বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবি পার্টির প্রয়োজন কেন?

0

মাহবুব আলী খানশূর: এক. ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা’র স্লোগান নিয়েই মানুষ রাজনীতি করে। বাস্তবে জনবিরোধী হলেও সকল রাজনীতিবিদ জনগণের সেবক! আর সব রাজনৈতিক দল জনগণের জন্য কাজ করে! বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এমন স্লোগানের রাজনীতিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এককাতারে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের ভিন্নতা হলো- তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিবিদরা মনে করেন, ক্ষমতায় না গেলে নাগরিকদের জন্য সরাসরি কাজ করা যায় না। তবে উন্নত দেশগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাদর্শন পুরোপুরি উল্টো। তাদের ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়াও মানুষের জন্য কাজ করা যায়। বাস্তবেও তারা এ বিশ্বাসের প্রমাণ রাখে। ক্ষমতা তাদের মুখ্য নয়। এদের বিরোধী দল ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন ধারা অনুপস্থিত। ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। অনেক পার্টিতে সভাপতি-সেক্রেটারির বাইরে কারো দেখা মেলে না। এমনও পার্টি আছে যার সভাপতি ছাড়া কেউ পরিচিত নন এই পার্টির নেতা হিসেবে। এসব পার্টির প্রধান টার্গেট থাকে – কোন না কোন জোটের মাধ্যমে সরকারের অংশিদার হওয়া। আদর্শে, স্লোগানে কিংবা দর্শনে কিছুটা ভিন্নতা নিয়ে বড় দল ভেঙ্গে ছোট ছোট দল গঠনের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের পুরোনো ট্রেন্ড। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই এই ধারা অব্যাহত। ন্যাপ (ভাসানী), ন্যাপ (মোজাফ্ফর), জাসদ (ইনু), জাসদ (রব), বাসদ (মাহবুব), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), জাতীয় পার্টি (মতিন), জাতীয় পার্টি (নাজিউর) এমন অনেক দলের উদাহরণ আমরা জানি। এভাবে খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অনেক ছোট ছোট দলকে কয়েকভাবে ভাগ হয়ে য্ওায়ার দৃশ্যপট সবার জানা।

আবার দলছুট নেতারা গিয়ে নতুন দল গঠনের ট্রেন্ডও দেখা গেছে অনেক। ধরুন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে ‘বিকল্প ধারা’ দল গঠন করলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এলডিপি গঠন করলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম নামে রাজনৈতিক দল নিয়ে আছেন ড. কামাল হোসেন, ‘কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ‘ গঠন করলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ‘নাগরিক ঐক্য‘ নামে দল গড়লেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। মোটা দাগে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বড় রাজনৈতিক দলের আদর্শের সাথে নয়, বরং নেতৃত্বের মধ্যে বিবদমান দ্ব›দ্ব-অবিশ্বাসের কারনেই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেকে অভিমানে দল ছেড়ে নতুন দল গঠন করেছে। যেমন ধরুন, কাদের সিদ্দিকী ও মাহমুদুর রহমান মান্না পার্টি হিসেবে আওয়ামী লীগের আদর্শের তেমন সমালোচক নন, তারা কথা বলেন বর্তমান নেতৃত্ব ও তাদের নীতির। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এখনও রাজনীতি করেন। তাদের রাজনীতির বড় অংশ জুড়েই আছে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা। তেমনি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিংবা কর্নেল অলি আহমদের মূল সমালোচনাই হলো শীর্ষ নেতৃত্বের। জিয়াউর রহমানের প্রশংসায় তারা কৃপনতা করেন না, কেবল বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কারনেই তারা নতুন দল গঠনের বাধ্য হয়েছেন – এমনটা তাদের অভিযোগ।

