Home » খেলা » বাবা অপারেশন থিয়েটারে, উদ্বেগ ভুলে ছেলের ১৭২ রান

বাবা অপারেশন থিয়েটারে, উদ্বেগ ভুলে ছেলের ১৭২ রান

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার সাহসী ব্যাটিং আর সেঞ্চুরি দেখে অনেকে হতবাক। তবে বিন্দুমাত্র বিস্মিত নন সঞ্জয় ভরদ্বাজ। আরও কঠিন পরিস্থিতিতে যে ছাত্র মনজ্যোৎ কালরাকে রান করতে দেখেছেন তিনি। এমনকী, বাবা যখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখনও মাঠে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন দিল্লির ক্রিকেটার!

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতের যুব দলের বিশ্বজয়ের পরের দিন ‘এবেলা খেলা’ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছিল ভরদ্বাজের সঙ্গে। যিনি দিল্লির ক্রিকেট মহলে বেশ পরিচিত নাম। তার ভরতনগর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে খেলেই উত্থান গৌতম গম্ভীর, আশিস নেহরা, উন্মুক্ত চন্দ, নীতিশ রানাদের। মনজ্যোৎ যখন দাদা হিতেশ কালরার সঙ্গে ভরদ্বাজের অ্যাকাডেমিতে এসেছিলেন, তখন তার বয়স ১৪ বছর। মনজ্যোতের ক্যারিয়ারের প্রত্যেকটা মুহূর্ত তার নখদর্পণে।


ভরদ্বাজ বললেন, ‘‘মনজ্যোৎ খুব লড়াকু ছেলে। ও যে ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে জ্বলে উঠতে পারে, সে বিশ্বাস আমার ছিল। সেই বিশ্বাসই প্রতিষ্ঠিত হল শেষ পর্যন্ত। আমি ভীষণ খু‌শি।’’ তারপরই ভরদ্বাজ শোনালেন সেই কাহিনি। বললেন, ‘গত বছর নভেম্বরে মনজ্যোতের সময়টা খুব কঠিন ছিল। কুয়ালালামপুরে এশিয়া কাপে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নজর কাড়ার মতো কিছুই করতে পারেনি। বিশ্বকাপের দলে ওর জায়গাও নিশ্চিত ছিল না। দেশে তখন ওর বাবাকে নিয়ে কার্যত যমে-মানুষে টানাটানি চলছিল। ওপেন হার্ট সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। এদিকে তখন দিল্লির সঙ্গে পঞ্জাবের কোচবিহার ট্রফির ম্যাচ। বাবার অপারেশনের দিনই মনজ্যোৎ সেই ম্যাচটা খেলেছিল। ১৭২ রান করেছিল। ওই ইনিংসটাই বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলে ওর জায়গা পাকা করে দিয়েছিল।’’

শুনলে মনে হবে, পিতৃবিয়োগের পর সচিন টেন্ডুলকর-বিরাট কোহলিদের মাঠে নেমে পড়ার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় মনজ্যোতের লড়াই। ভরদ্বাজ বলছেন, ‘‘বয়স বাঁড়ানো নিয়ে ওকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাতেও ওর নিষ্ঠা আর অধ্যাবসায়কে দমিয়ে ফেলা যায়নি। শেষ পর্যন্ত কিন্তু সত্যেরই জয় হল। এটাও আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’’

ছাত্রের ব্যাটিংয়ের কোন ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে আপনাকে? ভরদ্বাজ বলছেন, ‘‘ও বলের জন্য অপেক্ষা করে। আর শরীর বলের লাইনে নিয়ে গিয়ে খেলে। সমস্ত শট ব্যাটের মাঝখানে লাগায়।’’ যোগ করলেন, ‘‘বিশ্বকাপের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে বড় রান পাচ্ছিল না। ৩০-৪০ করে আউট হয়ে যাচ্ছিল। আমি ওকে ফোনে বলেছিলাম, সেঞ্চুরি না করলে কিন্তু কেউ মনে রাখবে না। ও কথা দিয়েছিল, বড় রান করবে। কথা রেখেছে।’’


নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে মনজ্যোতের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থাও করেছিলেন ভরদ্বাজ। ‘‘ইংল্যান্ডে গিয়ে সেঞ্চুরি করে এসেছিল ও। সুইংয়ের বিরুদ্ধে সাবলীল। তবে নিউজিল্যান্ডে বাউন্স বেশি থাকে। তাই টেনিস বল জলে ভিজিয়ে থ্রো ডাউন করাতাম অ্যাকাডেমিতে। তাতে বাউন্সের বিরুদ্ধেও সড়গড় হয়ে উঠেছে,’’ বলছিলেন ভরদ্বাজ। উন্মুক্তের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি। উন্মুক্তের মতোই হারিয়ে যাবেন না তো? ভরদ্বাজ বলছেন, ‘‘মনজ্যোতকে বলেছি, দেশে ফিরে সমস্ত ভুলে ফের ক্রিকেট সাধনা শুরু করে দিতে হবে। আমি ওকে নিয়ে প্রবল আশাবাদী।’’-গোনিউজ২৪

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close