ব্রেকিং:
Warning: mysql_query(): Unable to save result set in /home/dnn/public_html/wp-includes/wp-db.php on line 1889
Home » খেলা » মতামত-বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের স্পিন কোচ সন্ধানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া উচিত

মতামত-বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের স্পিন কোচ সন্ধানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া উচিত

স্পিন সবসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের শক্তিশালী দিক ছিল। এনামুল হক মনি, মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক থেকে সাকিব আল হাসান সেই ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এক ঝাঁক তরুণ পেসারের উদয় হয়েছে টাইগারদের বোলিং লাইন আপে। অন্যদিকে দেশের ক্রিকেটে পেস বোলিং দিয়ে সাম্প্রতিক সাফল্য স্পিন আক্রমনকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের স্পিন আক্রমন অনেক নড়বড়ে, একঘেয়ে আর পরিণত ছিল না। বর্তমান জাতীয় দলের স্পিনাররা স্ট্রাইকরেটের থেকে ইকোনোমি ঠিক রাখতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে দলে জায়গা পেতে বোলিং এ বৈচিত্র নিয়ে আসতে নতুন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের এক সময়ের বিখ্যাত স্লো বামহাতি স্পিনার দিন দিন খুঁজে পেতে কষ্ট হচ্ছে। যারা আছেন, তাদের দক্ষতা ও ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের নয়। বাংলাদেশের সেরা স্পিনার সাকিব আল হাসান এখন আগের মতো তীক্ষ্ণ অবস্থায় নেই, যতোটা তিনি শুরুর দিকে ছিলেন। সারাবিশ্বের ফ্রাঞ্চাইজিক ভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণের জন্যই হয়তো সাকিবের আগের ধার নেই! বাংলাদেশের স্পিন আক্রমনের বর্তমান চিত্র দর্শনে এসেছে ২০১৫ সালে দক্ষিন আফ্রিকা যখন বাংলাদেশ সফর করে। যেখানে বাংলাদেশের ফ্রন্ট লাইন স্পিনারদের থেকে দক্ষিন আফ্রিকার পার্ট টাইম স্পিনার জেপি ডুমিনি বেশি টার্ন পাচ্ছিলেন!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এমনভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে যে, স্পিনারদের এখন অনেক কোনঠাসায় থাকতে হয়। নতুন ফেল্ডিং নিয়ম, ভারী ব্যাট, ব্যায়বহুল ব্যাটিং টেকনিক এছাড়াও কিছু বিষয়ের সাথে বোলারদের লড়তে হয়। শুধুমাত্র দৌড়ে গিয়ে উইকেট টু উইকেট বল করে এখন আর কোনো লাভ নেই। ক্ল্যাসিকাল স্পিনারদের বল ব্যাটসম্যানদের হাওয়ায় মারার ক্ষমতা অনেক কম, তার সাথে প্রয়োজন ভালো টার্ন এবং সুক্ষ্ম বৈচিত্র। সম্ভবত এই সব কারণে অশ্বিন ও হেরাথের মতো স্পিনাররা এখনো সাফল্য পাচ্ছেন, যেখানে সব জায়গায় স্পিনারদের অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শ্রীলংকান পিয়াল উইজিটাঙ্গাকে স্পিন কোচ হিসেবে এবং রুয়ান কালপাগেকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলো।উইজিটাঙ্গা বিসিবির অফার ফিরিয়ে দেয়। যার দরুন বিসিবিকে কালপাগেকে নিয়োগ দিতে হয়। অন্যদিকে আলাদাভাবে রিচার্ড হারশ্যালকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। যদিও বাংলাদেশ কোচিং টিমের মধ্যে কালপাগের তিনটি বিভাগেই ভালো জ্ঞান ছিলো, তারপরেও সে কখনো স্পিন বোলিং বিশেষজ্ঞ ছিলো না। গত দুই বছরে বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে খুব বেশি পরিবর্তন আসে নি। অন্যদিকে হিথ স্ট্রিককে বোলিং কোচ করার পর অনেকটাই বদলে গেছে টাইগারদের পেস বোলিং এর চিত্র। যেহেতু রুয়ান কালপাগে বিসিবির সাথে আর থাকছেন না, সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনকই হয়েছে। বিসিবি এখন স্পিনের জন্য একজন সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দিতে পারবে।

