Home » বিনোদন » যৌবনের সৌন্দর্য হারিয়েও ৪ নায়িকার এ কেমন লড়াই?

যৌবনের সৌন্দর্য হারিয়েও ৪ নায়িকার এ কেমন লড়াই?

সময় ভালো হলে সব কিছু ভালো কাটে। কিন্তু সব সময় তো সবার সময় ভালো যায় না। আবার ভালো সময়ের একটা বয়স আছে! আপনি বৃদ্ধ বয়সে তো যৌবনের সৌন্দর্য আশা করতে পারেন না। সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যদি সেটা করেন তা হলে সাধারণ মানুষের হাসির খোরাক হবেন। যেমন হচ্ছেন এখনো নায়িকা হতে চাওয়া এক সময়ের তারকা নায়িকারা! নায়িকা হওয়ার একটা বয়স থাকে। জোর করে তো নায়িকা হওয়া যায় না। দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেন। এমন কয়েকজন নায়িকার ক্যারিয়ার নিয়ে এ প্রতিবেদন।

শাবনূর

নব্বই দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক নম্বর নায়িকা ছিলেন শাবনূর। প্রায় এক যুগ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। যদিও প্রথম ছবিতে দর্শকের পছন্দ না হলেও শাবনূর ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বিশেষ করে সালমান শাহর সঙ্গে তার অভিনীত প্রতিটিই ছবিই দর্শকের মনে গেঁথে আছে। সেটা একটা সময়, শাবনূর অভিনীত কোনো ছবি মুক্তি পেলে সিনেমা হলে নামত দর্শকের ঢল। তার বৈচিত্র্যময় অভিনয় পছন্দ করতেন সব শ্রেণির দর্শক। সেই তিনিই অনেক দিন ধরে নেই অভিনয়ে! অনেক দিন না বলে অনেক বছর বলাই উত্তম। সর্বশেষ তাকে পর্দায় দেখা গেছে বছর পাঁচেক আগে। ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ নামের ছবিটি ২০১৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তার অভিনীত ‘পাগলা মানুষ’ নামে একটি ছবি মুক্তি পায়। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন এম এম সরকার ও বদিউল আলম খোকন। আর এ ছবিতেই ঘটে অঘটন! দর্শক হতাশ করেছেন শাবনূরকে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তার দিক থেকে। কারণ তার তো এখন নায়িকা হওয়ার বয়স না! তার বোঝা উচিত ছিল ক্যারিয়ারের শুরুর শাবনূরের চেয়ে এই শাবনূরের মধ্যে রয়েছে অনেক তফাৎ। তার যে শারীরিক গড়ন সেটা একজন নায়িকার নয়। যদিও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে দুই বেলা জিম করছেন। তিন মাসে ওজন কমিয়েছেন ১৮ কেজি! তাতেই কি দর্শক তাকে গ্রহণ করবেন? তার পরও তিনি হাতে নিয়েছেন ‘এতো প্রেম এতো মায়া’সহ আরও একটি ছবির কাজ। যদিও শাবনূর বলেন, ‘আমি যদি দেখতে আকর্ষণীয় না হই তা হলে কী করে প্রযোজকরা আমার ওপর অর্থ লগ্নি করবেন।’ নায়িকা না হয়ে এখন তার পরিচালক বা প্রযোজক হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।


পপি

১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের পরিচালনায় ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় কাজ শুরু করেন পপি। প্রথম ছবিতেই পান দর্শকপ্রিয়তা। এর পর একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ‘কারাগার’ (২০০৩), ‘মেঘের কোলে রোদ’ (২০০৮) ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ (২০০৯)Ñএ তিনটি ছবিতে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এখন ২০১৮ সাল। মানে গত ৯ বছরে ক্যারিয়ারে তার কোনো অর্জনই নেই। সর্বশেষ গত বছর মুক্তি পায় পপি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সোনাবন্ধু’। ছবিতে পপির অভিনয় একদমই সাড়া ফেলতে পারেনি। যদিও তিনি বলেন, ‘শিল্পীরা সবসময়ই ভালো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকেন। আমিও এর বাইরে নই। যখন থেকে চলচ্চিত্রের ভাষা কিংবা কাজ বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে সবসময়ই ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি। এখনো ভালো কাজ করতে চাই। তাই নতুন ছবির প্রস্তাব প্রায় সময় এলেও মনের মতো ছবির গল্প খুঁজছি। এখন বছরে একটা ভালো কাজ হলেও সেটা নিয়ে এগোতে চাই। চলতি বছরে নিজেকে নতুন লুকে দর্শকের সামনে হাজির করতে চাচ্ছি। ওজনও কমিয়েছি।’ এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নতুন দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ‘যুদ্ধ শিশু’ ও ‘টার্ন’ নামের ছবি দুটি পরিচালনা করবেন শাহিদুল হক খান। এর মধ্যে ‘টার্ন’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করবেন পপি।


