নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাই-প্রোফাইল নেতারা উপরে উপরে সাখাওয়াতকে নিয়ে হাঁটলেও তাদের অন্তরে বিরাজ করছে আইভী!ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে এখানকার নেতৃত্বদানকারী অনেক বিএনপি নেতাই আইভীর বিপক্ষে যাচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাদের সার্বিক কর্মকা- তেমনটাই প্রকাশ পেয়েছে বলে শহরময় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এরমধ্যে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর, সাবেক সংসদ আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিনের মতো হাই-প্রোফাইল নেতারা প্রার্থী হতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ প্রকাশ করেন নি। অথচ বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থী হতে এরা তিনজনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তদবির চালিয়েছেন কেন্দ্রে।
তাহলে এবার কেন তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন নি? সাধারণ ভোটার ও বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ দলটির কর্মী সমর্থকদের মাঝে এমন প্রশ্নই দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, আইভীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপক্ষে একেবারে আনকোড়া একজন প্রার্থী সাখাওয়াত। যার সাথে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে অনেক নেতাকর্মীর সাথেই নেই সম্পর্ক। তাহলে এমন একজন প্রার্থীকে এগিয়ে দেয়ার পিছনেই বা কী কারণ?
এ ব্যাপারে অনেকেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাই-প্রোফাইল নেতা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিনের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইভীর সাথে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সু-সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে এরা কেউই আইভীর বিপক্ষে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন নি।
এরমধ্যে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের রাজনৈতিক গুরুই হচ্ছেন আইভীর পিতা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান প্রয়াত আলী আহম্মদ চুনকা। তিনি মূলত তার হাত ধরেই শ্রমিক রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। এ সুবাধে দীর্ঘদিন ধরেই আইভীর সাথে তৈমূরের একটি সু-সম্পর্ক রয়েছে। অনেকটা পারিবারিক সদস্যর মতোই তারা।
এছাড়াও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিরেন সাথেও আইভী ও তার পরিবারের সাথে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এরমধ্যে একসময়কার কৃষকলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিনের সম্পর্কটা শুরুই হয় আইভীর পিতা আলী আহম্মদ চুনকার মাধ্যমে। এরপর একই দলীয় লোক হওয়ার সুবাধে আইভীর সাথেও সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। তাছাড়া আইভীর বিয়ের উকিলও সাবেক এই সংসদ সদস্য। এ সম্পর্ক বর্তমানেও বিরাজমান। একই ভাবে অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সাথে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সু-সম্পর্ক রয়েছে আইভীর।
মূলত এ সম্পর্কের কারণেই বিএনপির ওই তিন নেতা এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ প্রকাশে করেন নি বলেই মনে করছেন দলটির তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াতের কোন যোগ্যতাই নেই। সে একজন মেম্বার হওয়ারও যোগ্যতা রাখে না। দলীয় নেতাদের সাথে সাখাওয়াতের দূরত্ব অনেক। তাই তার ব্যাপারে অনেকেরই অনিহা রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, রাজনীতিতে সম্পর্ক বলে কোনো কথা নেই। তাদের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। সেটা ব্যক্তিগত। কিন্তু সেটা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, এই সরকারের প্রতি কারোরই আস্থা ছিলো না। নির্বাচন হবে কী হবে না? এ নিয়ে শঙ্কা ছিলো। যার কারণে প্রার্থী হওয়ার জন্য তেমন কোন প্রস্তুতি ছিলো না কারোরই। কেন না, ঢাকার নির্বাচন আপনারা দেখেছেন, সেখানে জোর করেই সিটি করপোরেশন তারা নিয়ে গেছেন। এখানেও যে তা হবে তার কী নিশ্চয়তা আছে?

আমাদের সময়.কম