ব্রেকিং:
Home » এক্সক্লুসিভ » মুমিনুলের ফেরায় ২০১৭ যেন ১৯৯৯ এর আয়না!

মুমিনুলের ফেরায় ২০১৭ যেন ১৯৯৯ এর আয়না!

ইংরেজি এক প্রবাদে আছে, ‘ইতিহাস বারবার ফিরে আসে’। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফিরে এলো ১৯৯৯ সালের স্মৃতি। তবে বদলেছে চরিত্রের ভূমিকা। ১৯৯৯ সালে সাংবাদিকদের প্রবল প্রতিরোধে বাদ পড়ার পরও বিশ্বকাপের দলে ঢুকে পড়েছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এখন সালটা ২০১৭। এবারও সাংবাদিকদের প্রবল প্রতিরোধে বাদ পড়ার ২৪ ঘণ্টার কিছু সময় পরই টেস্ট দলে ঢুকলেন মুমিনুল হক। এই দফা ১৪ জনের দল থেকে জায়গা হারাতে হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। তবে সেবার বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে প্রথম জয় এনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ করেছিলেন নান্নু। এবার কি পারবেন মুমিনুল?
১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলে বাংলাদেশ দল। আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়ের কদিন আগে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর তাতে বিস্ময়করভাবে বাদ পড়েন ওই সময়ে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান নান্নু। ঢাকা লিগে একমাত্র তিনিই করেছিলেন হাজার রানের বেশি। যা এখনও অম্লান। সেই ব্যাটসম্যানের বাদ পড়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে গণমাধ্যম। শেষ পর্যন্ত তাকে দলে নিতে বাধ্য হন নির্বাচকরা।
নান্নুও এর প্রতিদান দিয়েছিলেন দু হাত ভরে। নিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল স্কটল্যান্ড। আইসিসি ট্রফিতে এই দলটিকে হারিয়েই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের নেশায় বিভোর বাংলাদেশ শুরুতেই খায় বড় ধাক্কা। মাত্র ২৬ রানেই নেই টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যান। পঞ্চাশ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। এ সময় দলের হাল ধরেন নান্নু। খেলেন হার না মানা ৬৮ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। তার ব্যাটেই ভর করেই বাংলাদেশ পায় ১৮৫ রানের লড়াকু স্কোর। বাংলাদেশ জয় পায় ২২ রানে।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবার এমন এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার ভূমিকার বদল। সেবারের সেই বাদ পড়া এবং পরে দলে ফেরা নান্নু এবার ছিলেন প্রধান নির্বাচকের ভূমিকায়। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ হয়ে গেল। সাংবাদিকরা এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মানবেন না। নান্নু তার দলে অটল। যদিও বলা হচ্ছে, মুমিনুলকে ১৪ জনে না রাখার সিদ্ধান্তটা মূলত প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। তিনিও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচক হিসেবে এই সিদ্ধান্তের দায় তো সবার আগে নান্নুকেই নিতে হয়। এক পর্যায়ে ১৯৯৯ এর উদাহরণ টেনে তাকে সেই কথা মনে করিয়ে দেওয়াও হয়েছিল। সম্মেলনে মুমিনুল বিতর্কের এক পর্যায়ে নান্নু ক্ষেপেও উঠেছিলেন।
২৪ ঘণ্টায় মুমিনুলের বাদ পড়া নিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ায় ঝড় বয়ে যায়। সমালোচনার তীরে বিদ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও। সোশাল মিডিয়াও হয়ে ওঠে উত্তাল। বোর্ডে সবার ওপরে যিনি সেই প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনকে ধরতে হয় হাল। রোববার দুপুরে দল নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ও পরিচালকদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক। শেষে পাপনের মুখেই বদলে যাওয়া সিদ্ধান্তটা আসে। “মুমিনুল ইন। মোসাদ্দেক আউট”।
মোসাদ্দেক কি নিজেকে দুর্ভাগা ভাববেন? চোখের ইনজুরিতে ভুগছিলেন। মিরপুরে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের শেষ দিকে চোখে আঘাত পেয়েছিলেন। চট্টগ্রামে যেতে পারেননি। এই ইনজুরি পুরোটা সারতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে। তারপরও একদিন আগে দলের সাথে প্র্যাকটিস ম্যাচে ছিলেন মোসাদ্দেক। ফিফটি করেছিলেন। এখন তাকে বাদ দিয়ে মুমিনুলকে দলে টানায় একটি ব্যাপার পরিস্কার। ইনজুরির কারণে মোসাদ্দেককে বাদ দিয়ে মুমিনুলকে দলে টানার কথাটা নিছক অজুহাত। আর এভাবেই ঘুরে ফিরে চলে আসে ‘৯৯ এর স্মৃতি। সেবার জাহাঙ্গীরের বদলে নান্নু, এবার মোসাদ্দেকের বদলে মুমিনুল। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বুঝি একেই বলে!

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close