Home » জাতীয় » পুলিশের চাকরিতে সন্তুষ্টি নেই, এভাবে কাজ করা যায় না : আইজিপি

পুলিশের চাকরিতে সন্তুষ্টি নেই, এভাবে কাজ করা যায় না : আইজিপি

পুলিশের চাকরিতে সন্তুষ্টি নেই জানিয়ে বাহিনীটির প্রধান এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন, এমন সন্তুষ্টি ছাড়া দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৩৮তম সাধারণ সভায় এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

গত সোমবার পুলিশ সপ্তাহ শুরুর পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া এক প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোকে ভারসাম্যহীন দাবি করেন। বলেন, পদ না থাকায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া যাচ্ছে না বলে শীর্ষ পদে থাকাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা রয়েছে।


পুলিশ সপ্তাহের চতুর্থ দিন বাহিনীটির কর্মকর্তাদের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কথা বলেন। চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথাও বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘জব সেটিসফেকশন না থাকলে মনে কষ্ট দিয়ে দায়িত্ব পালন করা যায় না। আমাদের গ্রেড-১ পদ পাঁচটি থাকার কথা। সেখানে রয়েছে দুইটি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত দিলেও তা প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই হচ্ছে না।’

২০১৭ সালের পুলিশ সপ্তাহেও এই বিষয়টি তোলা হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। তখন পুলিশ আরও গ্রেড ওয়ান পদ সৃজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে পদ সৃজন না হওয়ায় এবারের পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মত বিনিময়ে গিয়ে বিষয়টি তুলেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।


এই বিষয়টি ছাড়াও পুলিশের রেশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন আইজিপি। পুলিশ সদস্যরা মারা গেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের রেশন চালু রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্য মারা গেলে তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়, তাদের রেশন বন্ধ হয়ে যায়। এটা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।’

পুলিশের অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের আবাসনের সংকট রয়েছে, যানবাহনের সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা কাজ করছি।’

এবার পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা খাতে বিনিয়োগকে খরচ হিসেবে দেখেন না। এটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন তিনি। সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় পুলিশের ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে ধরেন। কাজেই আমাদের সক্ষমতা মানেই জনগণের সক্ষমতা।’


ওবায়দুল কাদেরকে এসব বিষয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আপনি দলের সেক্রেটারি। আপনার কথার মূল্য আছে। আমরা সক্ষমতা চাই জনগণের জন্য।’

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জিডিপি অর্জনে সফল করতে সহযোগিতা করেছি। দেশে বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি অর্জনে সহযোগিতা করেছি। আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু দাবি করি না। আমাদের সক্ষমতা, আমাদের সাহসিকতা জনগণের জন্য।’


পরে ওবায়দুল কাদেরও পুলিশের নানা সীমাব্ধতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, বলেন, ‘হাইওয়ে দেখি পুলিশ অপরাধের ঘটনাস্থলে যান সিএনজিতে চড়ে। আমাদের দেশে সন্ত্রাসীরা যে অস্ত্র ব্যবহার করে সেই অস্ত্র এখনও পুলিশের কাছে নেই।’ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো গেলে পুলিশ আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারত বলে বিশ্বাস করেন সড়ক মন্ত্রীও।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক প্রশাসন মোখলেসুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close