ব্রেকিং:
Home » শীর্ষ সংবাদ » বিজয় দিবস ও তরুণ প্রজন্ম

বিজয় দিবস ও তরুণ প্রজন্ম

১৬ ই ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। আর বিজয় দিবস ২০১৬ হলো বিজয়ের ৪৫ বছর পূর্তি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি গৌরব ও অহংকারের দিন। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় সূচিত হয় এবং স্বাধীনতার সোনালী সূর্য পূর্ব দিগন্তে দেখা দেয়। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর ২৪ বছরের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধে সকল পেশাজীবীর মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে অংশগ্রণ করে। আর এদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল তরুণ প্রজন্ম।

তরুণ প্রজন্মের নির্ভীকতা, সাহসিকতা ও বলিষ্ঠতার কাছে পদদলিত হয় পশ্চিম পাকিস্তানের কালো থাবা। কিন্তু আজ তরুণ প্রজন্ম বিজয়ের আনন্দ থেকে কত দুরে? তরুণ প্রজন্মের কাছে বিজয় দিবস মানে বিশ্ব ভালবাসা দিবস, নববর্ষের মত একটি উৎসব মাত্র। বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তাদের সামনে তুলে ধরা হয় না। তরুণ প্রজন্ম দিনটিকে মূলত বনভোজন করে কাটিয়ে দেয়। দেশাত্মবোধক গানের পরিবর্তে চলে বিদেশী বিভিন্ন প্রকারের সঙ্গীত। এখন তরুণদের কণ্ঠে বেজে ওঠে না”এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা” “পূর্ব দিগন্তে সুর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল” প্রভৃতি গানের সুমধুর সুর। বিজয়ের ৪৫ বছর অতিবাহিত করে কি আমরা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে যাচ্ছি। এখন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে শুধু দেশাত্মবোধক গান শোনা যায়, রাজনীতিকদের বক্তৃতার মঞ্চ ও তাদের গাড়িতে বিজয়ের পতাকা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তরুণদের কাছে তুলে ধরার মত কেউ নেই। এজন্যই তরুণ প্রজন্ম আজ পথভ্রষ্ট। তরুণরা স্বাধীনতা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিজয় দিবসেও বিজাতীয় সংস্কৃতি নিয়ে মগ্ন থাকছে। তাই তরুণদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত হবে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে তরুণরা, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close