ব্রেকিং:
Home » শীর্ষ সংবাদ » মেয়র খোকন সরকারে আছেন, দলে নেই

মেয়র খোকন সরকারে আছেন, দলে নেই

অনুষ্ঠানটি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেন বড় পরিসরে।

ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের এতে আমন্ত্রণই জানানো হয়। কিন্তু বাধা দিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ফোন করে সবাইকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না করে দিলেন। বিষয়টি নিয়ে মেয়র বললেন, নেত্রীর মিলাদে বাধা দিলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। এভাবেই দলীয় কাজে বাধার মুখে পড়ছেন নগর পিতা। মেয়রকে দলীয় কাজে বাধা দেন ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক নেতা।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন নেতা-কর্মীরা। মোহাম্মদ সাঈদ খোকন আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রয়াত পিতা মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের গত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ খোকন দলের সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও ঢাকার রাজনীতিতে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বাধা ও অসহযোগিতায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সিটি করপোরেশন।

যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে তাকে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি এখন অনেকটা স্পষ্ট। মহানগরের রাজনীতিতে সাঈদ খোকনকে কোণঠাসা করে রাখতে কয়েকজন নেতা উঠে-পড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ আছে। অধিকাংশ অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। আবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাঈদ খোকন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা ডাকলেও থানা ও ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে উপস্থিত হতে নিষেধ করেন মহানগর দক্ষিণের এক শীর্ষ নেতা। একইভাবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলেও দলীয় নেতা-কর্মীদের আসতে বাধা দেন মহানগরের এই শীর্ষ নেতা।

আবার সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হলেও উপস্থিত হন না ওই নেতা ও তার অনুসারীরা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। যেসব ওয়ার্ড, থানায় কমিটি গঠন করা হচ্ছে, সেগুলোতে সাঈদ খোকনের ‘ম্যান’ হিসেবে পরিচিত কাউকে রাখা হচ্ছে না। এমনকি মেয়রের সঙ্গে যেসব কাউন্সিলরের সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদেরও কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। সে কারণে থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনে মূলধারার নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ও হাইব্রিডরা সুবিধা পাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের দাবি— অর্থের বিনিময়ে কমিটি করতে গিয়ে ‘যা ইচ্ছে তাই’ করছেন দায়িত্বশীলরা। পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে নব্য আওয়ামী লীগারদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

সে সময় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হলেও নগরের থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি আজও। ফলে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় হতাশ থানা-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা। তাদের অনেকের মধ্যেই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কাজ করছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, কমিটি গঠনের এ দীর্ঘসূত্রতার কারণে ত্যাগী ও নিবেদিত নেতা-কর্মীরা প্রত্যাশিত পদ পাবেন না। বরং দলে নতুন আগত অনেকে পদ-পদবি বাগিয়ে নেবেন।

দোকান সিটি করপোরেশনের, ভাড়া নেন নেতারা : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯টি মার্কেটের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় ২ হাজার ৩৫১টি দোকান বসিয়ে নগর আওয়ামী লীগ নেতারা ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ আছে। কোটি কোটি টাকার ভাড়া নেতারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। ফলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। বার বার তাগাদা দিয়েও দোকানগুলো দখলমুক্ত করতে পারছে না সিটি করপোরেশন।

জানা গেছে, মেয়রকে অসহযোগিতা ও সিটি করপোরেশনের জায়গা ভোগদখল করার বিষয়টি দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন দক্ষিণের মেয়র। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে-১ এর গাড়ি পার্কিংয়ে ৬৮টি, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে-২ এর গাড়ি পার্কিংয়ে ৩৬৬টি, সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের গাড়ি পার্কিংয়ে ২৩০টি, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের গাড়ি পার্কিংয়ে ২৯৭টি, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে গাড়ি পার্কিংয়ে ৩৪১টি, কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্সে-১ এর গাড়ি পার্কিংয়ে ৩৫০টি, কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্স-২ এর গাড়ি পার্কিংয়ে ৫৩১টি, পল্টন শপিং কমপ্লেক্সে গাড়ি পার্কিংয়ে ১৯টি এবং আহসান মঞ্জিল (নবাব বাড়ি সুপার মার্কেটে) ১৪৯টি দোকান বসিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী মার্কেটে নকশা বহির্ভূত দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, একেকটি দোকান ১০ থেকে ২০ লাখ টাকায় ‘বিক্রি’ করা হয়েছে। এখন আবার চাঁদাও তোলা হয়।
উৎসঃ বিডি-প্রতিদিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close