এসব আলোচিত দলের বাইরেও বড় দলের সঙ্গী হয়ে অসংখ্য রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান যাদের সবার নাম খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। ধরুন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের অধীনে ১৪ দলসহ কতটি দল আছে – এগুলোর সব নাম উল্লেখ করা খুবই কঠিন। তেমনি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চারদলীয় জোটের বর্ধিত নামে ২৩ দলীয় জোটে কারা কারা আছে কেবল সচেতন রাজনৈতিক মহলই এসব রাজনৈতিক দলের আদর্শ-উদ্দেশ্য-বিস্তৃতি নিয়ে মন্তব্য করতে সক্ষম হবেন। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে – ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি ) নামে। কোভিড-১৯ আতঙ্কে পুরো বিশ্ব যখন লকডাউনে, বাংলাদেশের মানুষ যখন জীবন-শঙ্কায় ঠিক এমন-ই এক মুহুর্তে এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ। এমন এক সময়ে নতুন এই রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গেলেও প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের কাছে দলটির বার্তা পৌঁছাতে হয়তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। লকডাউন শেষ হলে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে হয়তো এই পার্টি সম্পর্কে পুরোপুরি পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। তবুও সোশাল মিডিয়ায় নানাবিধ মতামত, পাল্টা মত দেখে মনে হলো ইতিহাসের আলোকে কিছু লিখি। যদিও এই লেখাটিতে এবি পার্টি নিয়ে আমার নিজের কোনো মতামত চাই না। রাজনীতির মাঠে এই পার্টির নেতারা ভবিষ্যতে কেমন পারফরম্যান্স করে তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লিখবো, এ আশা রাখছি।

বিশ্লেষণের খাতিরেই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এবি পার্টির স্লোগান অন্য হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত এই দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বের হয়ে কিছু নেতা-কর্মীর একটি প্লাটফর্ম। তাদের জন্মের ইতিহাস অন্য অনেক দলের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কেননা একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে, বিএনপি থেকে বেরিয়ে ‘বিকল্প ধারা’ গঠনের ক্ষেত্রে বি.চৌধুরীকে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। অর্থাৎ শুরুতেই তাদেরকে একটি রেজিমকে চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছে। পক্ষান্তরে, এবি পার্টির পরিস্থিতি পুরোই আলাদা। তাদের জন্মের কিংবা আতুর ঘরে বসে রেজিমকে চ্যালেঞ্জের কোনো নজির নেই। বরং বাংলাদেশ জামায়াত-ই ইসলামী থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করায় এবি পার্টির নেতারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বাহবা কুড়াচ্ছেন। আবার, রাজনৈতিক আদর্শের প্রেক্ষাপটে এই দলটি দৃষ্টিভঙ্গিও শতভাগ ভিন্ন। ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে তরুন বয়সে যারা ‘কলেমার পতাকা’ হাতে নিয়েছিল, তাদের নতুন রাজনীতিতে ‘ইসলাম কোনো রাজনৈতিক মতবাদ নয়’ এবং ‘কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা‘ই প্রধান লক্ষ্য। তাহলে দেখা যাচ্ছে, নতুন দল গঠনের ট্রেন্ডে এবি পার্টির দু‘টি নতুনত্ব বা ভিন্নতা, আর তা হলো – এক. কোনো রেজিমকে চ্যালেঞ্জের অনুপস্থিতি, দুই. পুরোনো রাজনৈতিক আদর্শকে পুরোপুরি বর্জন।

এই দু‘টি ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য এবি পার্টির জন্য আখেরে আশীর্বাদ না-কি অভিশাপ হিসেবে কাজ করবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে এতটুকু বলা যায়, আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসবিাদী একটি রেজিমকে চ্যালেঞ্জ করতে করতে ক্লান্ত অনেক পথিক হয়তো এখন এবি পার্টির প্লাটফর্মে নাম লিখাতে পারেন। আর এজন্যই হয়তো কমিটি ঘোষণার মঞ্চে বারবার বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করতে কার্পণ্য করেননি নতুন দলটির নেতারা। অন্যদিকে, ইসলামিক রাজনীতিকে বর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কিছু নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন প্লাটফর্মে নিশ্চয়ই কিছু ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের দেখা মিলবে, যার আভাস ইতোমধ্যে তাদের আহŸায়ক কমিটিতে দেখা গেছে। শোনা যায়, বিএনপি কিংবা কিছু ছোট দলের অনেক ‘ত্যাগী তবে পিছিয়ে পড়া’ নেতারাও নতুন প্লাটফর্মে যোগদানের প্রহর গুনছেন বলে কানাঘুষা আছে। এবি পার্টির নেতারাও এমন আভাস দিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষণের বিষয় হলো – বাংলাদেশের রাজনীতির মাটিতে এমন প্লাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা কতুটুকু ? আর এই প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা এবি পার্টি কিভাবে অর্জন করবে?

