ব্রেকিং:
Home » খেলা » হোয়াইটওয়াশের ময়নাতদন্ত

হোয়াইটওয়াশের ময়নাতদন্ত

উদয় সিনা: সিনেমা হলের পাশে প্রায় সময়ই সারি বেধে সাইকেল রাখার দৃশ্য দেখা যায়। হঠাৎ কোন এক কোণা থেকে একটি সাইকেল হেলে পড়লে সবগুলো সাইকেলই মাটিতে পড়ে যায়। সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপের অবস্থাও সেরকমই হয়েছে।

প্রতিটি ম্যাচেই তাশের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে  বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ। ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল অব্যাহত ছিল প্রতিটি ম্যাচেই। ফলাফল নিউজিল্যান্ডকে সর্বশেষ দুটো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াটওয়াশ করা বাংলাদেশকে এবার হোয়াইটওয়াশ ফিরিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন যে বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি ভিন্ন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সিরিজ শুরুর আগে বরাবরের মতই বিরূপ কন্ডিশনে গিয়ে বাংলাদেশের ভালো ফল করা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কারণ এর আগে তাদের মাটিতে খেলা দুটি ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ড মোটেও ভালো ছিল না।

প্রতিটি সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল খেলোয়াড়দের। তবে এবারের সিরিজটি নিয়ে প্রত্যাশা আগের দুইবারের চেয়ে অনেকাংশে বেশি ছিল। ২০১৫ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো করার রেকর্ডের পাশাপাশি ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে খুব ভালো খেলার স্মৃতি দোল দিচ্ছিলো প্রত্যাশার পালে। আশাও ছিল ভালো করার, সুযোগও ছিল গত দুইবারের চেয়ে অনেক বেশি।

কারণ, নিউজিল্যান্ডে সাধারণত পেস ও বাউন্সি যে উইকেটগুলো দেখা যেত সেই উইকেটগুলোতে এবার খেলতে হয়নি বাংলাদেশের। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজে ঘাসের উইকেট তৈরি করা নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশের বিপক্ষেও সেরকম উইকেট তৈরি করার সম্ভাবনা আচ করা গেলেও পরবর্তীতে তা হয়নি। বলা বাহুল্য সেরকম উইকেটে খেলা হলে আমাদের ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতো।

বাংলাদেশ বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা চালিয়েছে নিউজিল্যান্ডের কিউরেটররা। সে হিসেবে বাংলাদেশ


যে নিজেদের পরিচিত উইকেটেই খেলেছে তা বলা যায়। এই সুযোগটি লুফে নিয়ে সিরিজে ভালো ফলাফল করার দারুণ হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু স্পোর্টিং উইকেটেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। চেনা উইকেটেও তাদের পরিচিত বা স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ের ছিটেফোঁটাও দেখাা যায় নি পুরো ওয়ানডে সিরিজজুড়ে।

নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে পুরো ওয়ানডে সিরিজজুড়েই ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ। প্রতি ম্যাচেই ব্যাটিং ও ফিল্ডিং বিভাগে খেলোয়াড়েরা ছিলেন নিষ্প্রভ। তিনটি ম্যাচের মোস্টমর্টেম করালে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয় দলের  ব্যাটসম্যান ও ফিল্ডারদের। ব্যাটিং ব্যর্থতায় সামিল ছিলেন দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা।

মনঃস্থিরতার অভাব ও শট সিলেকশনে যথেষ্ট ভুল দেখা যায় ব্যাটসম্যানদের। থিতু হয়েও প্রতিপক্ষকে উইকেট বিলিয়ে দেয়ার দৃশ্যও দেখা যায় তামিম, কায়েসদের মত ব্যাটসম্যানদের। তাছাড়া ব্যাট হাতে পুরো সিরিজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ ছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিন ম্যাচের কোনটিতেই স্পর্শ করতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। প্রথম ম্যাচ হেরে দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজে সমতা আনাার সুযোগটি হারাতে হয় ব্যাটসম্যানদের জন্যই।

২৫২ রানের টার্গেটে হঠাৎ ডাউন দ্য উইকেটে এসে তামিমের ক্যাচ তুলে দেয়া, সাব্বিরের রান আউট, সেট হয়েও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কায়েসের আউট আর মিডল অর্ডারে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তাই ম্যাচের পাশাপাশি সিরিজটিও খুয়াতে হয় বাংলাদেশের।

আর শেষ ম্যাচেও দেখা যায় একই চিত্র। ১০২ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের পরও দ্বিতীয় ম্যাচের মত হঠাৎ করে ধ্বস নামে ব্যাটিং লাইন আপে। যে কারণে একসময়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ তে। পরে নুরুল হাসানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২৩৬ রান করে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও এ সিরিজে ক্যাচ মিসের পাশাপাশি গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতা দেখা যায়  বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস করে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সাথে মিস হয় গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও। দ্বিতীয় ম্যাচে তেমন কোন মিস না হলেও তৃতীয় ম্যাচে আবারো দেখা যায় ক্যাচ মিসের দৃশ্য।

এ ম্যাচে মাত্র ২৩৬ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছিল বোলাররা। প্রথমদিকে লাথামের উইকেট তুলে নেয়ার পাশাপাশি আটশাট বোলিংয়ে সুযোগ এসেছিল আরেকটি। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে স্লিপে নেইল ব্রুমের ক্যাচ ছেড়ে সে সুযোগ হাতছাড়া করেন কায়েস।

আর এই সুযোগ লুফে নিয়ে ব্রুম খেলে ফেলেন ৯৭ রানের একটি ইনিংস। এদিক থেকে এই সিরিজে তাকে ভাগ্যবানও বলা চলে কারণ প্রথম ম্যাচেও তাঁর একটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

সিরিজে বোলাররা যে একেবারে খুব ভালো বোলিং করেছে এমনটি নয়। প্রথম ম্যাচে বাজে ফিল্ডিংয়ের সাথে বোলারদের নির্বিষ বোলিংয়ে ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

কারণ, নিউজিল্যান্ড ৩৪১ করার পরও জেতার আর সুযোগ কিভাবে থাকে বাংলাদেশের! কিন্তু পরের ম্যাচে বোলাররা দারুণভাবে কাম ব্যাক করে। আসলে প্রথম ম্যাচটি বাদ দিলে বাকি দুই ম্যাচে মাশরাফি, তাসকিন, সাকিব, মুস্তাফিজ, শুভাশিসদের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করে বিদেশের মাটিতেও নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যর রানে ফেরা, মুস্তাফিজের ইঞ্জুরি থেকে ফেরা, গত দুবছরের সাফল্য ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে চেনা উইকেটে খেলার বিষয়গুলো এ সফরে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনার পালে হাওয়া দিয়েছিল।

কিন্তু, দিনশেষে ক্রিকেটটা তো মাঠের খেলা। মাঠে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগে ভালো করা দলই ম্যাচ জিতবে যেটা স্বাভাবিক। আর মাঠে এই তিন বিভাগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে সিরিজে তাদের ভালো ফলাফল করার আশা।-খেলাধুলা

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close