Home » রাজনীতি » সরকারের বিচারের ঘোষণা ফখরুলের

সরকারের বিচারের ঘোষণা ফখরুলের

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করা করেছে দাবি করে সরকারের বিচারের ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাদণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব।

এই কর্মসূচিটি হওয়ার কথা ছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। পরে তা পাল্টে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে করার ঘোষণা দেয়া হয়। আর সেখানে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে করার সিদ্ধান্ত হয়।


বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পালিত এই কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থকদের পাশাপাশি অংশ নেয় শরিক দলের নেতারাও। তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ‍দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। রায়ের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

এই কারাগারের বন্দীদের ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই কেরানীগঞ্জে নির্মিত নতুন কারাগারে স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর থেকে কারাগারটি সেভাবেই পড়েছিল।

এখানে বিএনপি নেত্রীকে রাখায় কড়া সমালোচনা করে আসছেন দলটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়েছে।


মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্জন জায়গায় সম্পূর্ণ একা একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। এই অপরাধের জন্য এদের (সরকারের) বিচার হবে।’

জনগণের উত্তাল তরঙ্গের আন্দোলনের মাধ্য দিয়ে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গতকাল তাকে নিয়ে নানা কটূ কথা বলা হয়েছে।’


৮ ফেব্রুয়ারি বায়ের আগের দিন লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা ভাঙচুরের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবির অবমাননা করেন। এর জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

যে মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হয়েছে, সে মামলায় তারেক রহমানের দণ্ড হয়েছে ১০ বছর। এর আগেও অর্থপাচারের অভিযোগে একটি মামলায় তার সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাতেও তারেক রহমান আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে।’

‘জনবিছিন্ন হয়ে দেউলিয়া হওয়ার কারণে বিএনপির ১৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊধ্বর্গতি, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। যে কারণে সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের অংশ নেয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল স্বেচ্ছাসেবকদলসহ দলকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।


খালেদা জিয়ার দণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ, শনিবার প্রতিবাদ, সোমবার মানববন্ধন করেছে বিএনপি। আর আজ অবস্থান শেষে আগামীকাল বুধবার আছে অনশনের কর্মসূচি।

রায়ের আগে বিএনপি প্রধানের সাজা হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা ছিল বিএনপির। তবে রায়ের পর মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া হঠকারী কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন। এ কারণে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন।

ঢাকাটাইমস

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close