দুই: প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে দেখা যায়, বাংলাদেশের দু’টি বড় রাজনৈতিক জোটে অধিকাংশ দল অন্তর্ভুক্ত। এদের একটি ১৪ দলীয় জোট, যার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অপরটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট। রাজনীতির মাঠে অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বামপন্থী ৮টি, আঞ্চলিক ৩টি এবং অন্যান্য ছোট ৪১টি দল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় দল থেকে আলাদা হয়ে ছোট দল গঠনের যেমন নজির রয়েছে তেমনি অনেক ছোট দল নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে জোটের সাথে অঙ্গিভুত হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হলেও এককভাবে কখনো ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তবে ভোটের মাঠে অবস্থান ভালো হওয়ায় দু’বার বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে মসনদে বসার সুযোগ করে দিয়েছে এই দলটি। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরে কোন এক সময় ভাংগনের ফলে ‘যুবশিবির’ নামে নতুন সংগঠন গঠিত হলেও জামায়াতে ২০১৯ এর আগে কখনো ভাংগনের পরিবেশ তৈরি হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন দলের সাবেক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। এ ঘটনার কয়েকদিনের ব্যবধানে জামায়াত তার মজলিশে শূরার সদস্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুজিবর রহমান মঞ্জুকে দল থেকে বহিস্কার করে। জানা যায়, তারা উভয়ই দলের নানা ক্ষেত্রে সংস্কার দাবী করায় দল থেকে সিটকে পড়েন। দল থেকে বহিস্কারের পর পরই মুজিবর রহমান মঞ্জু ‘জন আকাংখার বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম তৈরী করলে তাতে উৎসাহ দেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। এতে জামায়াতের সমর্থক ও নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনা শুরু হয়, জামায়াত ভাংগনের উদ্দেশ্যেই তারা কৌশলে দল থেকে বের হয়ে গেছে। গত এক বছর নানা আলোচনা ও সমালোচনার মাঝেই এ বছরের ২ মে তারা নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষনা দেয়। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি ) নামে দলটি একদিকে জামায়াতের ‘বি-টিম’ অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দালাল অভিযোগ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে করোনা মহামারীর সময়ে। আর আত্মপ্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়, ছাত্রশিবির থেকে আলাদা হয়ে যুব শিবির যেমন কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে, তেমনি এবি পার্টি সময়ের পরিক্রমায় কি হারিয়ে যাবে ?

যুব শিবির আর এবি পার্টির গঠনের প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় উঠে আসে। যুব শিবির গঠনের সময় ছাত্রশিবিরের শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতা একসাথে বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে এবি পার্টিতে একমাত্র মঞ্জু ছাড়া আর কোন শীর্ষ জামায়াত নেতা এখন পর্যন্ত ওই পার্টিতে যোগ দেয়নি। তবে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও জামায়াতের লন্ডন প্রবাসী প্রবীণ নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দিন ওই দল গঠন এবং পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তারা দু’জনই জামায়াতে দীর্ঘদিন শীর্ষ পদে কাজ করায় তাদের সাথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে সম্পর্ক তৈরী হয়। তাদের সেই অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এবি পার্টি এগিয়ে যাবে – নাকি অন্যান্য দলের মতো ক্ষমতায় অংশিদার হতে কোন জোটের শরিক হবে, সেটি এখন দেখার বিষয়। এছাড়া এবি পার্টি চূড়ান্তভাবে দলের কার্যক্রম শুরুর আগে এক বছর জন আকাংখার বাংলাদেশ নামে যে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করেছিল, তার মাধ্যমে তারা সারা দেশে দল গঠনের কাজ করে। ওই সময়ে তারা জামায়াত ও শিবিরের প্রবাসী বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা কর্মীকে তাদের দলের সদস্য করতে সক্ষম হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের দলের প্রচারণা ও ভবিষ্যত কার্যক্রমের পরিকল্পনা ছিল চোখে পড়ার মতো। জন্মপূর্ব এবি পার্টির সক্ষমতা এবং তাদের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো বড় কোন কর্মসূচি ও পরিকল্পনার আভাস তারা দিতে পারেনি।

