“করোনা” ভাইরাস সম্পর্কে নগরবাসীর প্রতি জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনের আহ্বান

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“করোনা” ভাইরাস সম্পর্কে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান

সু-প্রিয় নগরবাসী
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আপনারা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে। সারা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। চীনে সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের দেখা মেলে। এখন সারা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রে তা ছড়িয়ে গেছে। করোনা ভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি Crown বা ‘মুকুটের’ মত দেখায় বলে এর নাম হয়েছে ‘করোনা’। সংক্রামিত ব্যক্তি মুখ না ডেকে খোলা বাতাসে হাঁচি বা কাশি দিলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। এছাড়াও সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে হ্যান্ডশেক এবং ভাইরাস আছে এমন কিছু স্পর্শ করে হাত না ধুয়ে নাক, মুখ বা চোখে হাত লাগানোর মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ:-

১। সর্দি ২। কাশি ৩। হাঁচি ৪। জ্বর ৫। মাথা ও গলা ব্যাথা ৬। শ্বাসকষ্ট অনুভব করা ৭। অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া ৮। শিশু, বৃদ্ধ ও কম
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়:

ক) হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখুন এবং পরে হাত ধুয়ে নিন।
খ) রান্না না করা গোশত ও ডিম খাবেন না।
গ) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন।
ঘ) ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন।
ঙ) মাঝে মাঝে স্যানিটাইজার বা সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন।
চ) যথাযথ বিশ্রাম নিন।
ছ) ভিড় থেকে দূরে থাকুন ও সম্ভব হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।
জ) আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন।
ঝ) লক্ষণগুলো দেখা দেয়ামাত্রই বাড়িতে বিশ্রাম নিন, প্রচুর পানি পান করুন এবং নিকটতস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ যাই হোক হাদিসে অপরিচিত ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার যে কারণ উল্লেখ রয়েছে তাহলো-অশ্লীলতার ভয়াবহ সয়লাব। অপরিচিত ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা-বেহায়াপনা ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের মধ্যে এমন এমন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে যা ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি”। (ইবনে মাজাহ)

অপরিচিত ব্যাধি দেখা দিলে করণীয়:

যখন কোনো জনপদে অপরিচিত ব্যাধি দেখা দেয় তখন মানুষের জন্য ইসলামের দিক-নির্দেশনা হলো- ‘সর্ব প্রথম আল্লাহ তা’য়ালা কর্তৃক তাকদীরের উপর খুশী থাকা। সাওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য্যধারণ করা। আল্লাহর কাছে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া কে বেঁচে থাকতে সাহায্য চাওয়া’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে এসব অবস্থায় সান্ত¡না দিতেন। যারা আল্লাহ তা’য়ালার উপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রাখে, সেসব লোকের পায়ে যদি কোনো কাঁটাও ফুটে, তবে তারা আল্লাহর কাছে এর বিনিময় পাবে। মহান আল্লাহ বলেন- “আমি অবশ্যই ভয়-বিপদ, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি এবং আয় কমিয়ে দিয়ে তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলব। এসব অবস্থায় যারা সবর করে, তাদেরকে সুখবর দাও, যারা বিপদে পড়লে বলে, আমরা আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে” (সূরা আল বাকারাঃ ১৫৫-১৫৬)।

রোগ শোকের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন।সুতরাং এ সকল অবস্থায় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্য্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। মহানবী (স.) এ ধরণের অপরিচিত ব্যাধি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এ দোয়াটি পড়তে বলেছেন“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাছি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামী ওয়া মিন সাইয়্যিল আসক্কাম।” (আবু দাউদ, তিরমিজি) অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই, মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই, কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই আর আশ্রয় চাই দূরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুন এবং তাঁর গোলাম হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা মহানগরী উত্তর।

Leave A Reply

Your email address will not be published.