Home » বিশেষ সংবাদ » বিচারপতি ওয়াহ্‌হাব মিঞার পদত্যাগের নেপথ্যে

বিচারপতি ওয়াহ্‌হাব মিঞার পদত্যাগের নেপথ্যে

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের শিকার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা। গত ৩রা অক্টোবর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ এ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে আদালতপাড়ায় গত কয়েক দিন ধরে এ আলোচনা ছিল জোরালো। নানা মহল থেকে তাকে আশ্বস্তও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনেকটা নাটকীয়ভাবেই দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারক সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গভবনে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা।
এ নিয়ে তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে দুটি বড় পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো বিচার বিভাগে।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে ক্ষমতাসীনদের কোপানলে পড়েছিলেন বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। নানা বিতর্কের পটভূমিতে গত ১০ই নভেম্বর পদত্যাগ করেন বিচারপতি এস কে সিনহা। সিঙ্গাপুর থেকে দূতাবাসের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। সাধারণত আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারককেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও অতীতে কয়েকবার এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের শিকার হয়ে এর আগে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান পদত্যাগ করেছিলেন। এদিকে গত রাতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম প্রমুখ। এক বিশেষ পটভূমিতে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

গত বছরের ৩রা জুলাই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন আপিল বিভাগ। এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় ১লা আগস্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের তোপের মুখে পড়েন তখনকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অবকাশ ছুটির পর সুপ্রিম কোর্ট খোলার আগের দিন (২রা অক্টোবর) এক মাসের ছুটিতে যান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ওই দিন আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অসুস্থতাজনিত ছুটিতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে ৩রা অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

ওই সময় থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা। এরপর ছুটি নিয়ে ১৩ই অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার বিদেশ যাওয়ার পরদিনই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের মতো ১১টি অভিযোগ পাওয়া গেছে; যা প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে এ সংক্রান্ত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিগণ সুরেন্দ্র কুমার সিনহার মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিগণ সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছিল বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌?হাব মিঞার। তিনি ১৯৫১ সালের ১১ই নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৯ সালের ২৪শে অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২০০১ সালের ২৪শে অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা। ২০১১ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। চলতি বছরের ১০ই নভেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মানবজমিনকে বলেন, এর আগেও অনেকে পদত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে কনটিনিউ করেছেন। এটি যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার পদত্যাগে আপিল বিভাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগে এখন চারজন বিচারপতি থাকবেন। আর প্রয়োজনবোধে তো বিচারপতি নিয়োগে কোনো অসুবিধা নেই। মানবজমিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close