ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » “মিডিয়া একবার যাকে ধরে, শেখ মুজিব বানিয়ে ছাড়ে”

“মিডিয়া একবার যাকে ধরে, শেখ মুজিব বানিয়ে ছাড়ে”

‘মুক্তিযুদ্ধের গল্পকথকরা আজ মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতেও বড় হিরো হয়ে গেছেন’

গতকাল এটিএন নিউজের একটি প্রোগ্রামে প্রয়াত আনিসুল হক কেমন ছিলো, এমন মতামত নেয়া হচ্ছিলো ঢাবি’র ক্যাম্পাসে।
একজন তরুন ছাত্রী’কে বলতে শুনলাম-

‘আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প গুলো বেশী বেশী পৌঁছে দেয়ার জন্য যখন আনিসুল হক এবং জাফর ইকবালদের অনেক বেশী দরকার ছিল। তখন আনিসুল হক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন! ইউ টিউবে আনিসুল হকের বর্ননায় একজন শহীদের গল্প শুনেছি। ক্রেক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা আজাদ কে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ঢাকার রমনায় বন্ধী করে রেখেছিল।বন্ধী আজাদ’কে তার মা দেখতে গেলে মায়ের কাছে ভাত খাওয়ার আকুতি জানায় আজাদ। পরের দিন ছেলের জন্য ভাত নিয়ে এসে জানতে পারে, আজাদ কে গভীর রাতে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। ছেলে ভাত খেতে চেয়ে ভাত খেতে পারে নাই, তাই যতদিন আজাদের মা বেঁচে ছিলেন, উনি আর ভাত খান নাই। ইউ টিউবে আনিসুল হকের এই ভিডিও যতবার দেখেছি ততবার চোখ ভিজে গিয়েছিলো অজান্তে।’

মিডিয়ার শক্তি যে কতখানি তা বিএনপি ফিল না করলেও আওয়ামীলীগ ঠিকই ফিল করেছে। ওরা মিডিয়াকে এমন ভাবে ইউজ করতে পেরেছে যে, আজকে অনেক মুক্তিযুদ্ধের গল্প কথক এবং লেখক; মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতেও বড় হিরো হয়ে গেছে।

একটা উদাহরণ দিচ্ছি, সাদেক হোসেন খোকা;কে চিনেন? ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা দেখতে আনিসুল হকের মত সুদর্শন না, আনিসুল হকের মত সুন্দর ভাবে গুছিয়ে গল্প’ও বলতে পারেন না, অথবা অধ্যাপক জাফর ইকবালের মত গুছিয়ে গল্প লিখতে’ও পারেন না। কিন্তু উনাদের তিন জনের বয়স প্রায় কাছাকাছি হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রয়াত আনিসুল হক এবং জাফর ইকবাল’রা ঘরে বসে রেডিও’তে যখন ঢাকার রেডিও স্টেশান এবং টিভি স্টেশান হামলার নিউজ শুনতেন। গেরিলা যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা তখন হাতে স্টেনগান নিয়ে সেই হামলায় অংশ নিতেন।আনিসুল হক এবং জাফর ইকবাল’রা ঢাকার ক্র্যাক প্লাটুনের যে আজাদের গল্প বলেন বা লিখেন সেই ক্র্যাক প্লাটুনের একজন সদস্য ছিলেন এই সাদেক হোসেন খোকা।

বিএনপি’র গর্ব করবার মত, নতুন প্রজন্ম কে জানানোর মত কত ইতিহাস আছে,এচিভমেন্ট আছে। কিন্তু এই প্রজন্ম এসব কিছুই জানে না। যেমন যানে না। বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচনে পরাজিত হন নাই। কিন্তু আওয়ামীলীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ২৮ হাজার ভোটে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা।রাজধানী ঢাকাতে রাস্তায় রোড ডিভাইডারে মাঝে গাছ লাগিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইডে ভরে যাওয়া শহরে সবুজায়নের প্রকল্প শুরু করা মানুষটি ছিলেন এই সাদেক হোসেন খোকা।

মিডিয়া এবং প্রচারণা তে আওয়ামীলীগ এগিয়ে আছে বলেই,
মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকাতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই কথা অনেকে জানে না।অনেকে জানে না, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে সব চাইতে বেশী রাজনীতি করা আওয়ামীলীগের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে, সুদূর আমেরিকাতে চিকিৎসাধীন খোকাকে; ঢাকায় ময়লার গাড়ি পোড়ানো মামলার আসামী হতে হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় সম্পত্তি।
কিন্তু, এই দেশের তরুন প্রজন্মের সবাই কে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আজাদের গল্প বলে,নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠা প্রয়াত আনিসুল হকের রোগটির নাম কি?
উত্তর পাবেন- ‘সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস’

এটাই মিডিয়া এবং প্রচারনার ক্ষমতা। আনিসুল হকরা প্রচারণা কে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেছেন যে, উনাদের নামের সাথে জড়িত আছে বলেই, ‘সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস’ নামের অপরিচিত রোগটি পরিচিত হয়ে গেছে।

এজন্য মিনা ফারাহ্’র উক্তিটি বেশি মনে পড়ে-
“মিডিয়া একবার যাকে ধরে, শেখ মুজিব বানিয়ে ছাড়ে”।

Ismail Ahmed er fb theke

১টি মন্তব্য

  1. বর্তমান আওয়ামী সরকারের বিশেষ ভাবে তৈরি এই মিডিয়া যা এত দিন তারা ব্যবহার করে আসছে। এখন সব দোষ মিডিয়ার ঘাড়ে। মিডিয়া সত্য মিথ্যা কি বললো তা যাচাই বাছাই না করে কেন আওয়ামী সরকার সেটাকে প্রায়োরিটি দিলেন??

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close