Home » খেলা » ক্রিকেট ইতিহাসের অদ্ভুত সব স্কোরবোর্ড

ক্রিকেট ইতিহাসের অদ্ভুত সব স্কোরবোর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি মাসের ১২ তারিখ ক্রিকেট বিশ্বে একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ঘরোয়া টি২০ ম্যাচের স্কোর দেখলে অবাক হবেনই হবেন! একি সত্যি! নাকি মজার ছলে সংখ্যাগুলো এ ভাবে সাজানো হয়েছে। মহিলা অনূর্ধ্ব ১৯ মুমালাঙ্গা এবং ইস্টার্ন দলের টি২০ ম্যাচ ছিল। সেখানে মুমালাঙ্গা দলের একমাত্র শানিয়া-লি সোয়ার্টের ১৬০ রান ছাড়া বাকি সতীর্থরা শূন্য রান করেন। অতিরিক্ত ৯ যোগ করে দলের রান হয় ১৬৯। এমন স্কোর বোর্ড ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম। তবে এমন মজার বা অবিশ্বাস্য স্কোর বোর্ডের উদাহরণ বাইশ গজে ভুরি ভুরি রয়েছে। সেই রকমই কিছু অদ্ভুত স্কোর বোর্ড তুলে ধরলাম আমরা।

মুমালাঙ্গা বনাম ইস্টার্ন, ২০১৬ (মহিলা অনুর্ধ্ব ১৯)- একাই ম্যাচ জেতানো বললে হয়ত শানিয়া-লি সোয়ার্টের ক্ষেত্রেই বলা যায়। একা ১৬০, বাকিরা ০। ইস্টার্নের বিরুদ্ধে এই টি২০ ম্যাচ ৪২ রানে জিতে নেয় শোয়ার্টের দল।

মহিলা দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম মহিলা বারমুডা, ২০০৮- বাইনারি কোডের মিল পাবেন বারমুডা দলের স্কোরবোর্ডে। ১ এবং ০ -তে সাজানো স্কোরবোর্ড। সর্বোচ্চ অতিরিক্ত ১০। বারমুডা মোট তোলে ১৩ রান। এই রান করতে তাদের সময় লেগেছিল ৭৭ মিনিট।
কিন্তু জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার মাত্র ৪ মিনিটে ৪ বলে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়।

অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, ১৯৫০ – ক্রিকেটে ব্যাটিং বা বোলিং ঝড় আমরা দেখি। কিন্তু সত্যিকারের ঝড় এসে স্কোরবোর্ডটাই ওলোটপালোট করে দেবে কেউ ভাবতে পারেনি। ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যাসেজ সিরিজে এমন ঘটনা ঘটে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া রান করে ২২৮। জবাবে ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নামে। ভীষণ আবহাওয়া খারাপ থাকায় অসি বোলারদের মুখে দাঁড়াতেই পারছিল না ফ্রেডি ব্রাউনের দল।
সুয়িংয়ের দাপটে কেউ ক্যাচ, কেউ বা বোল্ড আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ব্রিটিশ ব্যাটসম্যানরা।


হাতে তিন উইকেট রয়েছে। প্রথম ইনিংসের তখনও পিছিয়ে ১৬০ রানে। কিন্তু অধিনায়ক ফ্রেডি ব্রাউন ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন। এরপর…

ফের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নামে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া অন্তরায় হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও। লিন্ডসে হ্যাজেটদের অবস্থা আরও করুণ। ৩২ রানে ৭ উইকেট খুইয়ে বসে। তারাও ডিক্লিয়ার করে দেয়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে প্রয়োজনীয় তুলতে পারেনি।
৭০ রানে জেতে অস্ট্রেলিয়া।

গ্ল্যামোরগ্যান বনাম ওরচেস্টারশায়ার, ১৯৭৭ – শায়না-লি সোয়ার্টের মতো না হলেও আরও একটি অনবদ্য একক ব্যাটিং দাপট দেখা গিয়েছিল ১৯৭৭ সালে একটি কাউন্টি ম্যাচে। প্রথম ইনিংসে গ্ল্যামরগ্যান ৩০৯ রান করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওরচেস্টারশায়ারের ব্যাটসম্যানরা আয়ারাম-গয়ারামের ভুমিকা নেয়। কেউ ১০ রান পেরোতে পারেননি। শুধুমাত্র ওপেনার গ্লেন টার্নার এক দিকে দাঁড়িয়ে লড়ে গিয়েছিলেন।
১৪১ রানে অপরাজিত থাকেন। সেই ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