এবি পার্টির ঘোষিত আহবায়ক কমিটিতে ব্রিটেনের বেশ কয়েকজন তরুন আইনজীবী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো বলে প্রচার থাকলেও আদতে তাদের বেশিরভাগই রাজনীতিতে অগ্রগামী ছিলেন না। একমাত্র ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ লন্ডনে জামায়াতের একটি পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কিন্তু সরাসরি শিবির বা জামায়াতের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদের অভিজ্ঞতা তার নেই। এমনকি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও চৌধুরী মঈনুদ্দিন ওই দলের পেছনে ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে বলে দাবী করা হলেও দৃশ্যত তারা সামনে আসছেন না। ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ন পদধারী কোনো নেতা এই দলে যোগ দেয়নি। কেউ কেউ দেড় দশক আগে শিবিরের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে থাকলেও সাম্প্রতিক মাঠের রাজনীতিতে তাদের ঝোলা একেবারেই শুন্য। এই শুন্যতাকে পূর্ন করার জন্য এবি পার্টির টার্গেট ছিলো শিবিরের সাবেক এক জেনারেল সেক্রেটারীকে দলে ভেড়ানো। তারা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বহু দেন দরবার করেছে। কিন্তু শিবিরের ওই সাবেক জেনারেল সেক্রেটারী উল্টো জামায়াতের আইনজীবীদের একটি শাখায় গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন হয়েছেন।

তিন: কোন আদর্শে চলবে এবি পার্টি ? বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আদর্শের বাইরে এবি পার্টির আদর্শে নতুনত্ব বা ভিন্নতা কিছু নেই। তাদের আহবায়ক ও সদস্য সচিব তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন সময় বলেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের আদর্শের ভিত্তি। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি কল্যান রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। পার্টির ওয়েব সাইটে দেয়া পরিচিতি পর্বে দেখা যায়- এক অংশে তারা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।এদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ধর্মীয় নেতৃত্বের একটি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে ধর্মীয় দলগুলো নিজেকে একমাত্র সঠিক, অন্যদের বাতিল মনে করায় বিপদজনক বিভাজনের জন্ম দিয়েছে।’ তাদের মতে, মতাদর্শ ও মতবাদের রাজনীতি নাগরিকদের মাঝে কেবল বিভাজনই বাড়ায়। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের যে নীতি সে নীতিগুলোই পারে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও মতাদর্শের নাগরিকদের মধ্যে ন্যুনতম জাতীয় ঐক্যের সূত্রপাত ঘটাতে। তাই মতাদর্শিক বিভাজন বর্জন করে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে পুনর্গঠনের কাজ করতে চায় তারা।

