‘ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে আর ভোটকেন্দ্র ভারতে, তা কি হয়?’

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ. এফ. রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে আর ভোটকেন্দ্র ভারতে, তা কি হয়? মূলত ভোটই তো হলকেন্দ্রিক, ভোটের কেন্দ্র হলের বাইরে হয় কীভাবে? বিষয়টা সাংঘর্ষিক।’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিমিয়ে পড়া ডাকসু’তে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের দাবি-দাওয়া ছাড়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনই ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনকে ঘিরে হল শাখা ছাত্রলীগের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে কথা হয় হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। এ আলাপচারিতার চুম্বক অংশ বাংলা ইনসাইডারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

বাংলা ইনসাইডার: ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন, কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

হাফিজুর রহমান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬,০০০ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ডাকসু। এতদিন ডাকসু না থাকায় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার অপ্রতিষ্ঠিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সকল ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগের কারণেই অবশেষে ডাকসু নির্বাচনটা হতে যাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি সাধুবাদ জানাই, সেইসঙ্গে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনটা হোক, তা প্রত্যাশা করছি।

এতদিন কেন নির্বাচন হয়নি বলে মনে করেন?

ডাকসু নির্বাচনটা কারও না কারও দ্বারা আরও আগে শুরু হওয়া উচিৎ ছিল। সরকারের পরিবর্তন ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার একটি বড় কারণ বলে আমি মনে করি। আওয়ামী সরকার বরাবরই ছাত্রদের গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে। আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই ডাকসু নির্বাচনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই ডাকসু নির্বাচন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার কারণে ওইসময় ডাকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়াও ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত ছিল সরকার। এছাড়াও সকলের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করাটাও সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তাইতো ইচ্ছা থাকার পরও ডাকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ডাকসুর গঠনতন্ত্রে উপাচার্যের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরোধিতা করছে, এ ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী?

ইতিপূর্বে ৩৬ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। এতে উপাচার্য তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এমন দৃষ্টান্ত কিন্তু একটাও নেই। অতীতেও কোন উপাচার্য স্বেচ্ছাচারিতা করেননি, আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতেও করবেন না। ডাকসুতে উপাচার্যের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারাই যাদের হাতে গোনা কয়েকটা ভোট রয়েছে, যাদের নির্বাচনে জেতার কোন সম্ভাবনাই নেই। মূলত ডাকসু নির্বাচনটি বানচালের উদ্দেশ্যেই তারা এমন অভিযোগ তুলেছে।

নির্বাচনের দিন তো ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনকে ঘিরে আপনার পদক্ষেপ কী?

ঢাবির নির্দিষ্ট কোন কোর্সের শিক্ষার্থী না হওয়ায় আমি ডাকসুর প্রার্থী নই। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি তা যথাযথভাবে পালন করবো। পাশাপাশি ছাত্রলীগের প্যানেলকে জেতাতে আমি নির্বাচনী প্রচারণাসহ সকল ধরণের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের জন্য ক্যাম্পাস ও হলের সহাবস্থান কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

প্রথমে আসি ছাত্রদল প্রসঙ্গে। ২০১০ এ ছাত্রদলের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপ নিজেরা নিজেরা মারামারি করে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে তাদের কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। এবার আসি বাম দলগুলোর সহাবস্থান নিয়ে। প্রত্যেকটি বাম দল কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে মিটিং মিছিল করছে। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। ছাত্রলীগ কিংবা প্রশাসন তাদের বাধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ কেউই করতে পারবে না।

একটা হলে ১৫০০-২০০০ শিক্ষার্থী অবস্থান করে, তাদের প্রত্যেকেই তো আর ছাত্রলীগের কর্মী নয়। আমার মতে হলগুলোতে সকলেরই সহাবস্থান রয়েছে। আমদের আবাসন সংকট রয়েছে। হলে অবস্থান করার জন্য নিয়মিত ছাত্র এবং ছাত্রত্ব থাকাটা জরুরী। ছাত্রদলের অধিকাংশেরই ছাত্রত্ব নেই। তাদের হলে অবস্থান কতোটা যুক্তিযুক্ত?

ছাত্র ফেডারেশনের সেক্রেটারি শাকিল তো আমার হলেই থাকে। অন্যান্য বাম দলের নেতারা যাদের ছাত্রত্ব আছে, তারা প্রত্যেকেই হলেই থাকে। তাহলে কিভাবে সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি?

ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে হওয়ার দাবি জানিয়েছে অনেক সংগঠন, আপনার মতামত কী?

ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে আর কেন্দ্র যদি হয় ভারতে, তা কি হয়? মূলত ভোটই তো হলকেন্দ্রিক, ভোটের কেন্দ্র হলের বাইরে হয় কীভাবে? বিষয়টা সাংঘর্ষিক। ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মানবে না।

আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করেন?

এটা নিয়ে আমরা ছাত্রলীগের দলীয় ফোরামে বসব। যেহেতু এটা ডাকসু নির্বাচন তাই আমি মনে করি ছাত্রদের অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ই ইশতেহারে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটি সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে না, গবেষণার ক্ষেত্রে আরও কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, ছাত্রদের আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকাসহ গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো ফোকাস করেই আমাদের ছাত্রলীগের ইশতেহার আসবে। ছাত্রলীগের যে ইশতেহার আসবে তাতে সকল শিক্ষার্থীর অধিকার পুঙ্খানোপুঙ্খানোভাবে নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ছাত্রলীগের প্যানেলে যারা প্রার্থী হবে, কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের চূড়ান্ত করা হবে?

ছাত্রলীগে গণতন্ত্রের চর্চাটা বেশি হয়। সেক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশি যোগ্য তারাই এই নির্বাচনে আসবে। যারা সাধারণ ছাত্রদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং যারা সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে তাদেরকেই নির্বাচনে আনা হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন আপনাদেরকে ভোট দেবে?

ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে। বিগত কমিটি বা তার আগের কমিটি ছাত্রদের আবাসন সঙ্কট দূরীকরণে ভূমিকা রেখেছে। গত এগারো বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সঙ্কট, ছাত্র কিংবা ছাত্রী হলে খাবারের মান উন্নয়ন, রিডিং রুম সঙ্কট দূরীকরণে যতগুলো পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তার সবকিছুতেই ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থাসহ ভর্তি পরীক্ষায় নিজস্ব বাইকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া ইত্যাদি বিষয় ছিল উল্লেখ করার মত। এই কাজে ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিস’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক এবং আবাসিক ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানা সময়ে যে সকল সমস্যায় পড়েছে সেসব সমস্যা সমাধানে অর্থনৈতিক ও শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ। যেহেতু ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল তাহলে তারা কেনো ছাত্রলীগকে ভোট দেবে না?

বাংলা ইনসাইডার

Leave A Reply

Your email address will not be published.