Home » ইসলাম » ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এই কালিমা পাঠ করবেন আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন’

‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এই কালিমা পাঠ করবেন আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন’

এই কালিমার অনেক ফজিলত রয়েছে এবং আল্লাহ’র নিকট এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এটা এমন একটা বাক্য যা একজন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে। জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়।তন্মধ্যে এখানে কয়েকটি উল্লেখ্য করা হলো-

প্রত্যেক মুসলমানের নিকট ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র মর্যাদা সীমাহীন।

যে ব্যক্তি সত্য-সত্যি’ই কায়মনো বাক্যে এই কালিমা পাঠ করবে আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য হাতেগোণা কয়েকটি বর্ণ এবং শব্দের সমারোহ মাত্র, উচ্চারণেও অতি সহজ কিন্তু কিয়ামতের দিন পাল্লায় হবে অনেক ভারি।

ইবনে হেব্বান এবং আল হাকেম হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, হযরত মূসা (আঃ) একদা আল্লাহ্ তায়ালাকে বলেন, হে আমার রব! আমাকে এমন একটি বিষয় শিক্ষা দান করুন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনাকে আহ্বান করব। আল্লাহ্ তায়ালা বললেন, ‘হে মূসা! বলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।’ মূসা (আঃ) বললেন, ইহাতো আপনার সকল বান্দাই বলে থাকে। আল্লাহ্ বললেন, হে মূসা, সপ্তাকাশ এবং আমি ব্যতীত আর যা এর পেছনে কাজ করে এবং সপ্তজমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ এক পাল্লায় রাখা হয় তা হলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ -এর পাল্লা ভারী হবে।[আল হাকেম-১ম খণ্ড ৫২৮ পৃঃ]

অতএব এ হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ হলো সবচেয়ে উত্তম জিকির।

আবদুল্লাহ বিন ওমর হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফাতের দোয়া এবং সবচেয়ে উত্তম কথা যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী সমস্ত নবীগণ বলেছেন আর তা হলো-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকূল্লি শাইয়িন কাদির।’ এর বাংলা অর্থ হলো-আল্লাহ্ এক এবং অদ্বিতীয় তাঁর কোন শরীক নেই, সমস্ত রাজত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই এবং তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। [তিরমিযি শরীফ হাদিস ২৩২৪]

কালিমা
এ কালিমা যে সমস্ত কিছু হতে গুরুত্বপূর্ণ ও ভারী তার আরেকটি প্রমাণ-

হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সকল মানুষের সামনে ডাকা হবে, তার সামনে ৯৯ টি (পাপের) নিবন্ধ পুস্তক রাখা হবে এবং একেকটি পুস্তকের পরিধি চক্ষুদৃষ্টির সীমারেখা ছেড়ে যাবে, এরপর তাকে বলা হবে এই নিবন্ধ পুস্তকে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে তা কি তুমি অস্বীকার কর? উত্তরে ঐ ব্যক্তি বলবে, হে রব আমি উহা অস্বীকার করি না।

তারপর বলা হবে, এর জন্য তোমার কোন আপত্তি আছে কি না অথবা এর পরিবর্তে কোন নেক কাজ আছে কিনা? তখন সে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বলবে, না, তা-ও নেই। অতঃপর বলা হবে আমার নিকট তোমার কিছু পূণ্যের কাজ আছে এবং তোমার উপর কোন প্রকার জুলুম করা হবে না, অতঃপর তার জন্য একখানা কার্ড বাহির করা হবে তাতে লেখা থাকবে- ‘আশহাদু আল-লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।’

তখন ঐ ব্যক্তি বিস্ময়ের সাথে বলবে হে আমার রব, এই কার্ডখানা কি এই ৯৯ টি নিবন্ধ পুস্তকের সমতূল্য হবে? তখন বলা হবে, তোমার উপর কোন প্রকার জুলুম করা হবে না, এরপর ঐ ৯৯টি পুস্তক এক পাল্লায় রাখা হবে এবং ঐ কার্ড খানা এক পাল্লায় রাখা হবে তখন ঐ পুস্তক গুলোর ওজন কার্ড খানার তুলনায় অতন্ত্য নগণ্য হবে এবং কার্ডের পাল্লা ভারী হবে। [তিরমিযি]

মহান আল্লাহ্ তায়ালা যেন আমাদেরকে এই মহান কালিমার ফজিলত ও বরকত দান করুন।

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close