Home » আন্তর্জাতিক » যুক্তরাষ্ট্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র নয়: এরদোগান

যুক্তরাষ্ট্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র নয়: এরদোগান

‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে দেশটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার ওপর হামলা হয়। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা সেই হামলা প্রতিরোধ করে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র উল্টো আমার নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এজন্য আমি খুবই দুঃখিত। আর যাই হোক যুক্তরাষ্ট্রকে সভ্য রাষ্ট্র বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র নয়।’

শনিবার ইস্তাম্বুলের হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিভিলাইজেশন ফোরাম’- এ বক্তব্য দেয়ার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান অভিযোগ করেন, ‘দূতাবাসের সামনে পিকেকে ও ফেতুল্লাহ টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন-এর ৪০ থেকে ৫০ সদস্য একত্রিত হয়ে বিশৃংখলা ও হামলার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা বিতাড়িত হচ্ছে। এতে বোঝা যায় দেশটিতে কোনো সমস্যা আছে।’

সূত্র : http://aa.com.tr

ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ফেতুল্লাহ গুলেনকে দেশটির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ।

ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আনাদলু এজেন্সি। বুধবার ওয়াশিংটন পোস্টে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ’-এর সিনিয়র ফেলো আব্রাহাম আর ওয়াঙ্গারের ‘ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কে ফিরিয়ে দেয়ার এখনই সময়’ শিরোনামে লেখা নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। ফেতুল্লাহ গুলেন তুরস্কের নাগরিক এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

গত বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগানকে উৎখাতচেষ্টার নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখেন ফেতুল্লাহ ও তার সমর্থকেরা। তুরস্কে ফেতুল্লাহর বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ‘ফেতুল্লাহ টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ (ফেতো)-এর সদস্য মনে করা হয়।

প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বমিডিয়া ফেতুল্লাহ গুলেনের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

আব্রাহাম বলেন, গুলেনের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। এতে তার কূটনৈতিক চক্রান্তের সব তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সে হাজার হাজার ডলার পেয়েছে, যা দিয়ে তার বিশাল নেটওয়ার্ক সে সক্রিয় রেখেছে। এসব অথের্র করও ফাঁকি দেয়া হয়েছে, যা তদন্তাধীন।

তুরস্ক ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুলেনের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোতে শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসও সন্দেহজনক এবং তা দ্রুত পরিবর্তন করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন আব্রাহাম।

গত বছরের ১৫ জুলাই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে উৎখাতের চেষ্টা করেন ফেতুল্লাহর সমর্থকরা। ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে ২৫০ সামরিক-বেসামরিক লোক নিহত হন। আহত হন প্রায় ২২০০ জন।

তুরস্কের অভিযোগ, অভ্যুত্থান চেষ্টার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার প্রতিষ্ঠিত ফেতো নেটওয়ার্ক। ওই ঘটনার পর তুরস্কের একটি আদালত গুলেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close