Home » আন্তর্জাতিক » রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর দায় স্বীকার ইতিবাচক পদক্ষেপ: সু চি

রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর দায় স্বীকার ইতিবাচক পদক্ষেপ: সু চি

রোহিঙ্গা নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার সাথে সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, এর জন্য তাঁর দেশের সেনাবাহিনী দায় নিচ্ছে। এটা একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। রয়টার্সের সংবাদ।

মিয়ানমার সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সাথে গতকাল শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সু চি। মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে এক বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও অবশেষে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত বুধবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেশটি সেনাপ্রধানের কার্যালয় থেকে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার সঙ্গে সেনাবাহিনী জড়িত ছিল। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেও বলে জানানো হয় ফেসবুক পোস্টটিতে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সু চি জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এ ঘটনার তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। এটি আমাদের জন্য নতুন একটি পদক্ষেপ। দেশের আইন শাসনের জন্য এ দায় নেয়াটা ইতিবাচক।

তবে স্টেট কাউন্সিলর সু চির সঙ্গে বৈঠকে রাখাইনের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। গতকাল নেপিডোয় মিয়ানমারের সময় এই উদ্বেগের কথা জানান। সেইসাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়াও প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করার প্রতি জোর দেন তারো কোনো।

‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নিহত রোহিঙ্গারা জঙ্গি ছিল না’………………..


মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ইনদিন গ্রামের ১০ রোহিঙ্গা জঙ্গি ছিল না; দাবি করেছে গ্রামবাসী। তাদের দাবি, ওই ১০ জনকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা এ তথ্য দেন৷ গেল বুধবারের আগ পর্যন্ত মিয়ানমার সেনারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলো৷ বুধবার দেশটির সেনাপ্রধান প্রথমবারের মতো ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেন।

সেনাপ্রধানের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্ট থেকে ইনদিন গ্রামের গণকবরের সত্যতা স্বীকার করে বলা হয় যে, কয়েকজন গ্রামবাসী ও সেনাসদস্য মিলে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে৷ তবে নিহতদের ‘বাঙালি জঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়৷ ওই ঘটনার বর্ণনায় সেনা প্রধান দাবি করেন, সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে ওই গ্রামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে হত্যার পর গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা’। ওই সংঘর্ষের পর ধরা পড়ে দশ ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’। তবে টেকনাফের বালুখালি ক্যাম্পে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ইনদিন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সী নারী মারজান এএফপিকে বলেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের একদল লোক সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের গ্রামে আক্রমণ করে৷


মিয়ানমারের সেনাপ্রধান দাবি করেন, ধরা পড়া ‘বাঙালি সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে যাওয়া হয় কাছের পুলিশ স্টেশনে। রাতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাছের একটি স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন গ্রামবাসী তলোয়ার নিয়ে ওই ‘সন্ত্রাসীদের’ আক্রমণ করে। চার নিরাপত্তা কর্মী তাদের গুলি করে । মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহ মাটি চাপা দেয় সেনারা। ২০ ডিসেম্বর তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। তবে মারজান এএফপিকে জানান, ‘‘তারা ১০ থেকে ১৫ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে নিয়ে বৈঠক করার কথা বলে নিয়ে যায়৷ পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি৷” মারজান জানান, তাঁর স্বামীও সেই দলে ছিলেন৷ পরে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে৷ ‘‘ওঁরা আমাকে বললেন যে, আমার স্বামীর লাশ অন্যদের সঙ্গে একটি গণকবরে পাওয়া গেছে৷”


হোসেইন আহাম্মাদ নামের ইনদিন গ্রামের আরেক যুবক এএফপিকে জানান যে, যাঁদের হত্যা করা হয়েছে তাঁরা সবাই সাধারণ রোহিঙ্গা গ্রামবাসী ছিলেন৷ ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার রোহিঙ্গারা ছিলেন জেলে-কৃষক-করাতি-কেরানী। কোনও আন্দোলনেও তারা জড়িত ছিল না। কেবলই বার্মিজ সেনাবাহিনীর ক্রোধের শিকার তারা’।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইন সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’ও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে সক্ষম হননি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। হারিয়েছেন বহু সম্মাননা।
শীর্ষনিউজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close