Home » জাতীয় » শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানে অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানে অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৭-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

আগামী ২৩-২৪ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস সম্মেলনে তাঁকে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে তিনি এ পুরস্কার পাচ্ছেন। অ্যাওয়ার্ড হিসেবে একটি ট্রফি ও সাইটেশন প্রদান করা হবে।


ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেসের অ্যাওয়ার্ডস ও একাডেমিক কমিটির চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড স্মিথ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে আপনার নেতৃত্ব ও অবদান সুপরিচিত। এ ক্ষেত্রে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ও আইকনিক ব্যক্তি।’ চিঠিতে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে চিন্তাবিদ, কর্মী এবং পরিবর্তনে বিশ্বাসী একজন রোল মডেল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।আস

ফটোসেশন ঃ শিক্ষামন্ত্রী মিডিয়ার সামনে কৃতিত্ব জাহিরের জন্য পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটাতে পিছপা হননা!…………

পরীক্ষার হলে শিক্ষামন্ত্রীর ফটোসেশন! শিক্ষামন্ত্রী, সঙ্গে তাঁর দলবল। আর তাঁদের ক্যামেরাবন্দি করতে তৎপর ফটো ও ক্যামেরা সাংবাদিকদের ঢল। স্থানটি এসএসসি পরীক্ষার হল। ছবি: সংগৃহীত।

এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রাকিব। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। মনের ভয়টা অবর্ণনীয়। পরীক্ষার বেশ আগে থেকেই ভয়ে ভয়ে ছিল রাকিব। এর মধ্যেই জানল পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে হলে থাকতে হবে। প্রথম পরীক্ষা বাংলা প্রথম পত্র। অনেকেই বলে সহজ। কিন্তু এই সহজ পরীক্ষার জন্য হলে দীর্ঘ আধাঘণ্টা বসে থাকায় পরীক্ষা ভয়টা জেঁকিয়ে ধরল রাকিবকে। অবশেষে পরীক্ষা শুরু হলো প্রশ্ন পত্র পেল। প্রশ্ন কঠিন হয়নি। পড়ার মধ্যেই এসেছে। প্রথম প্রশ্নটা লেখা শুরু করেছে মাত্র এমন সময় পরীক্ষায় গার্ড দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে হঠাৎ চাঞ্চল্য। মন্ত্রী আসছেন।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও চাঞ্চল্য সঞ্চারিত হলো। একটু পরেই মন্ত্রী ঢুকলেন কক্ষে। দুই সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিয়ে তিনি হেঁটে গেলেন। রাকিবের কাছে দাঁড়ালেন। টিভিতে সব সময় দেখা মানুষটি এখন চোখের সামনে। পাশে কত ক্যামেরা। হতচকিত রাকিব। মন্ত্রী ছিলেন হয়তো কয়েক সেকেন্ড। কিন্তু পরবর্তী কয়েক মিনিটেও সে স্বাভাবিক হতে পারল না। আর স্বাভাকি হয়েই বুঝতে পারল কিছুক্ষণ আগে জানা উত্তরগুলোও তাঁর মনে পড়ছে না। কান্না পাচ্ছে রাকিবের, সে এখন কী করবে?


গল্প হলেও বাস্তবে যে এমন ঘটনা ঘটেনি তাঁর নিশ্চিয়তা কি কেউ দিতে পারবে। এসএসসি পরীক্ষার্থী কোমলতি ১৩-১৪ বছরের শিশুর সামনে পরীক্ষার হলে মন্ত্রী সদলবলে, ক্যামেরা ও ফটো সাংবাদিক নিয়ে উপস্থিত হওয়া কি তাদের জন্য কোনো ইতিবাচক বিষয় হতে পারে।

গত কয়েকবছর ধরে দৃশ্যটি বাবার বার আমরা দেখছি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ সদলবলে হানা দেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের পরীক্ষা হলে। সেখানে পরীক্ষা কেমন হচ্ছে জানার অজুহাতে পরীক্ষার্থীদের অপ্রস্তুতের প্রতিযোগিতায় নামেন মন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা, সঙ্গে থাকে একঝাঁক মিডিয়া। বছরদুয়েক ধরে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়ার সংখ্যা কমলেও মন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা কমেননি। কিন্তু মন্ত্রীর এমন সফর কেন? এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক প্রতিশ্রুতির মতোই এটিও অবাস্তবায়িত।

অন্তত পরীক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবকরা এটি মানতে পারেন না। বৃহস্পতিবার একটি স্কুল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চলে যেতেই কয়েকজন অভিভাবক সাংবাদিকদের জানালেন, শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার হলে যান কেন? পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যায়?

সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী মিডিয়ার সামনে কৃতিত্ব জাহিরের জন্য কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটাতে পিছপা হননা। গণমাধ্যমে মন্ত্রীর দৌড়ঝাঁপ দেখে অনেকে বাহবা দিতে পারেন, কিন্তু সচেতনরা নন।


অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, আমরা বড় মানুষ তারপরও এখনো ক্যামেরা দেখলে ভয় পাই, সেখানে পরীক্ষা দিচ্ছে এমন কাউকে মন্ত্রী সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলে কী অবস্থা হবে। তার কি পরীক্ষার কিছু আর মনে থাকবে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে পরীক্ষার হলে দৌড় ঝাঁপ না করলেও হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা গার্ড দিচ্ছে। বরং মন্ত্রীর উচিত সেখানে দৌড় ঝাঁপ করা যেখানে প্রশ্ন ফাঁস হয়।

বাংলা ইনসাইডার

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close