ব্রেকিং:
Home » খেলা » ছোটবেলায় এমন চেহারার জন্য ব্যাটিং-ই পেতেন না যে ক্রিকেটার

ছোটবেলায় এমন চেহারার জন্য ব্যাটিং-ই পেতেন না যে ক্রিকেটার

স্পোর্টস ডেস্ক: লোকে এখন চিনতে চাইছে এই শিশুটিকে। বিশেষ করে সোমবার চিপকে তাঁর অসামান্য ত্রিশতরানের পর এখন গুগল সার্চে সমানে খোঁজ পড়ছে তার। এমনকী ফেসবুক পেজও বাদ যাচ্ছে না। ভারতীয় ক্রিকেট খুব কম লোকই আছেন যাঁরা করুণ নায়ারকে ঠিকভাবে চেনেন। ফলে, করুণ সম্পর্কে যে কোনও তথ্যই এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

করুণ সম্পর্কে যতগুলি কাহিনি এই মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল করুণের ক্রিকেট শেখার দিনগুলির গল্প। জানা গিয়েছে ছোটবেলায় করুণ এতটাই হাবলু-গাবলু এবং প্রবল মোটাসোটা ছিলেন যে তাঁকে লোকের টিটকিরি শুনতে হত। তাঁর মোটাসোটা চেহারা নিয়ে লোকে হাসাহাসি করত। বলতে গেলে একদম গোলমটোল ধরনের চেহারা ছিল তাঁর।

৮ বছর বয়সে যখন ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় করুণের, তখন তাঁর কোচও এমন মোটাসোটা চেহারা দেখে খুশি হননি।

তারিখটা ছিল ২০০১ সালের ২৮ মার্চ। ওইদিন ক্রিকেট কোচ শিবানন্দের ক্যাম্পে গিয়েছিলেন করুণ। শিবানন্দ চেয়েছিলেন যাতে করুণ ক্রিকেট ক্যাম্পে যাতে না আসেন। কারণ, এমন মোটাসোটা ছেলেকে দিয়ে আর যাই হোক ক্রিকেট খেলানো যে যাবে না, তা নাকি বোধ হয়েছিল কোচ শিবানন্দের।

ছোট্ট করুণের জেদের কাছে হার মেনেছিলেন শিবানন্দ। কিন্তু, বড় কঠিন শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। এই শর্তে শিবানন্দ বলে দিয়েছিলেন তিনি যতদিন না চাইবেন ততদিন ব্যাটে হাতও ছোঁয়াতে পারবেন না করুণ। মেনে নিয়েছিলেন ছোট্ট করুণ। ১ বছর ধরে শুধু তাঁর কাজ ছিল কোচ শিবানন্দের নির্দেশ পালন করে যাওয়া। রোজ মাঠে গিয়ে শিবানন্দের নির্দেশমতো শুধু দৌড়ে যেতেন করুণ। ১ বছর পরে শরীরের বাড়তি মেদ ঝড়ার পর ব্যাট হাতে তোলার অনুমতি পেয়েছিলেন করুণ নায়ার।

১ বছরের এই কঠিন ফিটনেস ট্রেনিং করুণের ক্রিকেট জীবনের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এর কিছুদিন পরেই কর্নাটকের ছোটদের টিমে ঢুকে পড়েছিলেন করুণ। বাকিটা আজ এক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের বড় হয়ে ওঠার ঐতিহাসিক কাহিনিতে পরিণত হয়েছে।

কোচ শিবানন্দের সেই ফিটনেস ট্রেনিং-এর জন্য এখন রোজ ৬ কিলোমিটার করে দৌড়নো করুণ নায়ারের কাছে কোনও বড় ব্যাপার নয়। ক্রিজে পড়ে থেকে কীভাবে বড় রানের মানসিকতা রাখতে হয় তা নাকি এই ফিটনেস ট্রেনিং থেকেই পেয়েছেন করুণ। শিবানন্দ জানিয়েছেন, ২০০১ সালে তাঁর কাছে ক্রিকেট শিখতে এসেছিলেন করুণ। আর ২০০২ সালে কপিল দেবের জন্মদিনে শিষ্যকে ব্যাট উপহার দিয়ে শুরু করেছিলেন প্রশিক্ষণ। গুরু শিবানন্দ তখনই যেন দেখতে পেয়েছিলেন তাঁর শিষ্যের ভবিষ্যতের উত্থানকে।-এবেলা

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close