Take a fresh look at your lifestyle.

কালজয়ী সে গানের কথা, কে এখন লিখবে?

0 56

একটি গানের পূর্বশর্ত হলো ‘কথা’। গান তখনই গান হয়ে উঠবে যখন তা ছন্দবদ্ধ আকারে লেখা হবে ও সুর মেশানো হয়। আমাদের দেশের লোক সংগীত কেন এত প্রসিদ্ধ? যার অন্যতম কারণ সে গানগুলো কথা নির্ভর। গান শোনার ক্ষেত্রে শ্রোতারা গানের কথাকে অন্যরকম গুরুত্ব দেয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে আমাদের চলচ্চিত্রের গানের বেলাতেও।

এক কথায় বলতে গেলে, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে সকল গান কালজয়ী হয়েছে, পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা, তার মূলে রয়েছে এই সকল গানের কথা। সেই সব সোনালী দিনের গান ও তার কথা আজও আমাদের মনে দাগ কেটে যায়।

আমাদের চলচ্চিত্রের গানকে জনপ্রিয় ও অর্থবহ করার ক্ষেত্রে যে মহান ব্যক্তিদের অবদান চির ভাস্বর। তাঁদের একজন হলেন খান আতাউর রহমান। তাঁর হাতেই রচিত সেই সময়ের অনেক শ্রোতা প্রিয় গান। যে তালিকায় আছে তাঁর লেখা ‘মনের মত বউ’ চলচ্চিত্রের ‘আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভাল’। গানটি গেয়েছেন বশীর আহমেদ। একই চলচ্চিত্রে তাঁর রচিত সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে’।

শুধু এ গান দুটিই নয়, তিনি লিখেছেন,‘জোয়ার ভাটা’ চলচ্চিত্রের `মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক` গানটিও। এ গানটিতেও কন্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।`যারে যাবি যদি যা’ গানটিরও কথা এবং সুরও খান আতাউর রহমানের। তাঁর লেখা ও সুর করা আরেকটি কালজয়ী গান হলো,‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির ‘এ খাঁচা ভাংবো আমি কেমন করে।’

খান আতার পরে বাংলা চলচ্চিত্রে যে গীতিকারের নাম আসবে, তিনি হলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বাংলা চলচ্চিত্রে তার লেখা জনপ্রিয় গানের কথা লিখে শেষ করা যাবে না।`আকাশের হাতে আছে এক রাশ নীল`,`অনেক সাধের ময়না আমার’ মাহমুদুন্নবীর কন্ঠে ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো’ গানটির কথা তাঁরই।গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বলা যায় সবথেকে জনপ্রিয় গান `নীল আকাশের নীচে’ চলচ্চিত্রের খন্দকার ফারুক আহমেদের গলায় ‘নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তা চলেছি একা’। নিখাদ প্রেমের গান `চোখ যে মনের কথা বলে’,`পিচ ঢালা পথ` চলচ্চিত্রের আবদুল জব্বারের কন্ঠে ‘পিচ ঢালা এ পথটারে ভালোবেসেছি’ গানটির কথাও তাঁর। তেমনই তার লেখা ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রের মাহমুদুন্নবী ও রুনা লায়লার গলায় ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখি’ গানটির কথাও কি বাদ দেয়া সম্ভব?

কে. জি. মুস্তফা লেখা গানও কম জনপ্রিয় হয়নি। তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত গান হল তালাত মাহমুদের কন্ঠে ‘রাজধানীর বুকে’ চলচ্চিত্রের ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’। শাহনাজ রহমতুল্লাহর কন্ঠে ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’ গানটি। নাচের পুতুল চলচ্চিত্রের মাহমুদুন্নবীর গলায় ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ গানটিও তাঁর লেখা।

গীতিকারদের মধ্যে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক উজ্জল নক্ষত্র। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার তিনি। এমন একটি গান হলো ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রের খন্দকার ফারুক আহমেদের গাওয়া ‘শুধু একবার বলে যাও আমি যে তোমার কতটা প্রিয়’ ।একই চলচ্চিত্রের আরেকটি বিখ্যাত গান হলো আবদুল জব্বারের কন্ঠে ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়`। সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’টিও তার লেখা। সৈয়দ আব্দুল হাদির গাওয়া ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে’ গানটিও পেয়েছিল বেশ জনপ্রিয়তা।

ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালও বেশ জনপ্রিয় গীতিকার। ‘যোগ বিয়োগ’ চলচ্চিত্রে তিনি রচনা করেন `এই পৃথিবীর পান্থশালায়’ গানটি।‘দর্পচূর্ণ’ চলচ্চিত্রে তিনি রচনা করেন মাহমুদুন্নবী ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘তুমি যে আমার কবিতা’ গানটি।

এ তালিকায় রাখা যায় শহীদুল ইসলামের নামও।`মধুমিলন’ চলচ্চিত্রে ফেরদৌসী রহমানের কন্ঠে `কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু’ গানটি তার লেখা। আছেন সৈয়দ শামসুল হক। `সুতরাং’ চলচ্চিত্রের `তুমি আসবে বলে ভালোবাসবে বলে’ গানটির কথা তারই। আরও অনেক জনপ্রিয় গান তার লেখা। সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে ‘ময়নামতি’ চলচ্চিত্রের ‘ফুলের মালা পরিয়ে দিলে’ অথবা এন্ড্রু কিশোরের কন্ঠের ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুর করা আগুন ও রুনা লায়লা গেয়েছিলে সেই ‘একাত্তরের মা জননী’, ‘নারীর মন’ চলচ্চিত্রের ‘ঘুমিয়ে থাকো ও সজনী’,‘ আমার হৃদয় একটা আয়না’ কিংবা ‘ তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’ গানগুলো ভোলার নয়। খোশনূর আলমগীরের লেখা ‘এই পথ চলি একা’ কিংবা ‘ এ দুটি ছোট্ট হাতে’, রফিকুজ্জামানের লেখা ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন ততো বড় নয়’ হুমায়ুন আহমেদের লেখা গানগুলোর কথাও কি শ্রোতারা ভুলতে পারবে? ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’র মত অসংখ্য কালজয়ী গান তিনি লিখেছেন। কবির বকুলের লেখাও রয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। যেমন ‘আমার মাঝে নেই এখন আমি’, আলম খানের লেখা ‘এখনতো সময় ভালোবাসার’। আনোয়ার পারভেজের লেখা ‘সে যে কেন এলো না কিছু ভালো লাগে না’।

বিখ্যাতদের কথার উপর সুর বসিয়ে কিংবা গেয়ে অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন। গীতিকাররা সাধারণত থাকেন আড়ালেই। গভীর জীবন দর্শনে দীক্ষিত গানের কথার এই কারিগররা জীবনকে দেখেছেন অনেক কাছ থেকে। আমরা এখনো কালজয়ী এসব গান শুনি আর খুঁজি কে এই গানের রচয়িতা। কোন কারিগরের সুনিপুন হাতে এই গানগুলোর সৃষ্টি। একটা সময়ে আমাদের গানের কথা এত সমৃদ্ধ ছিল আর এখনকার গানকে গীতিকাররা রীতিমতো অশ্লীল বানাতে ব্যস্ত থাকে।

বাংলা ইনসাইডার/

Leave A Reply

Your email address will not be published.