পাপিয়ার প্রেমে মজেছিলেন আমলারাও

0

– হ্যালো ডার্লিং আমার কাজটার কি করলা?

– করে দেবো সুইটহার্ট, দাওয়াত দেও..

– ওয়েস্টিনে আসো, তোমারে খুশি করাইয়া দেবো।

এটি কোন সিনেমার সংলাপ নয়, একজন প্রভাবশালী সাবেক আমলার সঙ্গে পাপিয়ার হোয়াটসঅ্যপের মেসেজ এখন গোয়েন্দাদের হাতে। ১৫দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা পাপিয়ার ক্ষমতার উৎস সম্বন্ধে অনুসন্ধান করছে। এই ক্ষমতার উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ভাইবারের মেসেজ এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের হাতে।

জানা গেছে, প্রশাসনে এমন অনেক বন্ধু ছিল পাপিয়ার। যাদের কারণেই পাপিয়া ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিলেন। আর এই সমস্ত বন্ধুদের খুশি করার জন্যই ওয়েস্টিনে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট প্রায় দুই মাস ধরে ভাড়া নিয়েছিলেন পাপিয়া। ওয়েস্টিনে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে পাপিয়ার কাছে আসতেন বিভিন্ন আমলা, প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক। অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, অবসরে যাওয়া ৬ সচিবের সঙ্গে পাপিয়ার সখ্যতা ছিল।

বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা ৪ আমলার সঙ্গেও পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আছে। বলা হচ্ছে যে, পাপিয়া রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, পাপিয়া রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন ক্ষমতা দেখানোর জন্য। সরকারী দলে পদ পদবি পাওয়ার জন্য।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করার জন্য। কিন্তু পাপিয়া বিভিন্ন আমলা, প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নানা রকম টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ব্যবসার দেনদরবার করার জন্য এবং এই কাজের জন্যই পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেল ব্যবহার করতেন।

ওয়েস্টিন হোটেলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থেকেও বেশি যাতায়াত ছিল বিভিন্ন সস্থা, অধিদপ্তর, প্রকল্প পরিচালকদের মতো উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। সংস্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সমস্ত প্রকল্পের ঠিকাদারি টেন্ডারের কাজ পাইয়ে দেবার জন্য প্রথমে পাপিয়ার সাথে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করতো, এরপর সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা পেত পাপিয়া।

এরপর পাপিয়া তাঁর নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলত ওই আমলাকে। তারপর পাপিয়ার আমন্ত্রণে তাঁরা ওয়েস্টিন কিংবা অন্য কোথাও অতিথি হতেন। এসময় মদের আসরে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ধারণ করে ঐ আমলাকে ব্লাকমেইল করতেন। তখন ঐ আমলা চক্ষুলজ্জার কারণে এবং ভয়ে ঐ কাজ করে দিতেন।

এ কারণে অনেক বড় বড় ঠিকাদারদের মক্ষীরানী ছিলেন পাপিয়া এবং ঠিকাদারদের অর্থেই আসলে ওয়েস্টিন হোটেলে আসর চালাতেন পাপিয়া। আর এই মূল কাজ ছিল ঠিকাদারদের সঙ্গে প্রভাবশালী আমলাদেরকে মধ্যস্ততা করার।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, পাপিয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো আমলাদের বশে আনতে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতো। সবাই মনে করতো যে, যেহেতু পাপিয়ার সঙ্গে বড় বড় রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক রয়েছে, সেহেতু সে হয়তো এইসব কাজগুলো করে দিতে পারবে। আর এটা করার জন্য পাপিয়া তাঁর ফেসবুক একাউন্টসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ছবি তুলতেন এবং এই ছবির মাধ্যমে পাপিয়া নিজের ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করতেন।

অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা একটা চেইন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পাপিয়া নিজেকে বড় প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন এবং এটা প্রমাণের মাধ্যমে পাপিয়া আমলাদের সঙ্গে সখ্যতা করতেন। এরপরে তিনি ঠিকাদারদের ধরতেন। ঠিকাদারদের সাথে তাঁর চুক্তি হতো কাজ পাইয়ে দেবার বিনিময়ে।

অবশ্য খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকের কাজ তিনি করে দিবেন বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সেই কাজ করে দেননি, আবার অনেকের কাজ করে দিয়েছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, কোন কোন আমলা পাপিয়ার সঙ্গে ওয়েস্টিন হোটেলে গেছেন তাঁর তালিকাও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.