Home » রাজনীতি » হতবাক গোয়েন্দারা এলাকায় আতঙ্ক

হতবাক গোয়েন্দারা এলাকায় আতঙ্ক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাত্র দেড়শ গজ এবং সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবন বা ন্যাম ভবন থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে পশ্চিম নাখালপাড়ার রুবি ভিলার অবস্থান। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ভেদ করে কীভাবে উগ্রপন্থি জঙ্গিরা রুবি ভিলায় আস্তানা তৈরি করেছিল সে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে র‌্যাব-পুলিশসহ সবকটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের। অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে স্পর্শকাতর ওই এলাকার নিরাপত্তাই যদি এমন হয় তাহলে সারা দেশের নিরাপত্তা কেমন তা তো যে কেউ অনুধাবন করতে পারেন। অন্যদিকে, রুবি ভিলার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে।

বাড়ির মালিক বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট পারসার সাব্বির রহমান, কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) রুবেলকে আসামি না করলেও তাদের উদাসীনতার বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া রুবি ভিলায় নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে।


তবে গতকাল পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। জঙ্গিবিরোধী পদক্ষেপ, যুদ্ধাপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেকের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে আবার স্বস্তিও রয়েছে।

কারণ আমাদের গোয়েন্দারা জঙ্গিদের সফলকাম হতে দেয়নি। তবে এটা ঠিক যে জঙ্গিরা একের পর এক স্পর্শকাতর এলাকায় তাদের আস্তানা তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ১৩/১ পশ্চিম নাখালপাড়ার পঞ্চম তলায় অভিযান চালায় র?্যাব। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তিন সদস্য নিহত হয়। আস্তানা থেকে তিনটি লাশ ও দুটি পিস্তল, তিনটি আইইডি বোমা, বিস্ফোরক জেল, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি লাশের নিচ থেকে একটি গ্রেনেড, গ্যাসের চুলার ওপর থেকে একটি গ্রেনেড ও সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ তারিখ জাহিদ পরিচয়ে এক যুবক ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। সে বলেছিল তারা তিন ভাই এই ফ্ল্যাটে থাকবেন।

গতকাল র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে কর্নেল ইমরানুল হাসান বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনে র?্যাবের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। তিনজনের নাম পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, ওই বাড়িটিতে আগেও দুবার অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব। এরপরও বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। বাড়িটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। বাড়ির মালিক সাব্বির, কেয়ারটেকার রুবেল এবং মেস পরিচালক শীতল নামের ছেলেটিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে পশ্চিম নাখালপাড়ায় গিয়ে কথা হয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে।

কেউ কেউ বলছিলেন, র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে কীভাবে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে। যদি এর মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলত? তবে রুবি ভিলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে ছয়-সাতজন র‌্যাব সদস্য বাড়ির নিচতলায় বসে আছেন। উপরে যেতে চাইলে তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, কোনো ফ্লোরে যেতে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জঙ্গি আস্তানার ফ্লোরটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন ফ্লোরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
বিডি প্রতিদিন

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close