ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » বিলম্বিত হচ্ছে জামিন প্রক্রিয়া ভোটের নানা সমীকরণ

বিলম্বিত হচ্ছে জামিন প্রক্রিয়া ভোটের নানা সমীকরণ

বিলম্বিত হচ্ছে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রক্রিয়া। তার আইনজীবীরা আশা করেছিলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবেন। কিন্তু রায়ের কপি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ এ রায়ের কপি কখন পাওয়া যাবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। অন্যদিকে, খালেদা জিয়াকে নতুন করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এসব মামলাতেও এখন তাকে আদালতে জামিন আবেদন দায়ের করতে হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে। নতুন নতুন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনের রাজনীতি আর ভোট নিয়ে আলোচিত হচ্ছে নানা সমীকরণ। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর পরও বিএনপির পক্ষ থেকে তেমন কোনো কড়া কর্মসূচি নেয়া হয়নি। বিক্ষোভ আর মানববন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে দলটি। তবে এসব কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। যা গত এক দশকে দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় দেখা যাচ্ছে। যদিও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে পুরোমাত্রায়। সে যাই হোক, খালেদা জিয়ার রায় বা কারাবাসের চেয়েও এখন বেশি আলোচনা চলছে আগামী নির্বাচন ঘিরে। বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে সাজার রায়ের পর কী বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? দেশ-বিদেশে এ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট অতীতে এ প্রশ্নে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দেয় তাই হবে দেখার বিষয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সর্বশেষ বলেছেন, আইনের কারণে কেউ নির্বাচনের বাইরে থাকলে সরকারের কিছু করার নেই।

বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের মধ্য দিয়ে রাজনীতির সমঝোতার সর্বশেষ সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন। যদিও অনেকদিন পর রাজনীতির ময়দানে দুটি প্রধান জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাচ্ছে। কেউই কারো চালে হতবাক হচ্ছেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয় তা নিয়ে এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া কোথায় থাকবেন- এ নিয়েই বিএনপির ভেতরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ। তিনি যদি প্রচারণায় থাকতে না পারেন তা দলটির জন্য বড় ধরনের আঘাত হবে বলে অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন। যদিও এখনই হলফ করে কিছু বলা যায় না। শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এটা বলা যায়, সামনের দিনগুলোতে নানা নাটকীয়তাই অপেক্ষা করছে। বিএনপি এরইমধ্যে জোট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সরকারের বাইরে থাকা বিভিন্ন দলের বিবৃতিতে বিএনপির প্রতি এক ধরনের সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। যদিও এসব রাজনীতিতে খুব বেশি ভূমিকা রাখাবে কি-না তা সময়ই বলে দেবে। এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি কি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার, রায়ের কপির অপেক্ষায় আইনজীবীরা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নাশকতার একটি মামলায় গতকাল খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ। গত ২রা জানুয়ারি এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট আদালত। আইনজীবীরা জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাসহ নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরো ৩৫টি মামলা রয়েছে। এই ৩৫ মামলার মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাসহ ১৪টি মামলার বিচারকাজ হচ্ছে রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে। ইতিমধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ করেছে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানিও শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি এ মামলায় পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। খালেদার আইনজীবীরা জানান, এসব মামলার মধ্যে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ছাড়া আর কোনো মামলায় এখনো চার্জ গঠন হয়নি। অন্তত ২০টি মামলায় চার্জ শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আর রাষ্ট্রদ্রোহের একটি নাশকতার ১০টিসহ ১১টি মামলার বিচারকাজ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

এদিকে গতকাল কুমিল্লার মামলায় খালেদাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোকে সরকারের কৌশল বলে মনে করছেন খালেদার আইনজীবীরা। তাদের মতে, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতেই অন্য মামলাগুলোকে এখন সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। তবে, এসব মামলা আইনগতভাবেই মোকাবিলার কথা জানিয়ে খালেদার আইনজীবীরা বলছেন, এসব মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন চাওয়া হবে। আর বিচারিক আদালতে জামিন না হলে হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করা হবে। খালেদার আইনজীবী প্যানেলের একাধিক আইনজীবী আলাপকালে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ও তার জামিন। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপিল ও জামিনের আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তারা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন মানবজমিনকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় সরকার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাবে এটা আমরা ধরেই নিয়েছি। তাই এ মামলাগুলোও আমরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবো। আরো মামলা হয়তো আসতে পারে, শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে। এটি সরকারের নতুন কৌশল। সরকার চাইবে যাতে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দীর্ঘায়িত হয়। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যে রায় হয়েছে তা সরকারের আকাঙ্ক্ষিত রায়। আমরা মনে করি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সরকার খালেদাকে জেলে রাখতে চায়। জয়নুল আবেদীন বলেন, যেসব মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে সেসব মামলায় আমরা বিচারিক আদালতে জামিন চাইবো। বিচারিক আদালতে জামিন না হলে হাইকোর্টে আবেদন করবো। তবে, আমাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা ও তার জামিন চাওয়া। আর যেসব মামলায় শ্যোন অ্যরেস্ট দেখানো হচ্ছে আমরা আশা করি, বিচারিক আদালতেই এসব মামলায় জামিন হয়ে যাবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেন, আমাদের কাছে এখন সবচে গুরুত্বপূর্ণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদার যে কারাদণ্ড হয়েছে সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা ও জামিনের আবেদন করা। আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে সেসব মামলায় আমরা বিচারিক আদালতে জামিন চাইবো। জামিন না হলে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবো। পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির জন্যও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলার আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ জনের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও খালেদা জিয়ার সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

উৎসঃ মানবজমিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close