ইংল্যান্ড বনাম দ্য বি’এস, ১৮১০ – লর্ডস (ওল্ড গ্রাউন্ড) সাক্ষী ছিল একটি অদ্ভুত ম্যাচের, যেখানে একটি টিমের মোট রান ছিল মাত্র ৬। ১৮১০ সালে ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্য বি’এস নামে একটি নতুন দলের ঘরোয়া ম্যাচ হয়। দ্য বি’এস নামে নতুন টিম তৈরি করা হয়েছিল।
যেখানে প্রত্যেক ক্রিকেটারের পদবীর প্রথম ইংরেজি লেটার ছিল বি দিয়ে।
যদিও শেষ মুহূর্তে দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে অন্য নামের দুই জনকে নেওয়া হয়। ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে এই ম্যাচ জেতে।

হিন্দু বনাম রেস্ট, ১৯৪৩ – ধর্মবিশেষে ক্রিকেট দল নির্বাচন হয়েছিল ১৯৪৩ সালে। হিন্দু ধর্মের একটি দল এবং বাকি ধর্মের দল। বোম্বে (মুম্বই)-র ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ। বিজয় মার্চেন্টের হিন্দু দল প্রথম ইনিংসে রান করে ৫৮২।
অধিনায়ক মার্চেন্ট ২৫০ এবং হিমু অধিকারি ১৮৬ রান উল্লেখযোগ্য। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় রেস্ট টিম। তবে ফলো অন বাঁচাতে দ্বিতীয় ইনিংসে জ্বলে ওঠেন বিজয় হাজারে। একাই রান করেন ৩০৯। তাঁর ভাই বিবেক হাজারের সর্বোচ্চ ২১ ছাড়া কেউ তেমন কিছু করতে পারেনি।
সেই ম্যাচ জিতে যায় হিন্দু দল।

পাকিস্তান রেলওয়েস বনাম দেরা ইসমায়েল খান, ১৯৬৪ – ১৯৬৪ সালে আয়ুব ট্রফির একটি ম্যাচে দেরা ইসমাইল খানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান রেলওয়েস রান করে ৯১০। পারভেজ আখতার ৩৩৭, জাভেদ বাবর ২০০ এবং মহম্মদ শরিফ ১০৬ রান করেছিলেন। জবাবে দেরা ইসমাইল খান ৩২ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। ফলো অন বাঁচাতে গিয়েও মুখ থুবড়ে পড়ে। মাত্র ২৭ রানে সবাই আউট হয়ে যায়…
কিন্তু মজার বিষয় হল, দুই ইনিংসেই আনোয়ার খানের ১১ এবং জামিল আহমেদের ১০ ছাড়া সবার রান ছিল এক অঙ্কের। এক ইনিংস এবং ৮৫১ রানে ম্যাচ জেতে পাকিস্তান রেলওয়েস।

উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ড বনাম লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস, ২০১৫- ম্যাচের প্রথম দিনে মাত্র ১৯ ওভারে ৭ উইকেট পড়ে যায় লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের। তখন টিমের মোট রান ২৪। পিচের অবস্থা খারাপ দেখে অধিনায়ক স্টিভ লিবার্ড পুরো না খেলে বিপক্ষ টিমকে ব্যাট করতে নামায়।
কিন্তু দুই দিনের মধ্যে জয় ছিনিয়ে নেয় উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ড। অধিনায়ক স্টিভ লিবার্ড সেদিনের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না তার প্রমাণ স্কোরবোর্ড দেখেই বোঝা যায়।
রাজস্থান ডিভিশন বনাম চট্টগ্রাম ডিভিশন, ২০১৪ – বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের প্রথম ইনিংসে রাজস্থান ডিভিশন রান করে ৬৭৫। ৭ নম্বরে নেমে ফারহাদ রেজা ২৫৯ এবং ৮ নম্বরে নেমে ১৭২ রান করেন সুনজামুল ইসলাম।
কিন্তু ৯ নম্বরে নেমে মুকতার আলি একটি অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন। ১৬ ছয় এবং ৮টি চার মেরে ১৬৮ রান করেন তিনি। ৭,৮,৯ নম্বর স্থানে এমন স্কোর সত্যিই নজিরবিহীন। রাজস্থান ডিভিশন ৪০৩ রানে হারিয়ে দেয় চট্টগ্রাম ডিভিশনকে।-আনন্দবাজার

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close