Home » খেলা » বছরের শেষ দিনে জয় দিয়ে টাইগারদের উৎসব হবে তো?

বছরের শেষ দিনে জয় দিয়ে টাইগারদের উৎসব হবে তো?

স্পোর্টস ডেস্ক: ন্যাশনাল পার্কে গিয়ে পার্কেরই দেখা মিলল না। ট্রেইলওয়েজ হোটেল থেকে বাসে ৪০ মিনিটের মতো পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা দেখলেন সামনে ভেসে আছে তাসমান সমুদ্র।

বিস্মিত নেত্রে তাকিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা, ‘এখানে পার্ক কোথায়!’ বাসের ড্রাইভার কাম গাইড তো সেটা শুনে আরও বিস্মিত, ‘কেন, এটাই তো পার্ক! সামনে যা দেখছ, পুরোটাই ন্যাশনাল পার্ক।’

সিরিজের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেছে আগের দিন। স্যাক্সটন ওভালে আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার এক ম্যাচ। এ ম্যাচের গুরুত্ব কম বলেই হয়তো বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড কোনো দলই আজ অনুশীলন করেনি।

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য নেলসনে নতুন কিছু দেখার নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই শহরটা নতুন। ছুটির দিনে সেই নতুনের স্বাদ নিতেই ন্যাশনাল পার্ক দেখতে যাওয়া এবং গিয়ে কক্সবাজারের মতো একটি জনাকীর্ণ সমুদ্রসৈকত দেখে ফেরত আসা।

নেলসনের সবই মনকাড়া। বিশেষ করে উপমহাদেশ থেকে যাঁরা আসেন, এই শহরের ফুটপাত-রাস্তাঘাটকেও মনে হতে পারে স্বপ্নপুরীর অলিগলি। ন্যাশনাল পার্কের বদলে সমুদ্রসৈকত দেখে সে কারণেই খুব বেশি মন খারাপ হওয়ার কথা নয়।

তবে সমুদ্র দেখার প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে কিছুটা আফসোস আছে খেলোয়াড়দের। জিনস-জুতা পরে বালুকাবেলায় কয়েকটা ছবি তুললেই তো আর সমুদ্রবিলাস, সমুদ্রবিহার হয় না।


ওখানে গিয়ে বরং একটু বিব্রতই বোধ করে থাকতে পারেন ক্রিকেটাররা। সৈকতে ভিড় করা অন্য পর্যটকেরা যেখানে স্বল্পবসনে সমুদ্রস্নানে মগ্ন, সেখানে ক্রিকেটারদের গায়ে কিনা কেতাদুরস্ত পোশাক!

শিল্পীর তুলিতে আঁকা নেলসন থেকে একটাই ব্যথা বয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশ দল। স্যাক্সটন ওভালের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জেতার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেও হেরে যাওয়ার জ্বালা। একই মাঠে কাল বছরের শেষ দিনে সিরিজের শেষ ওয়ানডে সেই জ্বালা জুড়ানোর উপলক্ষ হতে পারে। তবে সে জন্য যা করতে হবে, তা অনেক কঠিন।

আগের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসটা ভুলে মনে রাখতে হবে শুধু বোলিং সাফল্যের কথা। কারণ নিউজিল্যান্ডও ২৫১ রানে অলআউটের কথা ভুলে এবার স্যাক্সটন ওভালের ব্যাটিং স্বর্গের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে চাইবে। সেটা থেকে তাদের ঠেকানো না গেলে শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়ের সম্ভাবনাও দিগন্তে উঁকি দেবে না।

শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী মাশরাফি বিন মুর্তজা? মনের মধ্যে যা-ই থাকুক, অধিনায়ককে জয়ের কথা শোনাতেই হবে। দর্শক-সমর্থকদের আবেগের ব্যাকুল কান তো অপেক্ষায় থাকে আশার সুর শুনতে। মাশরাফির মুখেও সম্ভাবনার কথা, ‘শেষ ম্যাচে জয়টা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। একটি ম্যাচ জিততে পারলেও বড় কিছু হবে।’

কাজটা যে কঠিন, সেটাও আগে থেকে জানিয়েও রাখছেন অধিনায়ক, ‌‘সবাই আশা করছিল আগের ম্যাচটি আমরা জিতব। বিশেষ করে ম্যাচের মাঝবিরতি পর্যন্তও ছেলেরাও ভাবেনি হারবে। ভালো একটা শুরুর পর যেভাবে হেরেছি আমরা, তাদের মনে সেই চিন্তাটা থাকতেও পারে। কাজটা তাই কঠিন হবে।’

ওয়ানডে সিরিজ কাল শেষ হয়ে গেলেও সফরের এখনো অনেক বাকি। ওয়ানডে সিরিজের পর নেপিয়ার ও মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে দুটি টেস্ট। সফরের বাকিটুকুর জন্য সঞ্জীবনী হতে পারে শেষ ওয়ানডের ভালো পারফরম্যান্স।

মাশরাফি সে কারণেই আশা ছাড়তে রাজি নন, ‘এত দিন পর বিদেশ সফরে এসে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে জয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাটাকেও ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত। পরের ম্যাচটিতেও যদি আমরা জয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি, যদি জিততে পারি, তাহলে সেটিও বড় পাওয়া হবে। চেষ্টা করব সবাইকে গুছিয়ে আবার যেন স্বস্তির আবহে ম্যাচ খেলতে পারি।’

ইংরেজি নববর্ষ উদ্‌যাপনে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনের খ্যাতি পৃথিবীময়। নেলসনও কম যায় না। বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঝুলছে বক্সিং ডে আর নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা। ট্রাফলগার স্ট্রিটে নিউ ইয়ার পার্টির প্রস্তুতিও সম্পন্ন।

টিম হোটেলের খুব কাছে শহরের এই প্রাণকেন্দ্র। আজ সান্ত্বনার একটা জয়ই পারে ক্রিকেটারদের বর্ষবিদায় আর বর্ষ শুরুর ক্ষণটাকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে। বাংলাদেশরও।-প্রথম আলো

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close