Home » রাজনীতি » বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে যাঁদের দৌড়ঝাঁপ

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে যাঁদের দৌড়ঝাঁপ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বচনী আলোচনা শহর ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় এ নিয়ে জনমনে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। দেশবাসী তাকিয়ে আছে এই দুই দলের কাকে প্রার্থী করা হয় তা দেখতে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের পছন্দের তালিকায় থাকা এক প্রার্থীর নাম বলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নিয়ে কৌতুহল কম হলেও বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন তা জানার জন্য সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি। তাই দ্রম্নত সময়ের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে দলীয় প্রার্থী ঠিক করবে দলটি। আর শেষ পর্যন্ত্ম চূড়ান্ত্ম তালিকায় নিজের নাম লেখাতে আলোচনায় পৃষ্ঠা ২ কলাম ৬
থাকা আগ্রহী প্রার্থীরা দৌড়-ঝাঁপ করে যাচ্ছেন।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃতু্যতে এই সিটিতে উপনির্বাচন করতে হচ্ছে। ডিএনসিসিতে মেয়র পদে এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট হবে আগামী ২৬ ফেব্রম্নয়ারি। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে নির্বাচনে আংশ নিতে আগ্রহীরা নড়েচড়ে বসেছেন। এরই মধ্যে বিএনপি আগ্রহীরা হাইকমান্ড থেকে শুরম্ন করে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরম্ন করেছেন।


উত্তর সিটি নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ৫ নেতার নাম আলোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তারা হচ্ছেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উলস্নাহ বুলু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম, দলের সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর পুত্র দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করা তাবিথ আউয়াল। আর ২০ দলীয় জোট শরিক বিজেপি নেতা আন্দালিভ রহমান পার্থও আছে আলোচনায়।

আলোচনায় ৫ নেতা থাকলেও গতবারের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এবারও এগিয়ে আছেন। আগামী শনিবার প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিশ্বস্ত্ম সূত্রে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি আর্থিক কেলেঙ্কারি বিষয়ক আন্ত্মর্জাতিক ডাটাব্যাজ প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা এবং উত্তর ঢাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার পাশাপাশি নির্বাচন করে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনগণের কোনো খোঁজ-খবর না করার কারণে তাকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাবিথের প্রতিপক্ষের নেতাদের মত হচ্ছে, বিগত নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন না, দলের প্রর্থী ছিলেন তার বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি নির্বাচনে অযোগ্য না হলে তাবিথ আউয়াল এখানে আসার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন সেহেতু বিএনপির অনেক সুযোগ্য নেতার মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করে সবচেয়ে যোগ্য নেতাকে প্রার্থী করা উচিত হবে। এর পরও তাবিথ আউয়ালের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অন্য আগ্রহী নেতাদের নির্বাচনে তাবিথকে সহযোগিতা করার অনুরোধও করছেন। কিন্তু তাবিথ বিরোধীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন, তাবিথে আপত্তি আছে তবে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু নিজে প্রার্থী হলে আপত্তি নেই। আর মিন্টুর নিজে এবার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে।
মনোনয়নের বিষয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, তিনি নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দল ও জোট যদি তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, তবে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বেন।


এদিকে আলোচনায় থাকা অন্য নেতাদের মধ্যে বরকত উলস্নাহ বুলু এ বিষয়ে এখনো কিছু বলতে রাজি নন। চারদলীয় জোট সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা, সাবেক এমপি ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে বরকত উলস্নাহ বুলু সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। দেশব্যপী তার পরিচিতি রয়েছে। এ জন্য সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বরতক উলস্নাহ বুলুকে মনোনয়ন পাক এমটিই চাচ্ছেন দলের একটি অংশ। তবে তার প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের প্রচারণা হচ্ছে, সিটি রাজনীতির সঙ্গে তার তেমন সংশিস্নষ্ট নেই। সঙ্গত কারণে সিটি নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পরে।

ঢাকা উত্তরের সভাপতি এম কাইয়ুম হিসেবে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার হলেও রাজনৈতিক একটি মামলায় তার দেশে ফেরা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সঙ্গত কারণে দলের অনেকে তাকে নিয়ে ভাবতে পারছে না। কিন্তু তার অনুসারীরা বিশেষ করে উত্তর ঢাকার নেতাকর্মীর চাচ্ছেন, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সিটি নির্বাচনে তিনি যেন বিএনপির প্রার্থী হন। তাই তার মনোনয়ন দাবি করে এরই মধ্যে উত্তর ঢাকায় পোস্টার সাঁটিয়ে ছেয়ে ফেলেছে তার অনুসারিরা।

এ বিষয়ে এম এ কাইয়ুম জানান, কাকে প্রার্থী করা হবে তা ঠিক করবেন পার্টির প্রধান খালেদা জিয়া। প্রার্থী হওয়া বা অন্য কারো পক্ষে কাজ করার যে সিদ্ধান্ত্ম পার্টি দেবে তা মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে সিটি নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আরও আছেন দলে ক্লিন ইমেজের তরম্নণ নেতা হিসেবে পরিচিত শাকিল ওয়াহিদ। তার বিপক্ষে তেমন কোনো প্রচারণাও নেই। এই নেতার মনোনয়নের জন্য দেশে-বিদেশে শুভাকাঙ্ক্ষীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শহরব্যাপী পোস্টার সাঁটিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এরই মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার জানান দিয়েছেন তিনি।

মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে শাকিল ওয়াহেদ জানান, এ বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে পার্টি প্রধান খালেদা জিয়ার ওপর। নিশ্চয়ই সবচেয়ে সুযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিবে বিএনপি। তিনি আশাবাদী।


এদিকে মনোনয়ন চূড়ান্ত্ম করতে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোলাম স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক করেছেন। আর গত সোমবার রাতে ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গেও কথা বলে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন। জোটের বৈঠকে জামায়াতের প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত্ম জামায়াত প্রার্থী দিবেনা বলে জানিয়েছে। তবে প্রার্থী আলোচনায় জোটের শরিক বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থের নাম এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মনোনয়ন পাক বিএনপি নেতাকর্মীরা তা চাচ্ছে না। দলের বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হোক তা নিয়ে রয়েছে দলের ঘোর আপত্তি। এর কারণ হচ্ছে, অন্য দলের এবং ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাব নেই।


আগ্রহীরা ভেতরে ভেতরে মনোনয়ন লড়াইয়ে নামলেও এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, এবারও তাদের দল একজন তরম্নণকে প্রার্থী করবেন। এবং তিনি সম্ভবত তাবিথ আউয়াল দ্রম্নত সময়ের মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে প্রার্থী চূড়ান্ত্ম করা হবে।
প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী জানান, ডিএনসিসি উপ-নির্বাচন নিয়ে দলীয় ফেরামে আলোচনা হয়েছে। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী ঠিক করা হয়নি। আরও আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করা হবে।
যায়যায়দিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close