Home » রাজনীতি » বিএনপি না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, এটা আইনের কথা নয়’

বিএনপি না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, এটা আইনের কথা নয়’

বিএনপি না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, এটা আইনের কথা নয়। জনগণ যে নির্বাচনে ভোট দেবে, সেটাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কোনও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বা বর্জন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মানদণ্ড হতে পারে না। এমন অভিমত আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের। বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না বলে সিইসি যে বক্তব্য রেখেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতারা এমনটি বলেছেন।

তারা বলছেন, সব রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশ নিলো কিন্তু জনগণ ভোট দিলো না, বর্জন করলো– সেই নির্বাচনকে কীভাবে অংশগ্রহণমূলক বলা যাবে? বিএনপি এলেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এমন কোনও কথা নেই। বিএনপির মতো একটা রাজনৈতিক দল না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না এটা ঠিক নয়, তবে ভোটের আকর্ষণ কিছুটা কমবে।


শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে সেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না। সিইসির এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ নেতারা এভাবেই তাদের অভিমত জানান। সিইসির বক্তব্যের সমালোচনা না করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অংশীজন রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নিয়েই তাদের কর্মব্যস্ততা। তাই যত বেশি দল নির্বাচনে অংশ নেবে, সেটা তাদের (ইসি) সফলতা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই সিইসি এমন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন।

আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতা বলেন, কৌশলগত কারণে সরাসরি সিইসির কোনও বক্তব্য নিয়ে বিতর্কে জড়াবে না ক্ষমতাসীনরা। তাই পাল্টা বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন দলটির নেতারা।


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক অভিহিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি হোক তা দল চায়নি বলে এ নিয়ে কথা বলেননি আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে সিইসি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক বলে যে বক্তব্য রেখেছন পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে সিইসির এই বক্তব্যও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে। কিন্তু ইসির সমালোচনা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। তাই কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগকে আগের মতোই সিইসির সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সিইসি নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য না দিতে দলীয় নির্দেশনা আছে। তবে সতর্কতার সঙ্গে গঠনমূলক জবাব দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে সিইসির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কোনও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বা বর্জনই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রমাণের একমাত্র মাধ্যম হতে পারে না। ভোটে জনগণের সম্পৃক্ততাই বড় বিষয়।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘সিইসির বক্তব্য ব্যক্তিগত বলেই মনে করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে অংশগ্রহণমূলক হবে না–এটা সংবিধান বা আইনের কথা নয়। তবে এটা ঠিক যে, বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ।’


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরাও চাই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে কোন দল অংশ নেবে না নেবে সেটা সেই রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে সেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না–এটা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে একটা বড় দল ভোটে অংশ না নিলে নির্বাচনের আকর্ষণ কমে।’ সিইসির বক্তব্যের প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ‘সিইসি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকলে এটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনগণ যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে–সেটাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।’

উৎসঃ banglatribune

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close