ব্রেকিং:
Home » রাজনীতি » ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সঙ্গে রাজপথে থাকবে জামায়াতও

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সঙ্গে রাজপথে থাকবে জামায়াতও

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী- ছিল, আছে এবং থাকবে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরাও রাজপথে থাকবেন। এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্কিত রায় এলে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে সরকারের সেই নীলনকশার প্রতিবাদ জানাবে জামায়াতও। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামী- বিএনপি থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে- বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঝে মধ্যে এমন খবর এলেও তা সম্পূর্ণ নাকোচ করে দিয়েছেন দলটির নেতারা। দু’দলের মধ্যে বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই বলেও জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন।


আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও এমন কোনো প্রশ্নই উঠে না বলেও সাফ জবাব জামায়াত নেতাদের। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের মতো ‘জল্লাদের’ সঙ্গে জোটে যাওয়া মানে দলের হাজারও শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। যা কখনোই সম্ভব নয়। এ কথা ২০ দলীয় জোটের মিটিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আবদুল হালিম জানিয়ে দিয়েছেন।

জামায়াত নেতাকর্মীরা মনে করেন, ২০০১ এর নির্বাচনের আগে যে প্রেক্ষাপটে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল জামায়াত, সেই দৃশ্যপট আজও বদলায়নি। প্রকারান্তরে সেই সময়ের চেয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট আরও কঠিন ও জটিল। সুতরাং বিএনপি বা ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের আলাদা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক। জোটের প্রধান বিএনপির সঙ্গে জামায়াতকর্মীদের বিভিন্ন সময় ছোট-খাটো মতপার্থক্য হলেও সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো বড় ধরনের কোনো মতবিরোধ নেই। সুতরাং বিএনপি জোট থেকে আলাদা হওয়ার প্রশ্নই আসে না। নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যেও জোটের সব মিটিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিরা সব সময় অংশ নিয়েছে, নিচ্ছে।

দলটির নেতাদের দাবি, জাতীয়, দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ভোটের অধিকারসহ গণমানুষের অধিকার আদায়ে ২০ দলের সঙ্গে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছে। দেশে আজ মানুষের ভোটের অধিকার নেই। নির্বাচন মানেই সরকারি দলের নেতাদের কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি। সেই সাথে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নির্মূল করতে শীর্ষনেতাদের ফাঁসি দিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আটকে রেখেছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ দখল করে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হত্যার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করেছে। সেই সাথে অছাত্র ও নেশাখোরদের দৌরাত্মে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে।


অন্যদিকে সরকারি দলের দখল ও লুটপাটের কারণে, দেশের সরকারি বেসরকারি সব ব্যাংক ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। দেশের রাজনীতিকে যেমন গৃহবন্দী করা হয়েছে, সেই সাথে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকার নতজানু নীতি অবলম্ভন করেছে। এটা বেশিদিন চলতে পারে না।
জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও একনায়কতন্ত্রের শৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জোটের যেকোনো সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে প্রস্তুত জামায়াতে ইসলামী।


জামায়াত নেতাকর্মীরা গ্রেফতার, গুম, হত্যার ভয়ে ভীত নয় উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির ওই শীর্ষনেতা বলেন, সাবেক দু’জন মন্ত্রীসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ৫ নেতার একের পর এক ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এখনো বেশ ক’জন নেতা মৃত্যুর মুখে রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিনাবিচারে জামায়াত-শিবিরের হাজারও নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আর মামলায় আসামি হয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মী সারাদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতেও থেমে যায়নি দলের নেতাকর্মীরা। সবকিছুর পরও দলীয় ও জোটের সব কর্মসূচিতে জীবন বাজি রেখে সারা দেশে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

তারা বিগত দিনের মতো ভবিষ্যতেও সব শক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজপথে থাকবেন।
শীর্ষনিউজ

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close