বিসিবির অবশ্যই স্পিন বোলিং কোচের শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করা উচিত। সেটা ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই হওয়া দরকার। এমন একজনকে বিসিবির নিয়োগ দেয়া উচিত, যে শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথেই নয় পাশাপাশি একাডেমি লেভেলের ক্রিকেটারদের সাথেও কাজ করতে পারবে। সম্প্রতি এইচপি ইউনিটের জন্য বিসিবি ভেঙ্কাটাপাথি রাজুকে স্পিন পরামর্শকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যেটি আসলেই ভালো উদ্যোগ ছিল। তবে যে কোনো কোচের জন্যই রাতারাতি পরিবর্তন আনা অনেক কঠিন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাকলাইন মুশতাকের সময়কালীন থেকে শিক্ষা নিতে পারে! সাকলাইন মুশতাক শুধুমাত্র জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সাথেই যুক্ত ছিলেন অন্যদিকে একরকম বলা যায় সোহাগ গাজির নিজস্ব কোচ ছিলেন। স্পিনারদের কোচিং করার থেকে সাকলাইন মুশতাকের বেশিরভাগ সময় সফরেই গেছে। যদি তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কোচিং এর দায়িত্ব দেয়া হতো তাহলে তিনি বোলাদের কৌশল ও অন্যান্য বিষয়গুলোর উপর কাজ করে তাদের ভঙ্গিকে নতুনভাবে সাজাতে পারতেন!

স্পিন বোলিং কোচ নিয়োগ দেয়ার পূর্বে স্পিন বোলিং এর উপর সমগ্র ধারণা স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বিসিবি নিয়মিত পেস বোলিং হান্টের আয়োজন করে নতুন দ্রুতগতির পেসারের খোঁজ করে। স্পিন প্রতিভা বের করতে বিসিবিকে এরকম কর্মসূচির আয়োজন করা উচিত। বর্তমান পেস বোলিং এর জন্য যতোটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, স্পিনের ক্ষেত্রেও তেমনটা করা উচিত। শেন ওয়ার্ন কিংবা মুরালিধরনকে কিছুদিনের জন্য এনে স্পিন ক্যাম্প করলে স্পিনে আরো আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্ল্যামার নিয়ে আসতে পারবে বিসিবি। অন্যদিকে স্পিন প্রতিভা মূল্যায়নের মানদন্ডও পরিবর্তন করা উচিত। বাংলাদেশের কোচরা সাধারণত স্পিনারদের ভালো ফ্লাইট ও  বল ফেলার সঠিকতাকে গুরুত্ব দেয়। শ্রীলংকান স্পিন কোচ উইজিটাঙ্গা ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বল বাঁক নেয়া, বাতাসকে ব্যবহার করা, স্পিন বোলিং এ এগুলা সাধারণ বিষয়। এর বাহিরে স্পিনারদের আরো অনেক কিছু শিখানোর আছে কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তরুণরা প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। উইজিটাঙ্গা আর তার কোচিং স্টাফের সদস্যরা সেই সব তরুণদের খুঁজছে যাদের হাতের আঙ্গুল বড় পাশাপাশি বলকে বিশাল বাঁক খাওয়াতে পারে। এছাড়া প্রচলিত নিয়মের বাহিরের স্পিন বোলিং ভঙ্গীযুক্ত বোলারদের তারা অনুপ্রেরণা যোগায়। এসব তরুণদের উইজিটাঙ্গা অনুশীলন করে একাডেমী লেভেলের জন্য প্রস্তুত করে, যার ফলে প্রথম শ্রেনীর কিংবা জাতীয় দলের স্পিন বোলিং এর পাইপলাইন অনেক শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন একজন কোচ দরকার যিনি মূল থেকে স্পিনার বের করে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করবেন।

বর্তমান ক্রিকেটে বিশ্বমানের স্পিনার না থাকায় তরুণদের জন্য আদর্শ থাকছে না। তরুণরা তাই পেস বোলিং এর দিকে ঝুঁকছে। বিসিবির অবশ্যই স্পিনে আগ্রহ তৈরী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মুস্তাফিজের লেভেলের একজন স্পিনার পায়, তাহলে আমাদের বোলিং লাইপ আপ আরো শক্তিশালী হবে পাশাপাশি ভবিষ্যতে তরুণরা আরো অনুপ্রাণিত হবে। কিন্তু সেই লেভেলের স্পিনার পেতে বিসিবিকে অবশ্যই একজন ভালো স্পিন কোচ নিয়োগ দিতে হবে। স্পিনের গুরুত্বকে অবহেলা করার বিন্দুমাত্র অবকাশ নাই। একজন ভালো স্পিনার একাই দলের জয় এনে দিতে পারেন। শ্রীলংকান মুরালিধরন, অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন সেটা বহুতবার করে দেখিয়েছেন। বর্তমানে হেরাথ সেটা করছেন। বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমন এখন যথেষ্ট ভালো তার সাথে হেরাথ/অশ্বিন/ইয়াসির শাহ এর মত একজন স্পিনার যোগ হলে দল আরো উপরে চলে যাবে।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close