মূলত উপরোক্ত আদর্শের ভিত্তিতেই এবি পার্টি তাদের দল পরিচালনা করবে বলে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক দলের মূলনীতি ও লক্ষ্য তাদের দলের মূলনীতির সম পর্যায়ে। এক্ষেত্রে তাদের দলে নতুন কেউ যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে এই দলে নতুনত্ব বা ভিন্নতা কি আছে তা পর্যাবেক্ষনে গেলে অন্যান্য দলের চেয়ে তেমন ব্যতিক্রম কিছু পাবে বলে মনে হয় না। তাদের দলের অধিকাংশ নেতা কর্মী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের। জীবনের বেশির ভাগ সময় তারা মনে-প্রানে ও কর্মে বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ওই নেতা কর্মীরাই এখন এমন এক রাজনীতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে কোন মতবাদ ও মতাদর্শ থাকবে না। কিন্তু ধর্মভীরু বাংলাদেশি জনগনের কাছে তাদের আবেদন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে – তা এখন বিবেচ্য বিষয়। আমরা যেভাবেই পর্যালোচনা করি, এদেশে ইসলাম ধর্মের জন্য মুসলমানদের আবেগ বরাবরই প্রমাণিত। হেফাজতে ইসলামী, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস কিংবা ইসলামী ঐক্যজোটের রাজনীতিকে মিডিয়ায় যেভাবেই প্রদর্শন করা হোক, ইসলামী রাজনীতির জায়গাটা কখনো নিশ্চিহ্ন হওয়ার নয়। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি ,অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন প্রতিবেশি ভারতের প্রভাব দৃশ্যমান। আর ভারতে বর্তমানে মোদী সরকারের জয়জয়কার। তাদের পেছনে কাজ করছে হিন্দুত্ববাদ। তার মানে সেদেশের রাজনীতিতেও ধর্মের বিরাট প্রভাব দেখা যায়। সুতরাং বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন মতবাদ ও মতাদর্শ উপেক্ষা করে কেউ রাজনীতি করতে চাইলে তা কতটা সফলতা পাবে তা ভবিষ্যত সময়ের ওপরই ছেড়ে দেয়া যায়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক আদর্শের ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে যারা বিএনপি’র রাজনীতি করে তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। পক্ষান্তরে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তারা বঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও সেকুলারিজমে বিশ্বাসী। আর ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর স্ব স্ব আদর্শের স্লোগান থাকলেও তা সাধারণ জনগনের কাছে পৌছাঁয়নি। তাই এবি পার্টির ‘কল্যান রাষ্ট্রের’ যে ধারনা প্রচার করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তা কতটুকু পৌছাবে তাও বিবেচ্য । তাছাড়া কল্যান রাষ্ট্রের ধারনা নতুন বলা হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামীর স্লোগানেও ‘ইসলামিক কল্যাণরাষ্ট্র‘ গঠনের কথা বলা হয়। আবার ‘কল্যান পার্টি ’ নামে একটি রাজনৈতিক দলও রয়েছে। অবসর প্রাপ্ত একজন সামরিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে সে দল দীর্ঘদিন যাবৎ ‘কল্যান রাষ্ট্র‘ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছেন। এবি পার্টির নেতা কর্মীরা যুক্তি দেখাতে পারেন, কল্যান পার্টি যে ধারনা নিয়ে বাংলাদেশকে কল্যান রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে চায় তা কার্যকর নয়। তারা আধুনিক ও ভিন্ন উপায়ে দেশকে কল্যানরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে , কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ তথা সিপিবি’র মূলনীতিতেও রয়েছে বাংলাদেশকে একটি জনকল্যান রাষ্ট্রে পরিণত করা। আবার রাষ্ট্রদার্শনিক প্লেটো ও এরিস্টটলরাও ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কল্যান রাষ্ট্রের ধারনা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে , নব গঠিত এবি পার্টির ‘কল্যান রাষ্ট্রের কাঠামো কী ? তারা কেমন কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়?

’৭১ ইস্যু কি দল গঠনের মূল কারণ: এবি পার্টি তার পরিচিতি পর্বে উল্লেখ করেছে : ‘ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পবিত্র ধর্ম নিয়ে বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি রাজনৈতিক অনৈক্য বিদ্যমান। তাই এবি পার্টি ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রেখে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে।’ ধর্মের বিষয়ে এবি পার্র্টির অবস্থান আগে আলোচনা করায় এখন আসা যাক তাদের দলে আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি কেন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পার্র্টির মূল উদ্যোক্তাদের অন্যতম দু’জনের জামায়াত থেকে বের হয়ে আসার পেছনে ছিল ’৭১ এর বিষয়ে জামায়াতের ক্ষমা না চাওয়া। এদের একজন মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘জামায়াতে রাজনৈতিক সংস্কারের যৌক্তিকতা, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা প্রসঙ্গে আমার সুস্পষ্ট মত ছিল যে জামায়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’ ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকও পদত্যাগের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দুটি কারণ উল্লেখ করেন। ১. জামায়াত ’৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি। ২. একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে এবং অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে জামায়াত নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি। ব্যারিস্টার রাজ্জাক এবি পার্টির আহবায়ক কমিটির কোন পদে না থাকলেও পূর্নাঙ্গ কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন হবেন বলে মনে হচ্ছে। কারন ১৪ মে ২০২০ প্রথম আলোতে এক সাক্ষাৎকারে এবি পার্টির নবনিযুক্ত আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘যখনই প্রয়োজন হয়, তখনই আমরা ওনার (আবদুর রাজ্জাক) পরামর্শ ও সহযোগিতা চাই। তিনি পরামর্শ দেন। সময়ই বলে দেবে, তিনি এবি পার্টির দায়িত্বশীল পদে আসবেন কি না।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবদুর রাজ্জাক এবি পার্টির নেতৃত্বে আসবেন। ওই পর্যন্ত তাঁর ছায়া নেতৃত্বে দল চলবে।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এবি পার্টির মূল উদ্যোক্তারা ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার কারনে দল থেকে বের হয়ে এসেছেন। কিন্তু তাদের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য – সাক্ষাৎকার ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা কোন জোটের শরীক হয়ে ক্ষমতার অংশিদার হতে আগ্রহী। কারন এবছরের ১৪ মে দলের আহবায়ক সোলায়মান চৌধুরীকে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয় আপনারা কোনো জোটে যাবেন কি না ? উত্তরে তিনি জানান , ‘ এ মুহূর্তে কোনো জোটে যাওয়ার মতো সামর্থ্য এবং ইচ্ছা কোনটিই আমাদের নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, এবি পার্টি কারও লেজুড়বৃত্তি করবে না। না বুঝে, না শুনে আমরা কোনো জোটে যাব না। যাওয়ার একটাই মোটিভ হবে, ওই দলের লোকজনের মন-মানসিকতায়, চিন্তা চেতনায়, কর্মসূচিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় কি না। সেটাই হবে আমাদের কারও সঙ্গে জোটে যাওয়ার ভিত্তি।’ এ থেকে স্পষ্ট প্রমান হয় , তারা কোন না কোনা জোটের সাথে অঙ্গিভুত হবে। জোটে যাওয়ার শর্ত হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, ‘ওই জোট মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় কিনা? ’ সচেতন জনগনের বুঝতে বাকী থাকে না , বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও জোটই ‘ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় না ’ একথা বলে না। তার মানে সব দল ও জোটই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সুতরাং এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, এবি পার্টি সুযোগ পেলে যে কোন স্বার্থে যে কোন সময় যে কোন জোটে যেতে পারে। হতে পারে ক্ষমতার অংশিদার।