পূর্ণিমা

১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে পথচলা শুরু করেন পূর্ণিমা। এর আগে স্বপন চৌধুরী পরিচালিত ‘শত্রু ঘায়েল’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শিশুশিল্পী হিসেবে। তবে প্রযোজক মতিউর রহমান পানুর হাত ধরে চলচ্চিত্রে এলেও প্রথম ছবিতে সাফল্য পাননি পূর্ণিমা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পূর্ণিমা নিজেকে শীর্ষ নায়িকার পর্যায়ে নিয়ে যান। অভিনয় করেন শতাধিক ছবিতে। তার অভিনীত সবশেষ ছবি ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এ ছবিটি ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। এর পর আর নতুন কোনো ছবিতে দেখা যায়নি তাকে। এখন তার সময় কাটছে নাটক, বিজ্ঞাপন ও উপস্থাপনা করে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে তিনি ফিরতে চাচ্ছেন নায়িকা হিসেবে! পূর্ণিমা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে ফিরতে চাই, এটা সত্য। কিন্তু যে চরিত্রে অভিনয় করব, সেটা অবশ্যই আমার সঙ্গে যেতে হবে।’ সেটা যাই হোক, বর্তমান দর্শকের রুচি বদলেছে। শারীরিক গঠনও পরির্বতন হয়েছে পূর্ণিমার। তাই তিনি নায়িকা হিসেবে ফিরলে দর্শক তাকে আদৌ গ্রহণ করবেন কিনা, সেটা ভেবে দেখার বিষয়। এর আগে পূর্ণিমা অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘জজ-ব্যারিস্টার-পুলিশ কমিশনার’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে ‘সুলতান’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’, ‘রাক্ষুসী’, ‘আকাশছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’। এর মধ্যে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ ছবির জন্য পূর্ণিমা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।


অপু বিশ্বাস

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রীর নাম অপু বিশ্বাস। তবে এই আলোচনা অভিনয় ঘিরে নয়। ব্যক্তিগত কারণে তিনি থাকেন সংবাদ শিরোনামে। যদিও অভিনয় দিয়েই দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন। অভিনয়ই দিয়েই হয়েছিলেন প্রথম সারির নায়িকাদের একজন। কিন্তু সেটা বেশি দিন ধরে রাখতে পারলেন না। গোপনে বিয়ে করেন সুপারস্টার শাকিব খানকে। হয়েছেন এক সন্তানের মা। আবার তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হতে যাচ্ছে! এত কিছুর জন্য অনেক দিন ধরে নেই অভিনয়ে। এর মধ্যে অনেক নায়িকা এসেছে। তারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবুও অপুু ফিরতে চাচ্ছেন অভিনয়ে। খুব শিগগিরই আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘কাঙ্গাল’ ও ‘কানাগলি’ নামে দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধও হয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘কাঙ্গাল’ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন ডিএ তায়েব এবং ‘কানাগলি’-তে বাপ্পী চৌধুরী। যদিও সাংসারিক নানা ঝামেলায় দুটি ছবির কাজই প্রাথমিক অবস্থায় বাতিল করেন নায়িকা। এর কিছু দিন পর ‘কাঙ্গাল’-এ অভিনয় না করলেও ‘কানাগলি’ ছবিতে তিনি অভিনয় করবেন বলে জানান। সে অনুযায়ী নাকি প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জানিয়েছেন এ ছবিতেও অভিনয় করবেন না। তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কিছুটা মুটিয়ে গিয়েছিলাম। এখন ওজন অনেকটাই কমেছে। বেশ সিøমও হয়েছি। আরও কমাতে হবে। নিজেকে ফিট করতে নিয়মিত জিমে যাচ্ছি। আশা করছি নিজেকে ফিট করতে পারব। তার পর অভিনয়ে ফিরব।’ অপু অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘রাজনীতি’।

সূত্র: আমাদের সময়

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close