগামীদিনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট করা, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফর করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলন করে নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া।

জানতে চাইলে গতকাল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের পরামর্শগুলো বিএনপি চেয়ারপারসন শুনেছেন। তিনি তো সোমবার সিলেটে যাচ্ছেন। আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি বের হলেই মানুষ আপনার পেছনে ছোটে। হাজার হাজার মানুষ আপনার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। এটাকে বন্ধ করতেই সরকার কৌশলে সপ্তাহে তিনদিন আদালতে হাজিরার ব্যবস্থা করেছে, যেন আপনি ঢাকার বাইরে যেতে না পারেন। আপনি কক্সবাজারে গিয়েছেন, পথে-পথে মানুষের ঢল নেমেছিল। আপনি বলেছেন নির্বাচন করবেন, হ্যাঁ আপনাদের নির্বাচন করতে হবে। রাজপথে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। শক্তভাবে রাজপথে থাকলে ভুল কম হবে।

তিনি বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বলেছি, আপনি একা যুদ্ধ না করে সম্মিলিত বিরোধী দলকে নিয়ে মোকাবিলা করুন। বিশেষ করে যুক্তফ্রন্ট করেন। আমাদের কাজ হচ্ছে পরামর্শ দেওয়া। নেওয়াটা তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জানা গেছে, বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শগুলো আমলে নিয়ে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে আনার কাজ চলছে। সফল হলে এটির নাম হবে যুক্তফ্রন্ট। এই যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে আগামীদিনে আন্দোলন ও নির্বাচন হবে।

এদিকে রায়ের আগে কক্সবাজারের মতো পথে-পথে আরেকটি জনতার ঢল নামাতে সিলেট যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। গতকাল নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, মামলার রায়ে সাজা হলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বে ‘চমক’ আনতে পারেন খালেদা জিয়া। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে সংকটের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য চারটি পদ নতুন যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পূরণ করে যেতে পারেন তিনি। তবে ওইসব পদে কাদের আনা হতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে শূন্য পদগুলো পূরণ করতে পারেন।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা জানান, ভবিষ্যতে দলের যে কোনো পরিস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএনপি হাইকমান্ড। দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটিতে শূন্য রাখা দুটি পদ এবং পরে দুই নেতার মৃত্যুতে শূন্য আরও দুটিসহ মোট চারটি পদ পূরণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

somoyerkonthosor

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close