একই সাক্ষাৎকারে সোলায়মান চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়, আওয়ামী লীগ যদি আপনাদের ডাকে, যাবেন কিনা ? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে মূলনীতি, তা হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। আবারও বলছি, তাদের কর্মসূচিতে যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি যুক্ত থাকে এবং তাদের নেতাদের এই মনমানসিকতা যদি থাকে, আলাপ-আলোচনা যদি এমন হয় যে, আমরা আশার আলো দেখি যে, তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করবেন এবং মানুষকে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন তাহলে আমরা বিবেচনা করব।’ উনার বক্তব্যের আলোকে পাঠককে মনে করিয়ে দিতে হয়, এবি পার্টির অধিকাংশ নেতা কর্মী জামায়াত ও শিবিরের। তারা খুব ভাল করেই জানে আওয়ামী লীগ গত ১২ বছরে জামায়াত নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে, সারা দেশে তাদের কাজে বাঁধা দিয়ে ও শিবিরের নেতা কর্মীদের সারা দেশে গুম ও খুন করে কি ধরনের ত্রাসের রাজত্ব তৈরী করেছে।

শুধু জামায়াত ও শিবিরের মতো একটি গোষ্ঠীর অধিকার হরন করেনি, আওয়ামী লীগ সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার হরণ করছে প্রতিনিয়ত। দেশের মানুষের গনতন্ত্র ও ভোটের অধিকার হরণ করে তারা দেশের অর্থনীতি , শিক্ষা , বিচার ব্যবস্থা , সামাজিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোসহ সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করেছে। আগামীতে আরো কত বছর তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকবে তারও কোন ঠিক নাই। আর এই আওয়ামী লীগের কাছে এবি পার্টি প্রত্যাশা করে তারা তাদের কর্মসূচিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি যুক্ত করে , তাদের নেতাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন হয়ে তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করবেন এবং মানুষকে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। আওয়ামী লীগের বিষয়ে এবি পার্র্টির ওই বক্তব্যকে সাধারণ জনগন হাস্যকর বলে অভিহিত করছেন। তাই সবশেষে এবি পার্টির বিষয়ে উপসংহার টানতে গিয়ে বলা যায়, ’৭১ এ জামায়াতের ভূমিকা ও দলে সংস্কার দাবী করে যারা দলত্যাগ করে তারাই দেশকে কল্যানরাষ্ট্রে পরিণত করার মতো চটকদার স্লোগান দিয়ে নতুন দল গঠন করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা গতানুগতিক অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো ক্ষমতার অংশিদার হতে নানা কৌশল নিচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.